কওমি মাদরাসার মেধাবী শিক্ষার্থীদের বৃত্তি প্রদান করল মাকতাবাতুল ফাতাহ
প্রকাশ: ৩০ মার্চ, ২০২৬, ০৬:০২ বিকাল
নিউজ ডেস্ক

কওমি মাদরাসার মেধাবী শিক্ষার্থীদের মেধার স্বীকৃতি দিতে ও তাদের পড়াশোনায় উৎসাহিত করতে ‘বৃত্তি প্রদান ও মতবিনিময় সভা-২০২৬’ আয়োজন করেছে দেশের শীর্ষস্থানীয় প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান আল ফাতাহ গ্রুপের অঙ্গ প্রতিষ্ঠান ‘মাকতাবাতুল ফাতাহ বাংলাদেশ’। 

আজ সোমবার (৩০ মার্চ) রাজধানীর বিয়াম (BIAM) অডিটোরিয়ামে এক জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই মেধা বৃত্তি ও সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়। 
আল ফাতাহ গ্রুপের মাননীয় এমডি জনাব এম এ সাঈদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাবেক ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ. ফ. ম. খালিদ হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন মুফতি হিফজুর রহমান, মুফতি রফিকুল ইসলাম মাদানী, মাওলানা আশরাফ আলী নিজামপুরী, মাওলানা আবদুল জলিল ফারুকী এবং মুফতি বোরহান উদ্দীন রাব্বানীসহ দেশের বিশিষ্ট ইসলামি চিন্তাবিদগণ। 

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাবৃত্তি ও মেধা বৃত্তি হিসেবে সম্মাননা ও আর্থিক বৃত্তি প্রদান করা হয়। এর মধ্যে আল হাইআতুল উলয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়া-এর ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের পরীক্ষায় দেশসেরা ৩ জন ছাত্র ও ৩ জন ছাত্রীকে বিশেষ সম্মাননা দেওয়া হয়। 
পাশাপাশি বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া-এর কেন্দ্রীয় পরীক্ষার আওতাধীন বিভিন্ন বিভাগে দেশসেরা মোট ১৮ জন ছাত্র ও ১৫ জন ছাত্রীকে এককালীন মেধাবৃত্তি প্রদান করা হয়। 
এ ছাড়া মাকতাবাতুল ফাতাহ আয়োজিত কুইজ প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অধিকারীকে ৪০ হাজার, দ্বিতীয় স্থান অধিকারীকে ২৫ হাজার এবং তৃতীয় স্থান অধিকারীকে ২০ হাজার টাকা প্রদান করা হয়। এ ছাড়া অবশিষ্ট ২৭ জন বিজয়ীর প্রত্যেককে নগদ ২৫০০ টাকা করে শিক্ষা বৃত্তি দেওয়া হয়। 

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. আ. ফ. ম. খালিদ হোসেন বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের মেধার স্বীকৃতি তাদের আগামীর পথচলাকে আরও আত্মবিশ্বাসী করে তুলবে। মাকতাবাতুল ফাতাহ বাংলাদেশের এই উদ্যোগ কওমি শিক্ষার্থীদের জ্ঞানচর্চায় নতুন মাত্রা যোগ করবে।’ 
তিনি উপস্থিত মেধাবী শিক্ষার্থীদের লক্ষ করে বলেন, আপনারা আরবি, ইংরেজি এবং মাতৃভাষা বাংলায় দক্ষতা অর্জন করে বিশ্বব্যাপী নিজেদের মেধার জানান দিতে হবে। যোগ্য ব্যক্তিরা কখনো বেকার থাকে না। আপনারাও কাঙ্ক্ষিত যোগ্যতা অর্জন করতে পারলে জাতি আপনাদেরকে খুঁজে নেবে। 

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মুফতি হিফজুর রহমান বলেন, উম্মতে মুসলিমার অন্যতম অবদানের জায়গা হলো তাসনিফাত বা লেখালেখি। আমাদের আকাবির-আসলাফগণের রয়েছে এই অঙ্গনে সমৃদ্ধ ইতিহাস। আমাদেরও তারা সেই পথে এগিয়ে যেতে হবে। 
তিনি আরও বলেন, মাকতাবাতুল ফাতাহ তাদের প্রকাশিত কিতাবের অনন্য মানের কারণে দেশব্যাপী ইতিমধ্যে সাড়া ফেলেছে। আমি বলবো—দরসি কিতাবের পাশাপাশি তারা যেন ফাতহুল বারি-সহ বিভিন্ন শরাহ মানসম্পন্নভাবে বাজারে আনে। এটি এখন সময়ের দাবি। 
অনুষ্ঠানে মুফতি রফিকুল ইসলাম মাদানী, মাওলানা আশরাফ আলী নিজামপুরী, মাওলানা আবদুল জলিল ফারুকী বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় মাকতাবাতুল ফাতাহর সময় উপযোগী এমন উদ্যোগের প্রশংসা করেন। এবং এর ধারাবাহিকতা রক্ষার আহ্বান জানান। 

এ ছাড়া উপস্থিত মেধাবী শিক্ষার্থী, তাদের শিক্ষক ও অভিভাবকগণ কওমি মাদ্রাসার মেধাবীদের বৃত্তি প্রদান করে উৎসাহিত করার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। 
সভাপতির বক্তব্যে জনাব এম এ সাঈদ বিজয়ী শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানান এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের শিক্ষাবান্ধব কার্যক্রম অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেন। 
মাওলানা ইসমাইল বুখারীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সিইও জনাব শওকত মোস্তফা, মাকতাবাতুল ফাতাহ বাংলাদেশের কনসালট্যান্ট ড. জাভেদ আহমাদসহ প্রতিষ্ঠানের বিভাগীয় প্রধান ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।

 

জেডএম/