
|
বিশ্ব প্রতিবন্ধী দিবস: শীতকালে প্রতিবন্ধীদের চ্যালেঞ্জ ও সমাধানের দিকনির্দেশনা
প্রকাশ:
০৩ ডিসেম্বর, ২০২৫, ০৭:১৫ বিকাল
নিউজ ডেস্ক |
||ডা. মুহাম্মাদ মাহতাব হোসাইন মাজেদ|| প্রতিবছর ৩ ডিসেম্বর বিশ্বব্যাপী পালিত হয় বিশ্ব প্রতিবন্ধী দিবস—একটি দিন যা প্রতিবন্ধী মানুষের অধিকার, মর্যাদা ও সমান সুযোগ নিশ্চিত করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে। এটি কেবল আনুষ্ঠানিকতা নয়; বরং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের বাস্তব জীবনের চ্যালেঞ্জ শনাক্ত করা ও তা সমাধানের জন্য সামাজিক ঐক্য গড়ে তোলার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ। বিশেষ করে শীতকাল যখন আমাদের দেশে নীরবে উপস্থিত হয়, তখন প্রতিটি প্রতিবন্ধীর জন্য পরিস্থিতি হয়ে ওঠে আরও কঠিন, কখনো কখনো ঝুঁকিপূর্ণও। শীত শুধু ঠাণ্ডার কাঁপুনিই নয়—এটি প্রতিবন্ধী মানুষের দৈনন্দিন জীবন, চলাফেরা, স্বাস্থ্যসেবা এবং মানসিক সুস্থতার ওপর বহুমাত্রিক চাপ সৃষ্টি করে। এই বাস্তবতা বিবেচনা করেই শীতকালে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের বিশেষ চাহিদা ও সমস্যাগুলো নিয়ে সচেতনতা তৈরি করা জরুরি। শারীরিক প্রতিবন্ধীদের শীতকালীন চ্যালেঞ্জ যারা হুইলচেয়ার, ক্রাচ বা অন্য সহায়ক যন্ত্র ব্যবহার করেন, শীতকাল তাদের জন্য এক কঠিন পরীক্ষা। ঠাণ্ডা আবহাওয়ায় মাংসপেশি শক্ত হয়ে যায়, ব্যথা বাড়ে এবং শরীরের তাপমাত্রা দ্রুত কমে যায়। মসশরীরের তাপমাত্রা দ্রুত নিয়ন্ত্রণে না থাকায় স্নায়ুজনিত প্রতিবন্ধীরা সহজেই শীতজনিত জটিলতায় আক্রান্ত হন। যাদের পা বা অপেক্ষাকৃত দূরবর্তী অঙ্গপ্রত্যঙ্গগুলোতে সংবেদনশীলতা কম, তারা বুঝতেই পারেন না কখন শরীরের অংশ জমে যাচ্ছে, ফলে হাইপোথার্মিয়া বা ঠাণ্ডাজনিত ক্ষতি ঘটে। দৃষ্টিহীনদের শীতের বাড়তি ঝুঁকি অন্ধ বা দৃষ্টিহীন ব্যক্তিদের জন্য শীতকাল বিশেষভাবে চ্যালেঞ্জিং। মানসিক স্বাস্থ্য: অদৃশ্য কিন্তু বড় সমস্যা শীত যতটা শারীরিকভাবে বিপজ্জনক, মানসিকভাবেও ততটা কঠিন। স্বাস্থ্যসেবা: শীতকালে সবচেয়ে কঠিন অংশ শীত বাড়লে গ্রামীণ অঞ্চলের স্বাস্থ্যসেবা প্রায় অচল হয়ে পড়ে। অর্থনৈতিক ও পুষ্টিগত চ্যালেঞ্জ শীতকালে অতিরিক্ত ক্যালোরির প্রয়োজন হয়—কিন্তু প্রতিবন্ধী পরিবারের অনেকেই নিম্নআয়ের হওয়ায়:গরম পোশাক,কম্বল,থার্মাল জুতা, হিটার,—এসব সহজে কিনতে পারেন না। ফলে শরীরে তাপমাত্রা ধরে রাখা কঠিন হয়। অপুষ্টি ও ঠাণ্ডা মিলে তাদের ইমিউন সিস্টেম দুর্বল হয়ে পড়ে, যা দ্রুত রোগ সংক্রমণ ঘটায়। শীতকালে প্রতিবন্ধী মানুষের প্রতি সামাজিক বৈষম্য কিছুটা বেশি প্রকট হয়। প্রযুক্তি ও সরঞ্জামের অভাব শীতপ্রতিরোধী সহায়ক যন্ত্রপাতি যেমন: হুইলচেয়ার কভার সমাধানের দিকনির্দেশনা শীতকালে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের নিরাপদ রাখতে সরকার, সমাজ ও পরিবার—সবাইকে সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে। ১. সরকারি উদ্যোগ পৌরসভা ও সিটি কর্পোরেশনকে রাস্তায় কাদা ও বরফ পরিষ্কার রাখতে হবে। ২. সামাজিক পদক্ষেপ প্রতিবন্ধীদের চলাচলে স্বেচ্ছাসেবীদের যুক্ত করা। ৩. পরিবারের ভূমিকা ঘর উষ্ণ রাখা, গরম পোশাক নিশ্চিত করা। ৪. প্রযুক্তির ব্যবহার পুনর্ব্যবহারযোগ্য হিটিং প্যাড পরিশেষে বলতে চাই বিশ্ব প্রতিবন্ধী দিবস আমাদের মনে করিয়ে দেয়—প্রতিবন্ধীরা আমাদের সমাজেরই অংশ, এবং তাদের নিরাপত্তা, স্বাচ্ছন্দ্য ও মর্যাদা রক্ষা করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। শীতকাল তাদের জন্য যে অসুবিধা সৃষ্টি করে, তা কমাতে আমাদের সচেতনতা, সহমর্মিতা ও কার্যকরী পদক্ষেপ একসাথে কাজ করতে পারে। যখন আমরা গরম কাপড় জড়িয়ে আরাম করি, তখন মনে রাখা উচিত—অনেক প্রতিবন্ধী মানুষ এখনো ঠাণ্ডার সঙ্গে লড়াই করছে। তাদের পাশে দাঁড়ানোই প্রকৃত মানবিকতা। একটি উষ্ণ, সমানাধিকারভিত্তিক ও নিরাপদ সমাজ গড়তে হলে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে—আজই, এখন লেখক: কলাম লেখক ও প্রবন্ধকার এলএইস/ |