মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬ ।। ১১ কার্তিক ১৪৩৩ ।। ১৬ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

শিরোনাম :
গ্রিড বিপর্যয়ে ঢাকা-চট্টগ্রামের বিস্তীর্ণ এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ বিশ্ববাজারে তেলের দামে পতন, কমলো কত? জাপানের প্রধানমন্ত্রীর মধ্যাহ্নভোজে অংশ নিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির সুযোগ শেষ হচ্ছে আজ হাফেজ মাওলানা যুবায়ের আহমদ আনছারী রহ.: বর্ণাঢ্য জীবন, কর্ম ও সাধনা (পর্ব: ৪) জাপানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা ফলপ্রসূ হয়েছে : প্রধানমন্ত্রী যুদ্ধবিরতির পরও গাজায় গণহত্যা অব্যাহত: জাতিসংঘের তদন্ত কমিশন জাপানে আজ শীর্ষ বৈঠক, হতে পারে ৮ সমঝোতা সব সময় অজু অবস্থায় থাকা ব্যক্তিদের সুসংবাদ ট্রেনের টিকিট নিয়ে অভিযোগ পেলেই তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা : প্রতিমন্ত্রী

রোহিঙ্গাদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য না হওয়ায় বিশ্বব্যাংকের শরণার্থী নীতি প্রত্যাখ্যান

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

আওয়ার ইসলাম ডেস্ক: শরণার্থী নীতি সংস্কার নিয়ে বিশ্বব্যাংকের প্রস্তাবিত রূপরেখা মিয়ানমার থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া ‘বাস্তুচ্যুত’ রোহিঙ্গাদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য না হওয়ায় সরকার তা প্রত্যাখ্যান করেছে।

আজ সোমবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন এ বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে সাংবাদিকদের বলেন, বাংলাদেশের বিবেচনায় রোহিঙ্গারা ‘শরণার্থী’ না হওয়ায় তাদের ক্ষেত্রে প্রতিবেদনের বিষয়গুলো প্রযোজ্য নয়।

তিনি বলেন, “আমরা যে রোহিঙ্গাদের রেখেছি, তারা আমাদের সংজ্ঞাতে শরণার্থী না। তারা হচ্ছে নির্যাতিত ও বাস্তুচ্যুত জনগণ, আমরা কিছুদিনের জন্য তাদেরকে এখানে আশ্রয় দিয়েছি। আমাদের অগ্রাধিকার ইস্যু হচ্ছে তারা ফিরে যাবে।”

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন,“আমাদের প্রতিবেশী রাষ্ট্র মিয়ানমারও বলেছে, তাদেরকে নিয়ে যাবে। চার বছর হলো যায় নাই, তারা কিন্তু কখনো বলে নাই, নিবে না। সুতরাং, এরা সাময়িকভাবে আশ্রয় নেওয়া লোক। এখানে আমরা আশ্রয় দিয়েছি। তারা শরণার্থী না।”

শরণার্থীদের আশ্রয়দাতা দেশে অন্তর্ভুক্ত করাসহ একগুচ্ছ সংস্কার প্রস্তাবসহ ’রিফিউজি পলিসি রিফর্ম ফ্রেমওয়ার্ক’ নামে ১৬টি দেশের শরণার্থী ব্যবস্থাপনা নিয়ে একটি প্রতিবেদন তৈরি করেছে বিশ্বব্যাংক।

প্রতিষ্ঠানটির ঢাকা কার্যালয় থেকে ফ্রেমওয়ার্কের বিষয়ে মতামত চেয়ে জুনের ৩০ তারিখ অর্থমন্ত্রী বরাবর পাঠানো হয়।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রতিবেদনে জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন, কাজ করা, চলাফেরা, জমি কেনা, শিক্ষা, কর্মসংস্থান এবং ব্যবসা-বাণিজ্যে সম্পৃক্ত হওয়াসহ সব ধরনের আইনি অধিকার শরণার্থীদের দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

তিনি বলেন,“আমরা এই রিপোর্টটা- যেহেতু প্রথমত এরা (রোহিঙ্গারা) শরণার্থী না- আমরা পুরোপুরি রিজেক্ট করেছি।”

বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনের সাথে বাংলাদেশের ’চিন্তাভাবনার মোটেও মিল নাই’ মন্তব্য করে তিনি বলেন, “বিশ্ব ব্যাংক বলেছে, এদের সুন্দর ভবিষ্যতের জন্য রিইন্টিগ্রেট করতে হবে, সমাজের সঙ্গে। আমরা বলেছি, তাদের সুন্দর ভবিষ্যতের জন্য তাদেরকে তাদের দেশে ফেরত যেতে হবে। এটাই একমাত্র বিষয়। আপনারা সে ব্যাপারে কাজ করেন।”

রোহিঙ্গাদের নিয়ে আন্তর্জাতিক সংস্থা ও বিদেশি সরকারগুলো দীর্ঘমেয়াদী যেসব কর্মসূচি হাতে নিচ্ছে তাতে বাংলাদেশের সমর্থন নেই জানিয়ে তিনি বলেন, “আমরা মনে করি, এটা ক্ষণস্থায়ী বিষয়, ক্ষণস্থায়ী কর্মসূচি হাতে নিতে হবে। আমরা আমাদের বক্তব্য জানিয়েছি। বলেছি যে, আমরা ওগুলো গ্রহণ করি না। সেখানে কিছু অ্যাডজাস্টমেন্ট হবে। কিন্তু তারা আমাদের একটা চাপে রাখবে। এটা নিশ্চিত যে, আমাদের চাপে রাখবে। আমরা আউটরাইট বলেছি যে, এগুলো বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের জন্য প্রযোজ্য না।”

চাপ কেমন হতে পারে জানতে চাইলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “টাকাটুকা দিতে ঝামেলা করবে। তারা এমনিতে যা টাকা আমাদের এক পয়সাও দেয় না। এই যে রোহিঙ্গাদের জন্য বাংলাদেশের নামে যে টাকাটা আসে, আমরা এটার একটারও চেহারা দেখি না। এটা খরচ করে, আন্তর্জাতিক সংস্থা, ইউএনএইচসিআর সবাই এবং বিভিন্ন দেশ বাংলাদেশের নামে টাকা পাঠায়, কিন্তু এগুলো বরাদ্দ করে রোহিঙ্গাদেরকে। এগুলো বরাদ্দ করে তাদের এজেন্সিগুলোকে। এজেন্সিগুলো কীভাবে টাকাপয়সা খরচ করে, তারও হিসাব আমরা পাই না। আমরা জানি না, কীভাবে তারা খরচ করে। সুতরাং এগুলো আমাদের বিষয় না।”

নাকচ করার পরও বিশ্ব ব্যাংকের সাথে সমঝোতা হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, “যেগুলো আমরা অপছন্দ করছি, সেগুলো বাদ দিয়ে একটা মতৈক্যের ব্যবস্থা করছি। বাই এন্ড লার্জ উনাদের বড় বড় কথাগুলো আমরা সব বাদ দিব। আমাদের যে দর্শন, (রোহিঙ্গারা) ক্ষণস্থায়ী, সে অনুযায়ী রাজি হলে…”।

এ বিষয়ে বিশ্বব্যাংকের এক বিবৃতিতে বলা হয়, এটি বৈশ্বিক প্রতিবেদন, সুনির্দিষ্ট কোনো দেশের জন্য নয়।

সংস্থাটির বাংলাদেশ ও ভুটানের কান্ট্রি ডিরেক্টর মার্সি টেম্বন বলেন, বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর নিরাপদে ও স্বেচ্ছায় মিয়ানমারে প্রত্যাবর্তন পর্যন্ত তাদের চাহিদা পূরণ এবং আশ্রয়দাতা জনগোষ্ঠীর উপর এর প্রভাব মোকাবিলায় বিশ্ব ব্যাংক ৫৯ কোটি ডলারের অনুদান সহায়তা দিয়ে বাংলাদেশ সাহায্য করছে।

তিনি বলেন,“প্রস্তাবিত রিফিউজি পলিসি রিফর্ম ফ্রেমওয়ার্কের লক্ষ্য হলো- পরিস্থিতির সর্বোত্তম ব্যবস্থাপনার জন্য সংশ্লিষ্ট নীতিমালা ও প্রতিষ্ঠানসমূহকে জোরদারে বিশ্বজুড়ে শরণার্থীদের আশ্রয়দাতা দেশগুলো যে প্রচেষ্টা চালাচ্ছে, তাতে বিশ্ব ব্যাংকের সহায়তার কার্যকারিতার মূল্যায়ন করা।”

-এটি


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ