কাউসার লাবীব।।
বর্তমান কওমি মাদরাসার ছাত্র ও শিক্ষকদের অবস্থা পর্যবেক্ষণে যুগের রাহবার, ফকিহুল উম্মাহ, অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি, শাইখুল হাদিস আল্লামা তাকি উসমানি হাফিজাহুল্লাহ লিখেছেন এ অমীয় কলাম। আশাকরি আওয়ার ইসলামের পাঠকবৃন্দ এ লেখা থেকে উপকৃত হবেন। বিশেষ করে কওমি মাদরাসা সংশ্লিষ্টব্যক্তিবর্গ এ লেখা থেকে ফায়দা হাসিল করতে ভুল করবেন না।
ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে কওমি মাদ্রাসা। ছাত্র উস্তাদের মধ্যে রুহানিয়াত নেই। শুধু ক্ষমতা আর প্রতি হিংসার আগুন জলছে শিক্ষক তলাবাদের মধ্যে। ‘অনেক চিন্তা ভাবনা করার পর যতোটুকু আমি বুঝতে পারলাম তা হল; কওমি মাদ্রাসার অধঃপতনের মূল কারণ হল ‘আস্তে আস্তে কওমি মাদ্রাসার শিক্ষা ব্যবস্থাটা গতানুগতিক একটি প্রথায় পরিণত হয়েছে। আর এর আসল উদ্দেশ্য আমরা ভুলে গিয়েছি।’
যদিও আমাদের মুখে এখনো এ কথাই শোনা যায় যে, ‘এই শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য হল ইসলাম ধর্মের খেদমত করা।’ তবে তিক্ত বাস্তবতা হল, এগুলো শুধু মুখেই বলা হয় অন্তরে থাকে অন্য কিছু। কেননা বাস্তবেই যদি আমাদের অন্তরে এই উদ্দেশ্য থাকত, তাহলে আমাদের সার্বক্ষণিক ব্যস্ততা এটাই থাকত। আকাবির ও আসলাফদের মত সর্বদা আমাদের মাথায় ঘুরত, আমাদের কোনো কাজে আল্লাহ তা'আলা অসন্তুষ্ট হচ্ছেন কিনা? আমাদের কাজে-কর্মে দ্বীনের কতটুকু খেদমত হচ্ছে? আমরা আমাদের মূল উদ্দেশ্যে কতটুকু সফল হয়েছি?
বরং উল্টো আমরা আমাদের সম্পূর্ণ মনোযোগ মাদ্রাসার বাহ্যিক উন্নতিতে লাগিয়েছি, যা আমাদের আসল উদ্দেশ্য নয়।বেশিরভাগ মাদ্রাসার পরিচালকরা সর্বদা এটাই চেষ্টা করেন যে, কিভাবে আমার মাদ্রাসাটা প্রসিদ্ধতা লাভ করবে? কিভাবে ছাত্রের সংখ্যা বাড়ানো যাবে? কিভাবে দেশের নামকরা শিক্ষকদের এখানে জমায়েত করা যাবে?
এক কথায় কিভাবে জনসাধারণের মাঝে মাদ্রাসা এবং মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির ভালোবাসা আর গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি পাবে? আর এগুলোর পিছনে আমাদের অক্লান্ত পরিশ্রম আর রাত-দিনের দৌড়ঝাঁপ দেখলে তো মনে হয়, এগুলোই আমাদের আসল উদ্দেশ্য। আবার এই উদ্দেশ্য পূরণ করার জন্য আমরা এমন পন্থাও অবলম্বন করি, যা একজন আলেমের জন্য কখনো সমিচীন নয়। বরং কখনো কখনো তো আমরা স্পষ্ট নাজায়েজ আর অবৈধ-পন্থা অবলম্বন করতেও দ্বিধাবোধ করি না।
অন্যদিকে যদি কোনো মাদ্রাসা মোটামুটিভাবে এগুলো অর্জন করে ফেলে, তাহলে মনে করা হয় আসল উদ্দেশ্য পূরণ হয়ে গেছে। অথচ আমাদের ছাত্রদের শিক্ষা, চারিত্রিক ও ধর্মীয় অবস্থা কেমন?