
|
রুটিনমাফিক সুশৃঙ্খল জীবন গড়লে পড়াশোনায় উন্নতি সম্ভব
প্রকাশ:
০১ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:৫২ দুপুর
নিউজ ডেস্ক |
মাওলানা হেমায়েত উদ্দীন
কওমি মাদরাসাগুলোতে ১৪৪৭ হিজরি শিক্ষাবর্ষের ভর্তি কার্যক্রম শেষে দরস শুরু হতে যাচ্ছে। এই মুহূর্তে ছাত্রদের করণীয় কী, তারা কোন কিতাব কীভাবে পড়বে এবং তাদের সময়গুলো কীভাবে কাজে লাগাবে সে বিষয়ে মূল্যবান নির্দেশনা দিয়েছেন বিশিষ্ট মুহাদ্দিস ও লেখক মাওলানা হেমায়েত উদ্দীন। আওয়ার ইসলামের পাঠকদের জন্য তাঁর সেই নির্দেশনা তুলে ধরেছেন, সহসম্পাদক ইমরান ওবাইদ। নতুন বছরে ছাত্রদের কোন কোন বিষয়ের প্রতি গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন সে বিষয়ে মাওলানা হেমায়েত উদ্দীন বলেন, যারা যে জামাতে ভর্তি হবে, ওই জামাতের যেসব ফন্নি কিতাব রয়েছে, সেই কিতাবগুলোর ‘মাবাদিয়াত’ মুতালাআ করবে। যেমন, দাওরায়ে হাদিসে ভর্তি হলে হাদিসের মাবাদিয়াত ও উলুমুল হাদিস পড়বে। মেশকাত বা জালালাইনে ভর্তি হলে তাফসির ও উলুমুত তাফসিরের অন্তত একটি মাবাদি কিতাব পড়ে নিলে সারা বছর তাদের জন্য সুবিধা হবে। উস্তাদের সঙ্গে পরামর্শ করে কিতাবগুলো সংগ্রহ করে সবক শুরু হওয়ার আগে প্রস্তুতি নিয়ে নিলে ফনটি বুঝতে সুবিধা হবে এবং এর গুরুত্বও বুঝে আসবে। যারা নতুন মাদরাসায় ভর্তি হয়েছেন তাদের পরামর্শ দিয়ে বিশিষ্ট এই আলেম লেখক বলেন, নতুন পরিবেশে মানিয়ে নিতে একটু সময় লাগে, এটা একটা সাইকোলজিক্যাল ব্যাপার। তবে ছাত্রদের সাথে মিল-মহব্বত হয়ে গেলে এই প্রতিকূলতা কেটে যায়। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, উস্তাদদের কাছে বারবার যেতে হবে, নসিহত ও উপদেশ চাইতে হবে। উস্তাদদের সাথে সুসম্পর্ক গড়ে উঠলে সবকিছু সহজ হয়ে যাবে। নিজ নিজ জামাত থেকে পরিপূর্ণ ইস্তিফাদা অর্জনের উপায় তুলে ধরে তিনি বলেন, ছাত্রদের আগ্রহ দেখেই উস্তাদদের ‘তাকরির’ (ব্যাখ্যা) বা উপদেশ আসে। ছাত্ররা যখন উস্তাদের কাছে গিয়ে জানার আগ্রহ প্রকাশ করবে, উস্তাদও তখন আগ্রহ নিয়ে পড়াবেন। ছাত্ররা তাদের সময়টা কীভাবে পুরোপুরি কাজে লাগাতে পারে-এমন প্রশ্নে মাওলানা হেমায়েত উদ্দীন বলেন, প্রত্যেক মাদরাসার একটি নির্দিষ্ট রুটিন থাকে। এই রুটিন অনুসরণ করলেই সময় অপচয় হওয়ার সুযোগ থাকে না। রুটিনমাফিক সুশৃঙ্খল জীবন গড়লে পড়াশোনায় উন্নতি সম্ভব। আমি যেসব মাদরাসায় পড়াই, সেখানে ছাত্রদের ২৪ ঘণ্টার একটি রুটিন দিয়ে দিই। কিতাব পড়ার সময় কোন বিষয়গুলোর প্রতি লক্ষ্য রাখবে সে ব্যাপারে নির্দেশনা দিয়ে তিনি বলেন- একেক কিতাবের ধরন একেক রকম। তবে মোটা দাগে কয়েকটা বিষয় খেয়াল রাখা জরুরি— ১/ তরজমা ও আলফাজের তাহকিক: কিতাবের অনুবাদ ও শব্দের বিশ্লেষণ বুঝতে হবে। ২/সুরতে মাসয়ালা: ফিককি কিতাবের মাসআলার সুরত ও তার প্রয়োগ বুঝতে হবে। ৩/ আদবের ক্ষেত্রে: কিতাবের কাদিম শব্দের পাশাপাশি জাদিদ শব্দ জানতে হবে। এতে ছাত্ররা বর্তমান সময়ের উপযোগী হয়ে গড়ে উঠতে পারবে। নতুন বর্ষ শুরু করা ছাত্রদের উদ্দেশে তিনি বলেন, যোগ্য আলেম হতে গেলে কোনো সবক পুরোপুরি না বুঝে সামনে অগ্রসর হওয়া যাবে না। ‘লামছাম’ (অস্পষ্টভাবে) বোঝা যাবে না, ১০০% বুঝতে হবে। বিশেষ করে ফন্নি কিতাব যেমন: মিজান, মুনশাইব, নাহবেমীর, উসুলুশ শাশী, দুরুসুল বালাগাত—এসব কিতাব বোঝার ক্ষেত্রে কোনো ছাড় দেওয়া যাবে না। মূল কিতাবের সাথে সরাসরি সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে, শুধু ‘শরাহ’ (ব্যাখ্যাগ্রন্থ) নির্ভর হওয়া যাবে না।
জেডএম/ |