মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬ ।। ২৯ আষাঢ় ১৪৩৩ ।। ২৯ মহর্‌রম ১৪৪৮

শিরোনাম :
দুর্নীতি ও অদক্ষতার কারণেই প্রধান শহরগুলো ডুবছে: পীর সাহেব চরমোনাই উচ্চারণ ও উপস্থাপনা কোর্সে ১০০ জন মাদরাসা শিক্ষার্থী পাবেন বিশেষ স্কলারশিপ মসজিদে নববিতে বিশেষ দারস দেবেন শায়খ আস-সুদাইস বন্যায় এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিতের আহ্বান আমিরে মজলিসের খুলনা বিভাগীয় কওমি মাদরাসা পরিষদের নেতৃত্বে মাওলানা মুশতাক ও নাসীরুল্লাহ বন্যার পানিতে ডুবে পটিয়া মাদরাসার শিক্ষার্থীর মৃত্যু মডেল মসজিদ প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ তদন্তের নির্দেশ বাংলাদেশি হাজিদের খরচ কমাতে সৌদি আরবের সহযোগিতা কামনা জলাবদ্ধতা ও স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণে ছুটি বাড়ল জামেয়া দারুল মাআরিফের ডেঙ্গুতে আরও ২ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ৩২৭

ভারতে এখনো ‘গরু-ছাগলের মতো’ বিক্রি হয় দাসবধূ

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

india_wifeআওয়ার ইসলাম: ভারতে হাজার হাজার বালিকা ও নারীকে বিয়ের জন্য ‘গরু-ছাগলের মতো’ বিক্রি করা হচ্ছে। বিক্রির পর ওই দাসবধূদের সহ্য করতে হচ্ছে অমানসিক নির্যাতন। আল জাজিরার এক তথ্যচিত্রে নারী নির্যাতনের এমন ভয়াবহ চিত্র  উঠে এসেছে।

যেমন হরিয়ানার মোখলেসা। প্রথমবারের মতো যখন তাকে বিক্রি করা হয়, তখন তার বয়স ছিল ১২ বছর। আর তার ক্রেতা ছিলেন ৭০ বছরের এক বৃদ্ধ।

দ্রুত বিয়ে হয়ে যাওয়ার তিন বছর পর সেই বৃদ্ধ মারা যান। এরপর আবার মোখলেসাকে বিক্রি করা হয়।

এবার তাকে সহ্য করতে হয় অমানবিক নির্যাতন। মোখলেসা বলেন, ‘তিনি (ক্রেতা ব্যক্তি) আমাকে খেতে দিতেন না। শুধু তাই নয়, তিনি আমাকে মাঠে নিয়ে মুখে কাঁদা গুঁজে দিয়ে মারধর করতেন।’

ভারতের হাজার হাজার দাসীর মধ্যে মোখলেসা একজন। এমন অনেক বালিকা এবং নারীকে বিয়ের জন্য বিক্রি করা হয়। যাদের নির্মম অত্যাচার ও নির্যাতন সহ্য করতে হয়।

এক জরিপে দেখা যাচ্ছে, ভারতের উত্তরাঞ্চলের রাজ্যে ১০ হাজার গৃহবধূ পাওয়া গেছে যাদের মধ্যে ৯ হাজার বিবাহিত নারী অন্য রাজ্য থেকে সেখানে এসেছে।

আল জাজিরার দেওয়া তথ্য মতে, হরিয়ানার একটি গ্রামে বসবাসকারী নারীরা তিনবারের বেশি বিক্রি হয়েছেন। গ্রামের মানুষরা তাদের ডাকে ‘পারোস’ বলে। ওই নারীদেরকে ক্রয়ের পরই এই অবমাননাকর শব্দটি ব্যবহার করা হয়।

তাঁদের মধ্যে একজন ছিলেন সানজিদা। যিনি ১০ বছর বয়সে হরিয়ানায় পাচার হয়েছিলেন।

তিনি বলেন, ‘আমাকে মাঠের কাজ, ঘাস কাটা এবং গরুকে খাওয়ানোসহ সব কাজই করতে হয়। আমি এই জীবন শেষ করতে বা এখান থেকে পালাতে পারছিলাম না। এখানে কোনো ব্যক্তি ছিল না যাকে আমি সাহায্যের জন্য বলব।’ তিনি আরো জানান, তাঁর স্বামী সর্বদা তাঁকে হুমকিতে রাখতেন।

কিন্তু ভারতে অন্য বিবাহিত নারিদের থেকে সানজিদা অনেক ভাগ্যবান। কেননা তিনি এখন ভারতে নারীদের সাহায্যকারী একটি এনজিওতে কাজ করছেন।

এই সানজিদা এখন মোখলেসাকে সাহায্য করছেন। যিনি বিক্রি হয়েছিলেন ১২ বছর বয়সে। তাঁকে স্বামীর নির্যাতন থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।

মোখলেসা এখন একটি নিরাপদ বাড়িতে থাকছেন। সঙ্গে তার ১৮ মাসের একটি কন্যা আছে।

ভারত সরকার অবশ্য পাচারবিরোধী একটি আইনের খসড়া তৈরি করছে। তবে সংশ্লিষ্ট কর্মীরা বলছেন, নারীদের বিক্রি ঠেকানোর জন্য এটা যথেষ্ট নয়।

ভারতের পপুলেশন ফাউন্ডেশনের কার্যনির্বাহী পরিচালক পোনাম মুখার্জি বলেন, ‘নববধূদের এই বাণিজ্য নারীদের সম্মান নষ্ট করছে। এর মধ্যে দিয়ে সাংস্কৃতিক অভাবের বিষয়টি উঠে আসছে।’

আরআর


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ