সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬ ।। ১০ কার্তিক ১৪৩৩ ।। ১৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮


গীবত ও তুহমত

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

মুহাম্মদ আবদুল হামিদ।।

গীবত কি?
‘গীবত’ আরবী শব্দ। এর অর্থ: পরনিন্দা, অপরের দোষ বর্ণনা করা। অর্থাৎ একজনের দোষ অন্যজনের কাছে প্রকাশ করা, বর্ণনা করা। গীবত হলো কোন মানুষের এমন আচরণ তার অগোচরে বর্ণনা করা, যা সে খারাপ জানে। হযরত আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, প্রিয়নবী সা. বলেছেন, তোমরা কি জানো- গীবত কি? সাহাবায়ে কেরাম বললেন, আল্লাহ ও তাঁর রাসুল ভালো জানেন।

এরপর রাসুলুল্লাহ সা. বললেন, তোমার ভাই সম্পর্কে এমন আলোচনা করা, যা শুনলে সে দুঃখিত হবে। একজন সাহাবি বললেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আপনি কি মনে করেন যে, আমি যা বলছি, তা যদি তার মধ্যে থাকে? রাসুল সা. বললেন, তুমি যা বলছো, তা যদি তার মধ্যে থাকে, তাহলে তা হবে গীবত আর যদি না থাকে, তাহলে তা হবে তুহমত। [মুসলিম ২/৩২২]।

গীবতের বিভিন্ন ধরন রয়েছে। যেমন- কোন ব্যক্তির দৈহিক বা চারিত্রিক কিংবা আকার-আকৃতি বিষয়ক দোষ আলোচনা করা, বিদ্রুপাত্মক ভঙ্গিতে তার কর্মকান্ড তুলে ধরা ইত্যাদি।

তুহমত কি?
‘তুহমত’ অর্থ: কারো ওপর মিথ্যা অপবাদ দেওয়া, কুৎসা রটনা করা, বদনাম করা, কারও চারিত্রিক স্খলনের অভিযোগ করা, কামাচার ও ব্যভিচারের জন্য দোষারোপ করা ইত্যাদি। কোন ব্যক্তির এমন দোষ বর্ণনা করা বা অভিযোগ করা যে দোষ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির মধ্যে নেই। সাহাবায়ে কেরাম গীবত সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সা.-কে বললেন, হুজুর! যদি সত্যিই তার মধ্যে সে দোষ থাকে তাহলেও কি তা বলা গীবত হবে? রাসূল [সাঃ] বললেন, সত্য সমালোচনাই গীবত আর মিথ্যা হলে তা ‘তুহমত’ যা গীবত অপেক্ষা আরও ভয়ংকর।

গীবত ও অপবাদের ক্ষতিকর প্রভাব:
অপবাদ সত্যকে মিথ্যা এবং মিথ্যাকে সত্য হিসেবে তুলে ধরে। অপবাদ মানুষকে কোনো কারণ ছাড়াই অপরাধী হিসেবে বানায়। মানুষের সম্মান ও ব্যক্তিত্বকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। সুস্থ্য সামাজিক পরিবেশ বিনষ্ট করে। গীবত সাধারণত একটি হালকা এবং গুরুত্বহীন ব্যাপার মনে হয়। সমাজে মানুষের মান-ইজ্জত নিয়ে অহেতুক নাক গলানো একটি সহজ বিষয়ে পরিণত হয়েছে। আপনি লক্ষ্য করে থাকবেন, দুষ্ট লোকজন কীভাবে আপবাদ ও গীবতকে ব্যবহার করে ছোট-বড় সামাজিক দূর্ঘটনা ও কোন্দল সৃষ্টি করে। গীবত ও অপবাদ সমাজে ভাইরাসের মত ক্রিয়া করে। একটি সুস্থ্য সমাজ ব্যবস্থায় পঁচন ধরায়।

চর্বনকারীরা নিজের চরিত্র নিয়ে ভবে না; বরং অন্যের দোষ খোজতে ব্যস্ত থাকে। সভ্য, ভদ্র মানুষকে অন্যের কাছে সন্দেহের পাত্র বানায়। এমনকি অন্যের কাছ থেকে অশুভ তথ্য শোনার পর সৎ, ভদ্র, ভালো মানুষটিকে অন্যরা খারাপ মনে করে। এতে করে মানুষে মানুষে মারামারি হানাহানি শত্রুতা সৃষ্টি হয়। অন্যের প্রতি মায়া-মমতা, স্নেহ-ভালোবাসা অন্তর থেকে মুছে যায়। পারস্পরিক সুস¤পর্ক বিনষ্ট হয়। সামাজে অশান্তি ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। কোন মানুষই ভুলের উর্ধ্বে নয়। মানুষের ভূলগুলো তার অগোচরে অন্যের কাছে বলে বেড়ানো খুবই মন্দ স্বভাব। এর পরিণতি ভয়াবহ।

গীবতের ভয়াবহ পরিণতি:

গীবত করা কবীরাহ গুনাহ। হাদিস শরীফে বর্ণিত হয়েছে, ‘গীবত ব্যবিচারের চেয়েও মারাত্মক অপরাধ।’ আল্লাহপাক রাব্বুল আলামীন গীবত বা পরনিন্দাকে মারাত্মক ঘৃণিত কাজ বলে উল্লেখ কà¦