
|
হীরার নাকফুলসহ অর্ধলক্ষ টাকার পুরস্কার বিতরণ করল মারকাযুল খিদমাহ
প্রকাশ:
২৪ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:১৬ দুপুর
নিউজ ডেস্ক |
রাজধানীর কামরাঙ্গীরচরের মুন্সিহাটিতে অবস্থিত মারকাযুল খিদমাহ আল ইসলামিয়ার উদ্যোগে এক জমকালো পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে কৃতি শিক্ষার্থী, শিক্ষক-শিক্ষিকা ও অভিভাবকদের মাঝে প্রায় অর্ধলক্ষ টাকার পুরস্কার প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিশিষ্ট লেখক, গবেষক ও কলামিস্ট মুফতী আহসান শরীফ বলেন, আদর্শ জাতি গঠনই কওমি মাদরাসাসমূহের মূল লক্ষ্য। এসব প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের মাঝে কুরআন-সুন্নাহর আলো ছড়িয়ে দিয়ে তাদেরকে সমাজে দীনের দাওয়াত পৌঁছে দেওয়ার উপযোগী করে গড়ে তোলা হয়। তিনি বলেন, “আল্লাহ তাআলা যাদের প্রতি বিশেষ রহমত করেন, তাদেরই দ্বীনের জ্ঞান অর্জনের সুযোগ দেন। কওমী মাদরাসা সেই রহমতেরই উজ্জ্বল নিদর্শন।”
প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখছেন বিশিষ্ট লেখক, গবেষক ও কলামিস্ট মুফতী আহসান শরীফ। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, উস্তাদ ও পিতা-মাতার প্রতি আনুগত্য প্রদর্শন করা প্রত্যেক শিক্ষার্থীর অপরিহার্য দায়িত্ব। তাদের সন্তুষ্টি অর্জন ছাড়া প্রকৃত সফলতা সম্ভব নয়। তিনি হযরত বায়েযীদ বোস্তামীর উদাহরণ তুলে ধরে বলেন, মায়ের খেদমত ও দোয়ার বরকতেই তিনি উচ্চ মর্যাদা লাভ করেছিলেন। শিক্ষার্থীদেরও পিতা-মাতার খেদমতে আত্মনিয়োগ করার আহ্বান জানান তিনি। তিনি সতর্ক করে বলেন, সময়ের অপচয় ও গোনাহ থেকে বিরত থাকা ছাড়া প্রকৃত আলেম হওয়া সম্ভব নয়। “ইলম হলো আলো, আর গোনাহ হলো অন্ধকার—এই দুই একসাথে অবস্থান করতে পারে না,”—বলেন তিনি। অনুষ্ঠানে মারকাযুল খিদমাহ আল ইসলামিয়ার প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক মুফতি আবদুল কাইয়ূম হানাফী প্রতিষ্ঠান পরিচালনা সংক্রান্ত বিভিন্ন দিকনির্দেশনা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, মাদরাসার যেকোনো বিষয়ে কারও কোনো মতামত বা আপত্তি থাকলে তা সরাসরি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করা উচিত। গোপনে সমালোচনা করে বিভ্রান্তি সৃষ্টি না করে গঠনমূলক পরামর্শ প্রদানের আহ্বান জানান তিনি। তিনি আরও বলেন, “পেছনে সমালোচনা করলে সমস্যার সমাধান হয় না; বরং তা আরও জটিল হয়ে ওঠে। তাই সবাইকে সরাসরি আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধানে এগিয়ে আসতে হবে।”
প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক মুফতি আবদুল কাইয়ূম হানাফী উল্লেখ্য, ইসলামিক ও আধুনিক শিক্ষার সমন্বয়ে পরিচালিত মারকাযুল খিদমাহ আল ইসলামিয়া ঢাকা একটি ব্যতিক্রমধর্মী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। ছেলে ও মেয়েদের জন্য পৃথক শিক্ষাব্যবস্থা, দক্ষ শিক্ষক দ্বারা পাঠদান এবং সুশৃঙ্খল পরিবেশের কারণে অল্প সময়েই প্রতিষ্ঠানটি সুনাম অর্জন করেছে। করোনা মহামারির সময় যাত্রা শুরু করলেও ইতোমধ্যে কওমি শিক্ষাবোর্ড বেফাকের পরীক্ষায় শতভাগ পাশসহ মেধাতালিকায় স্থান অর্জনের মতো সাফল্য পেয়েছে। প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ জানায়, গত দুই বছর ধরে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে অবদান রাখা কৃতি শিক্ষার্থী, শিক্ষক-শিক্ষিকা ও অভিভাবকদের পুরস্কৃত করা হচ্ছে।
অনুষ্ঠান শেষে, পুরষ্কৃত শিক্ষার্থীদের এক ফ্রেমে তোলা ছবি। কেউ সুন্দর পরামর্শ দিয়ে, কেউ গঠনমূলক সমালোচনার মাধ্যমে উন্নয়নে ভূমিকা রেখে আবার কেউ শিক্ষাগত দক্ষতা প্রদর্শনের মাধ্যমে এই পুরস্কার অর্জন করছেন। এবারের অনুষ্ঠানে একজন শিক্ষককে তার বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ “হীরার নাকফুল” প্রদান করা হয়। আর ছাত্ররা তো পরীক্ষা ও নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিত থেকে নিচ্ছেই। কর্তৃপক্ষ আরও জানায়, ভবিষ্যতে পুরস্কারের পরিমাণ ও পরিসর আরও বৃদ্ধি করার পরিকল্পনা রয়েছে। জেডএম/ |