আওয়ার ইসলাম ডেস্ক: আমরা নিজেদেরকে সেই মহান পথ প্রদর্শকের অনুসারী বলে দাবী করি, যার নূরের কাছে সূর্যও ম্লান হয়ে যায়। যার হৃদয়-প্রদীপ এমন আলােয় বিভাসিত, যে আলোর কাছে মহান আরশের আলেও আলােহীন হয়ে পড়ে। যার জ্ঞান ও দৃষ্টি-ক্ষমতা এমনই প্রখর যে, মসজিদে নববীতে বসেই জান্নাত জাহান্নাম দেখতে পান।
আরশ পর্যন্ত যার স্বচ্ছ-দৃষ্টির অবাধ যাতায়াত। আমাদের মত যার দৃষ্টিশক্তি একমুখী নয়, যিনি সামনে পিছনে সমান দেখতে পান। আমরা নিজেদেরকে সেই মহান রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনুসারী বলে দাবী করি। কিন্তু নিজেদের জীবন-চলার জন্য এমন একটি পথ নির্মাণ করে নিয়েছি, যা তার আদর্শের সঙ্গে মােটেও সঙ্গতিপূর্ণ নয়।
আমরা মনে করি—অর্থ-সম্পদ উপার্জন, বিপুল অস্থাবর সম্পদের উপর অধিকার অর্জন, এবং নিত্যনতুন ও উন্নত টেকনােলজি অর্জন—এই বিষয়গুলােই মানুষের জীবনে সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যের নিশ্চয়তা বিধান করে। যদি তাই হবে, তাহলে উন্নত অর্থনীতি ও আধুনিক বিজ্ঞানের অন্যতম অধিকারী জাপানবাসীদের কাছে গিয়ে জিজ্ঞাসা করুন, তাদের মাঝে এমন ব্যাপক হারে আত্মহননের প্রবনতা কেন? কোন্ দুঃখে, তাদের ভাষায়, এই আরাম-আয়েশের জীবন ও মায়াময় পৃথিবী ত্যাগ করে তারা চলে যেতে চায়? ইউরােপবাসীদের কাছে গিয়ে দেখুন, তাদের চাকচিক্যময় জীবনের আড়ালে কী করুন হতাশা আর গ্লানী লুকিয়ে আছে।
আল্লাহকে হারিয়ে কেউ কি কখনো সঠিক গন্তব্যের সন্ধান পেয়েছে, না পেতে পারে? আর মহান রাবুবুল আলামীনের করুণী অর্জন করার পর কারাে জীবনে কোন অপ্রাপ্তি রয়েছে বলেও তাে কোন নজীর নেই। আসলে আল্লাহকে যে পায় নি, তার জীবনেই প্রাপ্তির ঘরটি শুধুই শূন্য। ইতিহাসের পাতা উল্টিয়ে এক এক করে প্রতিটি লাইন পড়ে দেখুন।
দেখুন তাে এমন কোন ব্যক্তির সন্ধান পাওয়া যায় কি না, আল্লাহ্ পাকের করুণ লাভ করার পরও যিনি ব্যর্থ হয়েছেন, কিংবা আল্লাহকে না পেয়েও যিনি জীবনে সফল হয়েছেন? আসলে সঠিক পথের দীশা পাবার জন্য প্রথমে সঠিক জ্ঞান অর্জন করুন।
তারপর অনুসরণের জন্য সঠিক পথপ্রদর্শক নির্বাচন করুন। এ জীবন-পথে চলার জন্য আমাদের সামনে রয়েছে দু'টি পথ। একটি পথের নির্মাতা হল দুনিয়ামুখী মানুষ। আরেকটি পথ অতুলনীয় দিশারী, ফখরে দু' আলম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপহার।
সে চলার পথà