বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন মডেল মসজিদ, মোমবাতি জ্বালিয়ে তারাবি আদায়
প্রকাশ: ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১২:৫২ রাত
নিউজ ডেস্ক

শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলা মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের বিদ্যুৎ বিল বকেয়া দাঁড়িয়েছে প্রায় ৮ লাখ ২৮ হাজার টাকা। দীর্ঘ ৩৫ মাস ধরে জমে থাকা এ বিপুল অঙ্কের বিল পরিশোধ না করায় গত ৬ জানুয়ারি বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয় বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিউবো)। ফলে রমজান মাসে অন্ধকারে মোমবাতি জ্বালিয়ে তারাবি নামাজ আদায় করছেন মুসল্লিরা।

জানা যায়, ২০২৩ সালের ১৬ জানুয়ারি মসজিদটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনের পর প্রায় তিন বছর অতিক্রান্ত হলেও বিদ্যুৎ বিল পরিশোধে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেয়নি মসজিদ পরিচালনা কমিটি বা ইসলামিক ফাউন্ডেশন। নিয়মিত বকেয়া বাড়তে থাকায় শেষ পর্যন্ত সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয় বিদ্যুৎ বিভাগ।

এদিকে সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার দেড় মাস পর বিষয়টি জানতে পারেন মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও নালিতাবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেজওয়ানা আফরিন। তিনি বলেন, আমি আজ জানতে পেরেছি যে মসজিদের প্রায় ৭ লাখ টাকার বেশি বিদ্যুৎ বিল বকেয়া রয়েছে। পল্লী বিদ্যুতের সঙ্গে কথা বলেছি, তারা জানিয়েছে জেলা পর্যায়ে কথা বলে ব্যবস্থা নেবে। যেহেতু বিপুল পরিমাণ বকেয়া, সে জন্য উচ্চপর্যায়ে আলোচনা করতে হবে।

ইউএনও আরও বলেন, মসজিদ নির্মাণের পর থেকে কোনো বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করা হয়নি। হস্তান্তরের পর স্থানীয়ভাবে বিল পরিশোধের কথা ছিল, এর জন্য আলাদা কোনো সরকারি বরাদ্দ নেই। মসজিদটি বড় পরিসরের এবং উপজেলা সদর থেকে দূরে হওয়ায় বিষয়টি জানতে দেরি হয়েছে। এখানে এসি ও লাইটের সংখ্যা বেশি হওয়ায় বিলও বেশি আসে। আমি বিষয়টি নিয়ে কথা বলব এবং কোনো বরাদ্দ বা ব্যবস্থা করা যায় কি না তা দেখব।

নালিতাবাড়ী উপজেলা পল্লী বিদ্যুতের এজিএম হাবিব জানান, এটি পল্লী বিদ্যুতের লাইন নয়, এটি বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিউবো) আওতাধীন লাইন।

শেরপুর ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপ-পরিচালক এস এম মোহাই মোনুল ইসলাম বলেন, মডেল মসজিদের নিয়ম হলো প্রতি মাসে ১০০ ইউনিট পর্যন্ত বিল সরকার বহন করবে, বাকিটা স্থানীয়ভাবে সংগ্রহ করতে হবে। ১০০ ইউনিটের বিল দেড় থেকে দুই হাজার টাকা হয়। কিন্তু এই মসজিদে প্রতি মাসে ৩৫ থেকে ৪০ হাজার টাকা বিল আসে। এ বিষয়ে সরকারি কোনো সমাধান আসেনি। আমরা বিদ্যুৎ বিভাগকে বলেছিলাম রমজান মাস বিবেচনায় কিছুটা ছাড় দিতে বা ১০-১৫ হাজার টাকা নিয়ে সংযোগ চালু রাখতে কিন্তু তারা রাজি হয়নি। তারা মৌখিকভাবে জানিয়েছিল যে বিল না দিলে সংযোগ কেটে দেবে।

 

আইএইচ/