সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬ ।। ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩ ।। ১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

শিরোনাম :
১৩ মাসে হাফেজ হলো ১০ বছরের নাঈম নিকাব নিয়ে কটূক্তি: ঢাবির সেই শিক্ষিকাকে ‘লাল কার্ড’ দেখালেন শিক্ষার্থীরা আলোর পথের যাত্রী  সিলেট সিটিতে মেয়র প্রার্থী ঘোষণা করল বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস বিএনপি-জামায়াত আমলে আলিয়া মাদরাসা বাড়ে ১৫৪১টি, আ.লীগ আমলে কমেছে ১৭৯টি আলী মিয়াঁ নদভীকে নিয়ে বই লিখে দিল্লি উর্দু একাডেমির পুরস্কার লাভ রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলায় হেফাজতের শোক, ক্ষতিপূরণ ও বিনামূল্যে চিকিৎসার দাবি রিয়াদ বিমানবন্দরে হুতি হামলার নিন্দা পাকিস্তানসহ ৪ দেশের  বিশ্বজয়ী হাফেজ হিরাকে শুভেচ্ছা জানালেন মাওলানা খালেদ সাইফুল্লাহ আইয়ুবী ২০২৭ সালে পাঁচ ধাপে ইউপি নির্বাচন, তারিখ চূড়ান্ত

আল হাইয়াতুল উলইয়া ও কিছু কথা

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

জুনাইদ কিয়ামপুরী
শিক্ষক ও কলামিস্ট

আলহাইয়াতুল উলইয়ার অধীনে কওমি মাদরাসার মাস্টার্স ক্লাসের পরীক্ষা চলছে। দু'দিন অতিক্রান্ত হয়েছে। কওমি মাদরাসার চিরায়ত ঐতিহ্য বহাল রেখে নকলমুক্ত পরিবেশেই পরীক্ষা চলছে। সরকারের পক্ষ থেকে মোটামুটি একটা সমীক্ষাও চলছে।

অভিন্ন প্রশ্নপত্রে সারা বাংলাদেশে চলমান দাওরায়ে হাদিসের এই পরীক্ষা আমাদের দেশের শিক্ষামন্ত্রণালয়ের কাছে, জেনারেল শিক্ষাসংশ্লিষ্ট পরীক্ষানিয়ন্ত্রক বিভাগগুলোর জন্য একটা রোল মডেল হতে পারে। হতে পারে শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ উদাহরণ।

যেখানে অর্থের কাছে নৈতিকতার পরাজয় নেই, প্রশ্নফাঁসের হিড়িক নেই, নেই নকলের ছড়াছড়ি।

অথচ এখানেও কম্পিটিশন আছে।আছে সামনে এগিয়ে যাবার প্রচণ্ড ঈর্ষা-ঈর্ষী। তবে তা নীরব।

পরীক্ষা তো চলছে, তবে স্বীকৃতির কাজ কতোটা এগিয়ে যাচ্ছে, সে প্রশ্ন থেকেই যায়। যে স্বীকৃতির জন্য এত আয়োজন, সেই স্বীকৃতি তো এখনো কাগজে -কলমে আর প্রজ্ঞাপনে শোভা পাচ্ছে। যার বিয়ে তার খবর নেই, পাড়া-প্রতিবেশীর ঘুম নেই’ এই অবস্থা যেনো না হয়, এ-দিকটাও লক্ষ রাখার দরকার।

আলহাইয়াতুল উলইয়ার পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে উলামায়ে কেরাম একই প্লাটফরমে এসে দাঁড়িয়েছেন, তা আমাদের জন্য দারুণ আনন্দের। এটা স্বীকৃতির অবদান কি না? বলতে পারছি না। তবে স্বীকৃতি কার্যকর হোক কিংবা না হোক, এই ঐক্য যেনো অটুট থাকে এই কামনা।

আমরা চাই, আল হাইয়াতুল উলইয়ার জন্য ঢাকায় একটা বৃহৎ হেড অফিস এবং ছয়টি বোর্ড হিসেবে ছয়টি জেলায় আরো স্বতন্ত্র ছয়টি জেলা অফিস। তাহলে বোর্ডের কমিউনিকেশন, প্রভাব আরো বাড়বে।

আমরা জানি, উত্তরপত্র নিরীক্ষণে স্বচ্ছতা ও সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করলে ফলাফল প্রশ্নবিদ্ধ হয় না। হজরত উলামায়ে কেরাম এ-ব্যাপারে আরো বেশি অবগত। এ-ব্যাপারে আমাদের কোনো কথা নেই। আমাদের কথা হচ্ছে ফলাফল ঘোষণার ক্ষেত্রে।

আমাদের প্রস্তাব হচ্ছে, ফলাফল ঘোষণায় নতুনত্ব অবলম্বন করা হোক। কওমি কমিশনের নিজস্ব ওয়েবসাইটে তো ফলাফল থাকবেই। কেউ চাইলে মোবাইল ম্যাসেজের মাধ্যমেও যাতে নিজের ফলাফল জেনে নিতে পারে, সেই ব্যবস্থাও চালু করা হোক। অধিকন্তু জাতীয় দৈনিকে পুরো ফলাফল প্রকাশের ব্যবস্থা করা হোক।

এতে লক্ষ লক্ষ তরুণের আশা ভরসার প্রতীক আলহাইয়াতুল উলইয়ার গুরুত্ব বাড়বে বৈ কমবে না।

যুগের যা কিছু বৈধ,  সুন্দর,উ ন্নত এবং কল্যাণকর, আমাদের উলামায়ে কেরাম সেটা আমাদের জন্য গ্রহণ করে একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মুকাবিলায় এই প্রজন্মকে প্রস্তুত করে তুলবেন বলে আমরা আশাবাদী। আল্লাহ তায়ালা তৌফিক দান করুন।

কেমন হচ্ছে দাওরা পরীক্ষা, বিশিষ্টজনদের মতামত


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ