মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬ ।। ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩ ।। ২ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

শিরোনাম :
৯৫ শতাংশ মুসলিমের দেশ আজারবাইজানে হিজাব নিষিদ্ধের পাঁয়তারা! ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বাড়ানোর আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর নিউইয়র্কে ড. ইউনূসকে হেনস্তা, ব্যবস্থা নেবে সরকার মাওলানা নাসরুল্লাহ বদরের লাশ দ্রুত দেশে আনার দাবি জমিয়তের সাইবার আইনে সাংবাদিকদের ভয়ের কোনো কারণ নেই: আইনমন্ত্রী ‘অর্থনৈতিক সংস্কার ও সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশের পাশে থাকছে আইএমএফ’  নামাজে রাকাতসংখ্যা ভুলে গেলে করণীয় ‘দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা হতে হবে বিজ্ঞানভিত্তিক, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক’ ‘সৌ‌দির পরিস্থিতি ঠিক হলে ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়া‌ প্রবাসীদের নিয়ে আলোচনা’ পাকিস্তানে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহত ৬

মুক্তিযুদ্ধে পটিয়া মাদরাসা

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

শামসুল হক শারেক
সাংবাদিক ও গবেষক

বাংলাদেশে কওমি ধারার যে কয়টি বড় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আছে তার অন্যতম পটিয়া আল জামেয়া ইসলামিয়া। ১৯৭৬-৭৭ এবং ৭৭-৭৮ শিক্ষা বর্ষে দু’বছর পটিয়া মাদরাসার ক্যাম্পাসেই কেটেছে আমার। বিশাল এ দীনি প্রতিষ্ঠানের রয়েছে গৌরব উজ্জল ইতিহাস ঐতিহ্য। দেওবন্দ সিলসিলার প্রখ্যাত আলেমে মুফতি মরহুম মাওলানা আজিজুল হক রহ. এই মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা। হাটহাজারী বড় মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা মরহুম মাওলানা জমির উদ্দিন এবং দেওবন্দ মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা মরহুম মাওলানা কাসেম-এর নামে এই মাদরাসার নাম করণ করা হয় জমিরিয়া কাসেমুল উলুম। এখন অবশ্য আল জামেয়াতুল ইসলামিয়া নামে দেশে বিদেশে ব্যাপক খ্যাতি পেয়েছে এটি।

জানা গেছে, যেখানে মাদরাসাটি হয়েছে এটি ছিল কুসংস্কারপূর্ণ একটি এলাকা। মুফতি মাওলানা আজিজুল হক রহ. ইসলামী শরিয়ার প্রচারে ওখানে একটি দীনি প্রতিষ্ঠান করতে চাইলে এলাকাবাসী মানতে রাজি হয়নি। এ কারণে তারা এক সময় মাদরাসা পুড়িয়ে দেয়। অনেক ক্ষতি করে মাদরাসার। আহত হয় মাদরাসার অনেক ছাত্র শিক্ষক।

ফার্সি একটি কবিতার লাইন মনে পড়ছে- “আগর গিতি সরাসর বাদ গিরদ চেরাগে মুকবিলাঁ হারগিজ নমিরদ।” অর্থাৎ আল্লাহর কোন প্রিয় বান্দার প্রজ্বলিত আলো বা চেরাগ যত ঝড় তুফান আসুক নিভে না। তাই হয়েছে পটিয়ার এই মাদরাসার ব্যাপারেও। এটি আজ উপমহাদেশের অন্যতম বিখ্যাত দীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে।

দেশের শ্রেষ্ঠ মুফাসসির, ফকিহ, দার্শনিক ও ইসলামি শরিয়াহ বিশেষজ্ঞদের অনেকই এই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ছিলেন। উপমহাদেশের প্রখ্যাত আলেমে, মুফাসসির খতিবে আজম মরহুম আল্লামা ছিদ্দিক আহমদ রহ. এই মাদরাসায় তাফসির এবং হাদিসের দরস দিতেন। তিনি একই সাথে দেশে ইসলামি শরিয়াহ আইন বাস্তবায়নের জন্য রাজনৈতিক ময়দানে ও অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন।

দেশের আলেম ওলামা ও ইসলাম প্রিয় জনতাকে একই প্লাট ফরমে এনে ইসলাম প্রতিষ্ঠার আন্দোলন জোরদার করার নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে ছিলেন তিনি। নেজামে ইসলাম পার্টির প্রধান ছিলেন তিনি। ইসলামিক ডেমোক্রেটিক লীগ ‘আইডিএল’ প্রধানও ছিলেন তিনি। ১৯৫৪ খ্রিষ্টাব্দে নেজামে ইসলাম পার্টির স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে তিনি তৎকালীন পাকিস্তান গণপরিষদের সদস্য নির্বাচিত হয়ে যুক্তফ্রণ্টে যোগ দিয়েছিলেন।

বিভিন্ন সভা সমাবেশ এবং ওয়াজ মাহফিলে যাদুকরি বক্তৃতার জন্য তিনি খতীবে আজম খেতাব পেয়েছিলেন। বাংলা, আরবী, উর্দু-ফার্সি এবং ইংরেজি ভাষায় ও তিনি সমান পারদর্শী ছিলেন। অনেক বড় বড় মাহফিলে দেখেছি সর্বস্তরের মানুষ তন্ময় হয়ে তাঁর বক্তব্য শুনতà