সুতার মোজার ওপর মাসাহ—শরঈ বিধান কী বলছে?
প্রকাশ: ১৪ জানুয়ারী, ২০২৬, ০৯:৫৪ সকাল
নিউজ ডেস্ক

অজুর একটি গুরুত্বপূর্ণ মাসআলা হলো মোজার ওপর মাসাহ। আধুনিক সময়ে সুতার বা কাপড়ের মোজা ব্যবহারের ব্যাপকতা বেড়ে যাওয়ায় অনেকের মধ্যেই প্রশ্ন দেখা দিয়েছে—এসব মোজার ওপর মাসাহ করলে অজু শুদ্ধ হবে কি না। ফিকহে ইসলামের সুস্পষ্ট নির্দেশনা অনুযায়ী এ বিষয়ে পরিষ্কার বিধান রয়েছে।

কোন মোজার ওপর মাসাহ জায়েজ

হানাফি ফিকহ অনুযায়ী মূলত তিন ধরনের মোজার ওপর মাসাহ করা বৈধ—

  1. খুফফাইন: সম্পূর্ণ চামড়ার তৈরি মোজা।

  2. মুজাল্লাদাইন: উপরে ও নিচে—উভয় অংশে চামড়া যুক্ত মোজা।

  3. মুনাআলাইন: কেবল তলার অংশে চামড়া যুক্ত মোজা।

এছাড়া চামড়া ছাড়া হলেও কোনো মোজা যদি নির্দিষ্ট কিছু শর্ত পূরণ করে, তবে তাতেও মাসাহ করা জায়েজ হতে পারে।

জায়েজ হওয়ার শর্তসমূহ

ফুকাহায়ে কেরাম উল্লেখ করেছেন, মোজার ওপর মাসাহ সহীহ হওয়ার জন্য নিম্নের শর্তগুলো অবশ্যই থাকতে হবে—

  • মোজা এতটা মোটা হবে যে, তার ওপর পানি ঢাললে ভেতরে চুইয়ে পা পর্যন্ত পৌঁছাবে না।

  • জুতা ছাড়াই তা পরে কমপক্ষে তিন মাইল হাঁটা সম্ভব হবে এবং হাঁটতে গিয়ে ছিঁড়ে যাবে না।

  • কোনো দড়ি বা ইলাস্টিক ছাড়া নিজ শক্তিতেই পায়ের নলার ওপর দাঁড়িয়ে থাকবে

  • মোজা পাতলা বা স্বচ্ছ হবে না; উপর থেকে পা দেখা যাবে না।

প্রচলিত সুতার মোজার হুকুম

উপরোক্ত শর্তগুলোর আলোকে ফিকহবিদরা স্পষ্টভাবে বলেন—বর্তমানে প্রচলিত সাধারণ সুতার, কটন বা নাইলনের পাতলা মোজাগুলো সাধারণত এসব শর্ত পূরণ করে না। ফলে—

  • সাধারণ সুতার মোজার ওপর মাসাহ জায়েজ নয়

  • এ ধরনের মোজার ওপর মাসাহ করলে অজু শুদ্ধ হবে না

  • সেই অজু দিয়ে আদায় করা নামাজও শুদ্ধ হবে না

এ বিষয়ে চার মাযহাবের ইমামদের মধ্যেও মূলনীতিগতভাবে ঐক্যমত রয়েছে যে, পাতলা ও পানি প্রবেশযোগ্য মোজার ওপর মাসাহ গ্রহণযোগ্য নয়।

উপসংহার

সুতরাং শরঈ দৃষ্টিতে মাসাহ করতে হলে অবশ্যই খুফফাইন বা ফিকহে নির্ধারিত শর্তপূর্ণ মোজা ব্যবহার করতে হবে। কেবল সুবিধার জন্য বা প্রচলনের কারণে পাতলা সুতার মোজার ওপর মাসাহ করা শরীয়তসম্মত নয়। ইবাদতের সহীহতা নিশ্চিত করতে এ বিষয়ে সচেতন থাকা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য অপরিহার্য।


[فتاوی ہندیہ، کتاب الطہارۃ،الباب الخامس فی المسح علی الخفین،ج:1،ص:32،دارالفکر]

"(منها) أن يكون الخف مما يمكن قطع السفر به وتتابع المشي عليه ويستر الكعبين وستر ما فوقهما ليس بشرط. هكذا في المحيط حتى لو لبس خفا لا ساق له يجوز المسح إن كان الكعب مستورا.ويمسح على الجورب المجلد وهو الذي وضع الجلد على أعلاه وأسفله. هكذا في الكافي.

والمنعل وهو الذي وضع الجلد على أسفله كالنعل للقدم. هكذا في السراج الوهاج. والثخين الذي ليس مجلدا ولا منعلا بشرط أن يستمسك على الساق بلا ربط ولا يرى ما تحته وعليه الفتوى. كذا في النهر الفائق".
دارالافتاء : جامعہ علوم اسلامیہ علامہ محمد یوسف بنوری ٹاؤن، فتویٰ نمبر : 144407100194

[البحر الرائق، جـ ١، صـ ٢٨٨، زكريا بوك ديبو]

قَالَ أَبُو حَنِيفَةَ مَا قُلْت بِالْمَسْحِ حَتَّى جَاءَنِي فِيهِ مِثْلُ ضَوْءِ النَّهَارِ وَعَنْهُ أَخَافُ الْكُفْرَ عَلَى مَنْ لَمْ يَرَ الْمَسْحَ عَلَى الْخُفَّيْنِ؛ لِأَنَّ الْآثَارَ الَّتِي جَاءَتْ فِيهِ فِي حَيِّزِ التَّوَاتُرِ وَقَالَ أَبُو يُوسُفَ خَبَرُ الْمَسْحِ يَجُوزُ نَسْخُ الْكِتَابِ بِهِ لِشُهْرَتِهِ وَقَالَ أَحْمَدُ لَيْسَ فِي قَلْبِي شَيْءٌ مِنْ الْمَسْحِ فِيهِ أَرْبَعُونَ حَدِيثًا عَنْ رَسُولِ اللَّهِ – صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ – مَا رَفَعُوا وَمَا وَقَفُوا

[نيل الأوطار، جـ ١، صـ ٢٥٥]

قَالَ الْحَافِظُ فِي الْفَتْحِ: وَقَدْ صَرَّحَ جَمْعٌ مِنْ الْحُفَّاظِ بِأَنَّ الْمَسْحَ عَلَى الْخُفَّيْنِ مُتَوَاتِرٌ وَجَمَعَ بَعْضُهُمْ رُوَاتَهُ فَجَاوَزُوا الثَّمَانِينَ مِنْهُمْ الْعَشَرَةُ

[بدائع الصنائع، جـ ١، صـ ٨٣، زكريا بوك ديبو]

فَإِنْ كَانَا رَقِيقَيْنِ يَشِفَّانِ الْمَاءَ، لَا يَجُوزُ الْمَسْحُ عَلَيْهِمَا بِالْإِجْمَاعِ،

[البحر الرائق، جـ ١، صـ ٣١٨، زكريا بوك ديبو]

لَا يَجُوزُ الْمَسْحُ عَلَى الْجَوْرَبِ الرَّقِيقِ مِنْ غَزْلٍ أَوْ شَعْرٍ بِلَا خِلَافٍ وَلَوْ كَانَ ثَخِينًا يَمْشِي مَعَهُ فَرْسَخًا فَصَاعِدًا كَجَوْرَبِ أَهْلِ مَرْوَ فَعَلَى الْخِلَافِ

والله اعلم بالصواب

 

এনএইচ/