‘জিয়া-খালেদার সঙ্গে গাদ্দারি করে বিএনপি টিকে থাকতে পারবে না’
প্রকাশ: ২৪ এপ্রিল, ২০২৬, ০৯:৫৮ রাত
নিউজ ডেস্ক

গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস-বিকেএমের উদ্যোগে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে গণসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আমিরে মজলিস মাওলানা মামুনুল হকের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান, এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম, এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল অলি আহমদ বীর বিক্রম, বিকেএমের সিনিয়র নায়েবে আমির মাওলানা ইউসুফ আশরাফ, নায়েবে আমির মাওলানা রেজাউল করিম জালালী, শায়খুল হাদীস মাওলানা আলী উসমান,  মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দিন আহমাদ, খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির মাওলানা সাখাওয়াত হুসাইন, নেজামে ইসলাম পার্টির সিনিয়র নায়েবে আমির মাওলানা আব্দুল মাজেদ আতহারী, এবি পার্টির চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান মঞ্জু, জাগপার সহ-সভাপতি ও মুখপাত্র রাশেদ প্রধান, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, ময়মনসিংহ-২ এর সংসদ সদস্য মুফতি মোহাম্মদুল্লাহ, মাদারিপুর-১ এর সংসদ সদস্য মাওলানা সাইদ‌ উদ্দিন আহমাদ হানজালা, এনসিপির মুখ্য সংগঠক নাসিরউদ্দিন পাটোয়ারী, ডাকসু ভিপি আবু সাদেক কায়েম,‌ ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের, বাংলাদেশ খেলাফত যুব মজলিসের সভাপতি মাওলানা জাহিদুজ্জামান ও বাংলাদেশ খেলাফত ছাত্র মজলিসের সভাপতি মুহাম্মাদ আব্দুল আজিজ।

মাওলানা মামুনুল হক বলেন, জুলাইয়ের অঙ্গীকার ছিল—আগামীর বাংলাদেশ গড়ে উঠবে ১৯৪৭ সাল, ২০১৩ সাল এবং ২০২৪ সালের ঐতিহাসিক বিজয়ের ভিত্তির ওপর। আজ যারা মনে করেন, কেন বাংলাদেশের নাগরিক সমাজ ও ইসলামপন্থীরা জুলাই বিপ্লবের পক্ষে কাফনের কাপড় বেঁধে রাজপথে নামতে চায়—আমি তাদের বলতে চাই, আমরা জুলাই বিপ্লবকে এজন্যই বাস্তবায়ন করতে চাই। কারণ, এই জুলাই বিপ্লব ১৯০৫ এর বঙ্গভঙ্গের চেতনাকে ধারণ করে, ১৯২১ সালের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেক্ষাপটকে ধারণ করে, ১৯৪৭ সালের স্বাধীন জাতিসত্তাকে ধারণ করে, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধকে ধারণ করে, ২০১৩ সালের শাপলার চেতনাকে ধারণ করে এবং ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানকে ধারণ করে।

তিনি বলেন, যারা ইসলামকে ভালোবাসে, বাংলাদেশকে ভালোবাসে এবং বাংলাদেশের শতবর্ষের ঐতিহ্যকে ধারণ করে—তারা জুলাই বিপ্লবের বিপক্ষে থাকতে পারে না। আমি আজকের ক্ষমতাসীন বিএনপিকে বলতে চাই, আপনারা বাংলাদেশের ৫০ বছরের রাজনীতির সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করবেন না। শহীদ জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার সাথে গাদ্দারি করে বিএনপি টিকে থাকতে পারবে না।

বিএনপি নেতৃত্ব ও নেতৃবৃন্দকে উদ্দেশ্য করে বলেন, যে ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের মাধ্যমে আপনারা জন্ম নিয়েছেন, তার সাথে গাদ্দারি করা মানে জন্মদাত্রী মায়ের গর্ভকে অস্বীকার করা। বাংলাদেশে পূর্বে তিনটি গণভোট হয়েছে—কোনো গণভোটের সাথেই কেউ গাদ্দারি করেনি। শুধু বাংলাদেশেই নয়, বিশ্বের যেখানেই গণভোট হয়েছে, কোনো গণভোটের সাথেই কেউ বিশ্বাসঘাতকতা করেনি। যদি বিএনপি গণভোটের সাথে গাদ্দারি করে, তাহলে বিএনপি বিশ্বের একমাত্র গাদ্দার দল হিসেবে পরিচিত হবে।

বর্তমান সরকারের কূটনৈতিক ব্যর্থতার সমালোচনা করে তিনি বলেন, বাংলাদেশে প্রেরিত ভরতের নতুন রাষ্ট্রদূতকে পৃথিবীর সকল কূটনৈতিক রেওয়াজ ভঙ্গ করে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। একজন বিজেপি নেতাকে রাষ্ট্রদূত হিসেবে পাঠানো হয়েছে, অথচ এদেশের সরকার টু শব্দটুকু করেনি। বন্ধুরাষ্ট্র ইরান বন্ধুত্বের দায়িত্ব পালন করে তেল দিচ্ছে, কিন্তু আমাদের কূটনীতির ব্যর্থতার কারণে বারবার সেই তেলবাহী জাহাজ আটকে দেওয়া হচ্ছে। আমরা বলতে চাই, আপনারা না পারলে আমাদেরকে দায়িত্ব দিন—আমরা দায়িত্ব নিতে প্রস্তুত।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চলমান নৈরাজ্য সম্পর্কে বলেন, বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ সারা দেশের কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে যেভাবে অস্ত্রের ঝনঝনানি শুরু হয়েছে, এভাবে চলতে থাকলে এর দায় একমাত্র সরকারকেই বহন করতে হবে।

সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন এবং উপস্থিত ছিলেন- যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আতাউল্লাহ আমীন, মাওলানা আব্দুল আজীজ, মুফতি শরাফত হোসাইন, মাওলানা তোফাজ্জল হোসাইন মিয়াজি, মাওলানা শরীফ সাঈদুর রহমান।

সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আজিজুর রহমান হেলাল, মাওলানা ফয়সাল আহমাদ, মাওলানা এনামুল হক মুসা, মাওলানা আবুল হাসানাত জালালী ও মাওলানা আবু সাইদ নোমান এর পরিচালনায় সমাবেশে আরো উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমির মাওলানা মাহবুবুল হক, মাওলানা কুরবান আলী কাসেমী, সম্পাদক মাওলানা নেয়ামত উল্লাহ, প্রশিক্ষণ সম্পাদক মাওলানা জহিরুল ইসলাম, বায়তুল মাল সম্পাদক মাওলানা ফজলুর রহমান, প্রকাশনা সাম্পাদক মাওলানা হারুনুর রশদী,  সম্পাদক মাওলানা হাসান জুনাইদ, মাওলানা রুহুল আমীন খান, মাওলানা জসিমউদ্দিন, মাওলানা আমজাদ হোসাইন, মাওলানা ছানাউল্লাহ আমিনী, মাওলানা আনোয়ার রাজী, মাওলানা রাকিবুল ইসলাম, মাওলানা মুর্শেদুল আলম সিদ্দিকী প্রমুখ।

আরএইচ/