শনিবার, ০৩ জানুয়ারি ২০২৬ ।। ১৯ পৌষ ১৪৩২ ।। ১৪ রজব ১৪৪৭

শিরোনাম :
খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে কাতারের আমিরের শোক খুতবার প্রস্তুতিকালে মিম্বরেই ইমামের মৃত্যু বিশিষ্ট বক্তা কামরুল ইসলাম সাঈদ আনসারীর মনোনয়নপত্র বাতিল গুলশান আজাদ মসজিদে মায়ের দোয়া মাহফিলে তারেক রহমান নির্বাচনে সবার জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করতে হবে: সালাহউদ্দিন আহমদ আল্লাহ স্বাক্ষী, ১৪ মাসে এক কাপ চায়ের টাকাও দুর্নীতি করিনি: হাসনাত ‘ইসলামী ছাত্র আন্দোলনকে সাহাবাদের চরিত্র দৃঢ়ভাবে ধারণ করতে হবে’ ৭২ বছর ইমামতি, ‘শেষ খুতবা’র পর আবেগঘন বিদায় নিলেন মাওলানা আবদুল হক শহীদ হাদির নাম এখন আর বাংলাদেশের সীমানায় সীমাবদ্ধ নয়: নৌ উপদেষ্টা মুফতি আমির হামজার আয় কত, জানা গেল হলফনামায়

স্ত্রীর ভুল মাফ করে দেওয়ার কারণে পরকালে মুক্তি

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

মুযযাম্মিল হক উমায়ের

হজরত থানবী রাহিমাহুল্লাহু তায়ালা বলেন— একজন লোক ছিলো। একদিন তার স্ত্রী ভুলক্রমে তরকারীতে লবণ বেশি দিয়ে দেয়। হাতের মাপ তো, সঠিক পরিমান বুঝতে পারেনি। তার স্বামী যখন খেতে বসলো, দেখলো লবণ অনেক বেশি হয়ে গেছে। তখন তার স্বামী রাগ করার পরিবর্তে মনে মনে সে আল্লাহ তায়ালার সাথে বিষয়টি এভাবে তুলে ধরলেন— হে আল্লাহ তায়ালা! সে তো আপনার বান্দী।

বান্দী হিসেবে তার সাথে আপনার সম্পর্ক আছে। লবণ বেশি হওয়ার বিষয়টি পুরোপুরি হাতের মাপের উপর নির্ভর করে। এতে কমবেশি হতেই পারে। যদি আমার মেয়ের দ্বারা এই কাজ হতো, তাহলে তো আমি চাইতাম— তার স্বামী তাকে মাফ করে দেক। সুতরাং সেই হিসেবে আমিও তার স্বামী হিসাবে তাকে মাফ করে দিলাম।

হজরত থানবী রাহিমাহুল্লাহু তায়ালা বলেন— এই বলে সে তার স্ত্রীকে মাফ করে দিলো। কিছুই বলেনি। পরবর্তী ঘটনা হলো এই,
কিছুদিন পর এই লোকটি মারা যায়। একজন বুযুর্গ তাকে স্বপ্নে দেখলো। এবং তাকে জিজ্ঞাস করলো— আল্লাহ তায়ালা তোমার সাথে কেমন আচরণ করেছেন। উত্তরে সেই লোক বললো, “অবস্থা তো বড় ভয়াবহ হয়েছিলো। বড় বড় গুনাহ সমূহের মুকাদ্দমা সামনে চলে আসছিলো। আমি তো ভাবছিলাম এইবার আর রেহাই নেই।

বাঁচার কোন উপায় নেই। কিন্তু মহান রাব্বুল আলামীন আমাকে এক দিনের একটি ঘটনার কারণে মাফ করে দিয়েছেন। সেই ঘটনাটি হলো— আমার স্ত্রী একদিন ভুলে তরকারীতে লবণ বেশি দিয়ে দেয়। আমি সেদিন তাকে মাফ করে দিয়েছিলাম। আল্লাহ তায়ালা আমাকে সেইদিন তার এক বান্দীকে মাফ করে দেওয়ার কারণে, আজ মাফ করে দিয়েছেন।”

থানবী রাহিমাহুল্লাহু তায়ালা এই ঘটনা উল্লেখ করে বলেন— স্ত্রীর ভুলত্রুটির বিষয়টিকে আমরা নিজের মেয়ে যে অন্যের স্ত্রী আছে তার ভুলের সাথে তুলনা করলে, স্ত্রীকে মাফ করে দেওয়া আমাদের জন্যে সহজ হয়ে যাবে। যেমন, ১. আমাদের মেয়েরা যদি ভুল করে, তখন আমরা কী চাই? আমরা তো চাই— তার স্বামী তার ভুল মাফ করে দেক। ঠিক এই কথা মনে করে, নিজ স্ত্রীকেও মাফ করে দেওয়া।

২. মেয়েকে যখন তার স্বামী কষ্ট দেয়, তখন মেয়ের আরামের জন্যে তাবীজকবজ, ওজীফা আনার জন্যে আল্লাহওয়ালাদের দরবারে ঘুরাফেরা করি। ঠিক এই কথা মনে করে যে, সেও তো কারো না কারো মেয়ে তাই তাকে কষ্ট না দেওয়া। নিজের মেয়ের উপর যখন এসব কষ্ট চাপে, তখন তো তাবীজকবজ তালাশে ঘুরি, আর নিজের স্ত্রীর বেলায় দয়া আসে না— এ কেমন বিচার?

৩. এই কথা ভেবে স্ত্রীর উপর জুলুম না করা যে, তার বাবার বাড়ির এখানে কেউ নেই। সে একাই সব ছেড়ে আমার কাছে থাকে। যদি আমি তাকে কষ্ট দিই, তাহলে তার কান্নাকাটি আর আহ শব্দ আল্লাহ তায়ালার কাছে গৃহিত হয়ে যাবে। সেখান থেকে মাফ পাওয়া যাবে না। কারণ, কথা বলতে পারে না এমন প্রাণীকে কষ্ট দেওয়ার কারণে যদি যুগের একজন মুজাদ্দিদের অন্তরে ইলম আসা বন্ধ হয়ে যেতে পারে, তাহলে মানুষকে কষ্ট দিলে অবস্থা কতোটা ভয়াবহ হবে? [মূলসূত্র— ইলাজুল গাদব: পৃষ্ঠা: ১৮—১৯]

-এটি


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ