সামাজিক অনাচার দূর করতে আত্মশুদ্ধির বিকল্প নেই: প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী 
প্রকাশ: ২৫ এপ্রিল, ২০২৬, ০৯:১৭ রাত
নিউজ ডেস্ক

সামাজিক অনাচার দূর করতে আত্মশুদ্ধির বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। 
তিনি বলেন, আত্মশুদ্ধি ব্যতীত আল্লাহর সব আদেশ নিষেধ মেনে চলা সম্ভব নয়। সাহাবায়ে কেরাম ইসলাম গ্রহণের পূর্বে যেই গোনাহ করতেন, ইসলাম গ্রহণের পর আত্মশুদ্ধির মেহনত করে তারাই হয়ে গেলেন সোনার মানুষ। বর্তমান সমাজে যত অনাচার, হত্যা, দূর্নীতি ও অরাজকতা সয়লাভ—সবই বন্ধ হতে পারে আত্মশুদ্ধির মাধ্যমে।
শনিবার (২৫ এপ্রিল) রাজধানীর ডিপ্লোমা ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে আঞ্জুমানে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি। 
আগামী ৩০ অক্টোবর (২০২৬) আঞ্জুমানের ৮১ বছর পূর্তি উপলক্ষে রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ‘কেন্দ্রীয় আজিমুশ্বান ইজতেমা’ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আয়োজন করা হয় শনিবারের মতবিনিময় সভা। আঞ্জুমান ঢাকা মহানগরের আমীর মুফতি সাইফুল ইসলাম ফারুকীর সভাপতিত্বে ও নির্বাহী সভাপতি মুফতি ওয়াজেদ আলীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এই সভায় প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী ইজতেমা বাস্তবায়নে সরকারের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আঞ্জুমানে হেফাজতে ইসলামের আমির শায়খুল হাদিস মুফতি মুহাম্মদ রশীদুর রহমান ফারুক বর্ণভী আঞ্জুমানের প্রতিষ্ঠা ও প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বলেন, ‘খলিফায়ে মাদানি আল্লামা লুৎফুর রহমান বর্ণভী রহ. ১৯৪৪ সনে আঞ্জুমানে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। আঞ্জুমান প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে তিনি হুসাইন আহমদ মাদানি রহ.-এর নির্দেশনা, আশরাফ আলি থানভি রহ.-এর অনুমোদন, সমকালীন বুযুর্গ উলামায়ে কেরামের সমর্থন, বিশেষ করে আল্লামা শামছুল হক ফরিদপুরি রহ. ও ফখরে বাঙ্গাল আল্লামা তাজুল ইসলাম রহ.-এর উদারতাপূর্ণ বিশেষ সহযোগিতা লাভ করেছিলেন। আট দশকেরও বেশি সময় ধরে আঞ্জুমানে হেফাজতে ইসলাম বৃহত্তর সিলেটসহ দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলোতে মুসলিম জনসাধারণের ধর্মীয়, নৈতিক ও আধ্যাত্মিক উন্নয়ন সাধনে নিরবচ্ছিন্ন কাজ করে যাচ্ছে। পাশাপাশি বিভিন্ন দুর্যোগ ও দুঃসময়ে আর্তমানবতার সেবায় সংগঠনটির উল্লেখযোগ্য কার্যক্রম রয়েছে।’

মতবিনিময় সভায় , আরও বক্তব্য রাখেন বেফাক মহাসচিব মাওলানা মাহফুজুল হক, শায়েখ যাকারিয়া ইসলামিক রিসার্চ সেন্টারের পরিচালক মুফতি মিজানুর রহমান সাঈদ, দেওভোগ মাদরাসার মুহতামিম মাওলানা আবু তাহের জিহাদী, দিলুরোড মাদরাসার মুহতামিম মুফতি সালাহ উদ্দিন, যাদুরচর মাদরাসার মুহতামিম হাফেজ মাওলানা আলী আকবর কাসেমী, মাওলানা আব্দুল লতিফ ফারুকী, মাওলানা আতাউল্লাহ আমীন, মাওলানা শেখ আহমদ আফজল বর্ণভী, মুফতি শেখ সা'দ আহমাদ আমীন বর্ণভী, মুফতি ফয়জুল্লাহ আশরাফী, মুফতি সামছুল আলম সরাইলী, মুফতি শেখ যুবায়ের গনী, মুফতি আবদুল্লাহ ফিরোজী, মাওলানা সাব্বির আহমাদ ফতেহপুরী, মাওলানা আবু দাউদ যাকারিয়া, আরশাদ আলী গাজী, সাব্বির মাজহারী, মাওলানা আব্দুল গাফফার,  মুফতি আল আমীন, মুফতি লিয়াকত আলী প্রমুখ।

জেডএম/