বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬ ।। ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩ ।। ৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮


জয়নুলরা খুন হয় তুচ্ছ কারণে

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

রকিব মুহাম্মদ
সাংবাদিক

যতদূর জানতে পেরেছি, একজন দীনদার মানুষ ছিলেন তিনি। একটু উন্নত জীবনের আশায় দেশ ছেড়ে পাড়ি জমান প্রবাসে। স্ত্রী ও সাত সন্তানকে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ডেট্রয়েটে থাকতেন। পরিবারের ভরণ-পোষণ আদায়ের জন্য ট্যাক্সি চালাতেন তিনি।

বিগত শুক্রবার (স্থানীয় সময়) দিনগত রাত সোয়া ১টার দিকে ভাড়াজনিত বিবাদকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগানের ডেট্রয়েটে জয়নুল ইসলাম নামের এক বাংলাদেশি ট্যাক্সিচালককে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে।

গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে,  রাতে ট্যাক্সি চালাচ্ছিল জয়নুল। এ সময় এক যাত্রী তাকে ট্যাক্সির ভাড়া দিতে অস্বীকৃতি জানায়। ওই যাত্রীর সঙ্গে জয়নুলের কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে জয়নুলকে গুলি করা হয়।

গুলিবিদ্ধ জয়নুল চলন্ত গাড়ির নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। এরপর গাড়িটি গাছের সঙ্গে ধাক্কা খায় এবং ঘটনাস্থলে তার মৃত্যু হয়। অতিতুচ্ছ একটি ঘটনার জেরে জয়নুল মারা গেল।

পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে জয়নুলের স্বজনরা দিশেহারা হয়ে পড়েছে। জয়নুল একজন ভালো, পরিশ্রমী ও ধার্মিক মানুষ ছিলেন।তাঁর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছে স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়। পাঁচ হাজারেরও বেশি মানুষ তার জানাজায় অংশ নেন।

এ হত্যাকাণ্ডের তদন্তে এখনও খুব একটা অগ্রগতি হয়নি। কতদূর কী তদন্ত হবে সেটাও আপেক্ষিক একটি বিষয়। প্রতিবছর হাজারো প্রবাসী বিদেশের মাটিতে প্রাণ হারাচ্ছেন। আমরা গণমাধ্যমের বরাতে অল্পবিস্তর জানতে পারলেও অনেক খবর অজানা থেকে যায়।

আমার সেজখালুকে মধ্যপ্রাচ্যের একটি দেশে গুলি করে হত্যা করা হয়। তাঁর নামও জয়নুল। খালুর মৃত্যুর কারণ হিসেবে আমার খালাকে জানানো হয়, মালিকপক্ষের লোকদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করেছিল, তাই তারা গুলি করে মেরে ফেলেছে তাঁকে। এরকম তুচ্ছ একটি কারণে মেরে ফেলা হয় তাঁকে! ভাবতেও অবাক লাগে!

খালুর মৃত্যুর পর কফিনে তাঁর লাশ পাঠিয়ে দেওয়া হয় দেশে। সেই কফিনটা এখনও খালার বাসায় যত্ম করে তুলে রেখেছেন তিনি। কিন্তু পরিবারের একমাত্র উপার্জনের ব্যক্তির অকাল মৃত্যুতে তার জীবনে অন্ধকার নেমে আসে। খালুর মৃত্যুর পর চার মেয়েকে নিয়ে দুর্বিষহ জীবনযাপন করছেন আমার খালা।

একটি তথ্য দেই, সরকারি পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে কয়েক বছরের বিদেশে কর্মরত শ্রমিকদের মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে। সরকারি হিসেবেই ২০১৩ সালে ৩০৭৫ জন বিদেশে কর্মরত শ্রমিক মারা গেছে। এদের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ সৌদি আরবে। এছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং মালয়েশিয়াতেও অনেক কর্মরত শ্রমিক মারা গেছে। (বিবিসি)

বিভিন্ন স্বাস্থ্যগত সমস্যা ছাড়াও অনেকে মারা যাচ্ছেন সড়ক দূর্ঘটনা কিংবা অগ্নিকান্ডে। আবার হত্যা করে মেরে ফেলার ঘটনাও কম না। যা বলছিলাম, বিদেশের মাটিতে বেশিরভাগ হত্যাকাণ্ডের সঠিক তদন্