সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬ ।। ৩ কার্তিক ১৪৩৩ ।। ৮ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

শিরোনাম :
সুন্দর দেশ গড়তে যার যার অবস্থান থেকে কাজ করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর মুসলিম রেনেসাঁর কবি ফররুখ আহমদের চলে যাওয়ার ৫২ বছর আজ উত্তর প্রদেশে মুসলিম সাংবাদিককে পিটিয়ে হত্যা শাহজালালে ১১৮ ফ্লাইট বাতিল, দুর্ভোগে ১৮ হাজারের বেশি যাত্রী  আঞ্জুমানে হেফাজতে ইসলামের ইসলাহী ইজতেমা ৩০ অক্টোবর মুফতি নাসরুল্লাহ বদরের এতিম সন্তানদের পাশে আস-সুন্নাহ, দিলো বড় অনুদান সচিবালয় স্থানান্তরের প্রস্তাব অনুমোদন দিল মন্ত্রিসভা  ঢাকাই মসলিনের গবেষণায় সর্বোচ্চ সহায়তা দেবে সরকার: প্রতিমন্ত্রী পাঠ্যবইয়ে প্রাণীর ছবি থাকলে শরিয়তের বিধান কী? সাভারে মহিলা মাদরাসায় হামলা, আতঙ্কে ছাত্রী-অভিভাবক

নুসরাত হত্যা: নেপথ্যের প্রধান কাউন্সিলর মাকসুদ আলম

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

আওয়ার ইসলাম: ফেনীর নুসরাত হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের অন্যতম নায়ক, পরিকল্পনাকারী ও অর্থ লগ্নীকারী ছিলেন পৌর আওয়ামী লীগ নেতা ও কাউন্সিলর মাকসুদ আলম।

নুসরাত হত্যা মামলায় ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের দেওয়া ২১১ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায়ে এ তথ্য উঠে এসেছে। এ রায়ের কপি সম্প্রতি হাইকোর্টে এসেছে।

রায়ে বলা হয়েছে, ফেনীর সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল ডিগ্রী মাদরাসার অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ দৌলা মাদরাসাছাত্রী নুসরাতকে হত্যার নির্দেশদাতা হলেও ওই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের অন্যতম নায়ক, পরিকল্পনাকারী ও অর্থ লগ্নীকারী ছিলেন পৌর আওয়ামী লীগ নেতা ও কাউন্সিলর মাকসুদ আলম।

এছাড়া হত্যার পূর্ব পরিকল্পনার বিষয়টি আরেক আওয়ামী লীগ নেতা রুহুল আমিন জানলেও ওই ঘৃণ্য কাজ করা থেকে আসামিদের নিবৃত্ত না করে তাদের রক্ষায় সচেষ্ট ছিলেন। আসামি রুহুলের এই নেতিবাচক ভূমিকা নুসরাতকে আগুনে পুড়িয়ে মারার ঘটনায় সরাসরি অংশগ্রহণের শামিল মর্মে রায়ে বলা হয়েছে।

রায়ে বলা হয়, এটা নিশ্চিত যে সোনাগাজী থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি রুহুল আমিন ভিকটিম নুসরাতের গায়ে আগুন দেওয়া হবে এবং কারা দেবে সেটা ঘটনা সংঘটনের আগ থেকেই তিনি অবহিত ছিলেন। কিন্তু অবহিত থাকার পরেও অগ্নিসংযোগ প্রতিহত না করে অগ্নিসংযোগকারীদের গা ঢাকা দিতে পরামর্শ দেন।

এই আসামি ইচ্ছা করলে অবশ্যই অপরাপর আসামিদের নুসরাতের গায়ে আগুন লাগানো হতে নিবৃত্ত করতে পারতেন। কিন্তু তিনি তা করেননি। বরং তার সহযোগিতায় পরিচালিত সিরাজ-উদ দৌলা মুক্তি আন্দোলনের চূড়ান্ত পরিণতি হিসেবে যারা আগুন সন্ত্রাসে জড়িত ছিলেন তাদেরকে তিনি বদনামীর হাত থেকে রক্ষা করতে সচেষ্ট হন।

এছাড়া অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ দৌলা তার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে বলেছেন যে, মাকসুদ কাউন্সিলরকে অবহিত করেই তিনি শাহাদাত হোসেন শামীম ও নূরুদ্দিনকে নির্দেশ দিয়েছিলেন নুসরাতকে হত্যা করতে।

তারা আমার এই কথার সঙ্গে একমত প্রকাশ করে। এছাড়া মাকসুদ কাউন্সিলরের পরামর্শ মোতাবেক গত ৪ এপ্রিল গভীর রাতে হত্যা পরিকল্পনার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যা আসামি নূরুদ্দিনের জবানবন্দিতে উঠে আসে।

দোষ স্বীকারের জবানবন্দিতে সে বলে, শামীম ও আমি মাকসুদ কাউন্সিলরের সঙ্গে যোগাযোগ করি। তিনি হত্যার পরিকল্পনায় সায় দেন। শামীমকে দশ হাজার টাকাও দেন কাউন্সিলর।

গত ২৪ অক্টোবর চাঞ্চল্যকর এই হত্যা মামলায় সিরাজ, রুহুল, মাকসুদ, শামীম, নূরুদ্দিনসহ ১৬ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেয় ট্রাইব্যুনালের বিচারক মামুনুর রশিদ।

-এট