পাকিস্তানের হামলা ‘অমার্জনীয়’, সামরিক জবাবের হুঁশিয়ারি তালেবানের
প্রকাশ: ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১০:৪০ দুপুর
নিউজ ডেস্ক

সামরিক প্রতিক্রিয়ার মাধ্যমে পাকিস্তানের বিমান হামলার জবাব দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন আফগানিস্তানের তালেবান সরকারের মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ। তিনি পাকিস্তানের পদক্ষেপকে ‘অমার্জনীয়’ আখ্যা দিয়ে বলেছেন, এ ধরনের হামলা দুই দেশের সম্পর্ককে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।

সংবাদমাধ্যম আল আরাবিয়া–কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মুজাহিদ বলেন, প্রতিক্রিয়ার ধরন ‘গোপনীয়’ রাখা হবে, তবে আফগানিস্তান তার সার্বভৌমত্ব রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। তিনি বিভিন্ন দেশ, বিশেষ করে ইসলামি দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানান, যেন তারা পাকিস্তানকে আফগানিস্তানের ওপর হামলা থেকে বিরত রাখতে ভূমিকা রাখে।

মুজাহিদ বলেন, “আমরা চাই আঞ্চলিক ও ইসলামি দেশগুলো এ বিষয়ে তাদের দায়িত্ব বুঝুক এবং পাকিস্তানকে তাদের নীতি পরিবর্তনে উৎসাহিত করুক। আফগানিস্তান ও পাকিস্তান দুটি ঘনিষ্ঠ দেশ, যাদের মধ্যে বহু অভিন্ন স্বার্থ রয়েছে।”

পাকিস্তানের অভিযোগ—আফগান ভূখণ্ডে তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) আশ্রয় নিয়ে দেশটিতে হামলা চালাচ্ছে। তবে এই অভিযোগ নাকচ করে মুজাহিদ বলেন, টিটিপির আফগানিস্তানে কোনো উপস্থিতি নেই। তার দাবি, গোষ্ঠীটি পাকিস্তানের অভ্যন্তরেই বিস্তীর্ণ এলাকা নিয়ন্ত্রণ করে এবং তাদের আফগান ভূখণ্ডের প্রয়োজন নেই।

তিনি বলেন, “দুর্ভাগ্যজনকভাবে পাকিস্তানে যখনই কোনো হামলা ঘটে, তারা প্রমাণ ছাড়াই আফগানিস্তানকে দায়ী করে। আমরা এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করছি। আফগান মাটি কারও বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হয় না।”

অন্যদিকে পাকিস্তান–এর প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স (সাবেক টুইটার)-এ পোস্ট দিয়ে তালেবান সরকারের বিরুদ্ধে ‘প্রকাশ্য যুদ্ধ’ ঘোষণা করেছেন। তিনি দাবি করেন, পাকিস্তান সরাসরি ও বন্ধুত্বপূর্ণ দেশগুলোর মাধ্যমে পরিস্থিতি শান্ত রাখার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে এবং পূর্ণাঙ্গ কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কিন্তু “ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে গেছে”—এখন এটি দুই দেশের মধ্যে প্রকাশ্য সংঘাতে রূপ নিয়েছে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি–র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আফগান বাহিনী পাকিস্তানি সেনাদের ওপর হামলা চালানোর পর সীমান্তবর্তী এলাকায় উত্তেজনা তীব্র আকার ধারণ করে। আফগানিস্তানের প্রধান শহরগুলোতেও ধারাবাহিক হামলার খবর পাওয়া গেছে।

সামরিক বিশ্লেষক হাদি কুরেশির মতে, আফগানিস্তানে হামলা চালিয়ে বেসামরিক অবকাঠামো ধ্বংস করা সঠিক পদক্ষেপ নয়। তার ভাষায়, “টিটিপি পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ সমস্যা। পাকিস্তানের এমনভাবে পদক্ষেপ নেওয়া উচিত, যাতে প্রতিবেশী দেশের জন্য নতুন সংকট তৈরি না হয়।”

এর আগে অক্টোবর মাসে একাধিক প্রাণঘাতী সংঘর্ষের পর দুই পক্ষ একটি নাজুক যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছিল। তবে দফায় দফায় সীমান্ত সংঘর্ষ অব্যাহত ছিল। সাম্প্রতিক পাল্টাপাল্টি হামলা ও কঠোর বক্তব্য পরিস্থিতিকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার স্বার্থে দ্রুত কূটনৈতিক সংলাপে ফিরে না এলে সংঘাত আরও বিস্তৃত হতে পারে। সীমান্ত পরিস্থিতি বর্তমানে অত্যন্ত স্পর্শকাতর, এবং যেকোনো ভুল পদক্ষেপ বড় ধরনের সামরিক সংঘর্ষে রূপ নিতে পারে।

সূত্র: টোলো নিউজ, বিবিসি