ইফতারের দোয়া
প্রকাশ: ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ০৫:৩৯ বিকাল
নিউজ ডেস্ক

|| ইমরান ওবাইদ ||

আজ ৪ঠা রমজান। সারাদিনের রোজা শেষে কিছুক্ষণ পরই শুরু হবে ইফতারপর্ব। শীতল পানিতে গলা ভিজিয়ে সজীবতা ফিরে পাবেন রোজাদার মুমিন। আর এই ইফতার যদি হয় সুন্নত মোতাবেক। তখন সওয়াব অর্জিত হবে দ্বিগুণ। অতএব, ইফতারের পূর্বে দোয়ার প্রতি আমাদের বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া উচিত।

যে কোনো খাওয়া-দাওয়ার শুরুতে ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ বা ‘বিসমিল্লাহি ওয়া আলা বারাকাতিল্লাহ’ পড়া সুন্নত। তাই ইফতারের শুরুতেও বিসমিল্লাহ বলা জরুরী।  খাওয়ার অন্যান্য আদব ও সুন্নত-ও ইফতারের সময় মনে রাখা উচিত।

ইফতারের কিছু বিশেষ দোয়া হাদিসে বর্ণিত রয়েছে। যেগুলো নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজে এবং সাহাবায়ে কেরাম ইফতারের সময় পড়তেন। নিচে ২ টি দোয়া উল্লেখ করা হলো:

১. ইফতারের দোয়া: ইফতারের পর নবীজি (সা.) এই দোয়াটিও পড়তেন
اَللهُمَّ لَكَ صُمْتُ وَعَلىٰ رِزْقِكَ أَفْطَرْتُ

উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা লাকা সুমতু ওয়া ’আলা রিযকিকা আফতারতু।

অর্থ: হে আল্লাহ! আমি আপনার উদ্দেশ্যেই রোজা রেখেছি এবং আপনার দেয়া রিজিক দিয়েই ইফতার করেছি। (সুনানে আবু দাউদ: ২৩৫৮) 

২. ইফতারের দোয়া: ইফতারের পর নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই দোয়া পড়তেন
ذَهَبَ الظَّمَأُ وَابْتَلَّتِ الْعُرُوقُ وَثَبَتَ الْأَجْرُ إِنْ شَاءَ اللَّهُ

উচ্চারণ: যাহাবায-যামাউ ওয়াব-তাল্লাতিল উরুকু ওয়া সাবাতাল আজরু ইনশাআল্লাহ।

অর্থ: পিপাসা দূর হলো, শিরা-উপশিরা সতেজ হলো আর আল্লাহ তাআলা চান তো রোজার সওয়াব লিপিবদ্ধ হলো। (সুনানে আবু দাউদ: ২৩৫৭)

ইফতারের আগ মুহূর্তে ও ইফতার করার সময় দোয়া কবুল হয়।  হাদিসে আছে, হযরত আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তিন ব্যক্তির দোয়া ফিরিয়ে দেয়া হয় না। ১. রোজাদারের দোয়া- যখন সে ইফতার করে। ২. ন্যায়পরায়ণ শাসকের দোয়া।  ৩. মাজলুম বা অত্যাচারিতের  দোয়া। অত্যাচারিতের দোয়াকে আল্লাহ তায়ালা মেঘমালার উপর উঠিয়ে নেন এবং তার জন্য আকাশের দরজা খুলে দেয়া হয়। আর আল্লাহ তায়ালা বলেন, ’আমার ইজ্জতের কসম! নিশ্চয়ই আমি তোমায় সাহায্য করব কিছু সময় দেরি হলেও। (তিরমিজি, ৩৫৯৮, আহমাদ ৮০৪৩, বায়হাকি, ৬৩৯৩)

 

আইএইচ/