সারা দেশে বজ্রপাতে ৯ জনের মৃত্যু
প্রকাশ: ২৯ এপ্রিল, ২০২৬, ০৯:৪১ রাত
নিউজ ডেস্ক

বজ্রপাতে সাত জেলায় নয়জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে জামালপুরে ২ জন, পটুয়াখালীতে ২ জন, ময়মনসিংহে ১ জন, রাজবাড়ীতে ১ জন, রংপুরে ১ জন, শরীয়তপুরে ১ জন ও বরগুনায় ১ জন মারা গেছেন।

বুধবার (২৯ এপ্রিল) দেশের ৭ জেলায় বজ্রপাতে এসব মৃত্যু হয়।

জামালপুর: 

সকালে জামালপুর জেলার ইসলামপুর উপজেলার গাইবান্ধা ও সাপধরী ইউনিয়নে পৃথক বজ্রপাতে মো. শামীম মিয়া (৩৭) ও সাগর ইসলাম (১৮)-এর মৃত্যু হয়। শামীম মিয়া গাইবান্ধা ইউনিয়নের মরাকান্দি উত্তর বাড়ি গ্রামের মোহাম্মদ আলী মেম্বারের ছেলে এবং সাগর ইসলাম দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার চিনিয়াপাড়া এলাকার মো. স্বাধীনের ছেলে।

স্থানীয়রা জানান, সকাল ৬টার দিকে শামীম নদীতে মাছ ধরতে যান। এ সময় বৃষ্টির সঙ্গে বজ্রপাত শুরু হলে তিনি গুরুতর আহত হন এবং ঘটনাস্থলেই মারা যান। অন্যদিকে সকাল ৯টার দিকে ইসলামপুর উপজেলার সাপধরী ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইন্দুল্লামারী এলাকায় এলজিইডির আওতায় একটি সড়কের নির্মাণকাজ চলার সময় বজ্রপাতে সাগর ইসলামের মৃত্যু হয়।

পটুয়াখালী: 

দুপুরে বজ্রপাতে কলাপাড়া উপজেলার নয়াকাটা গ্রামে জহির চৌকিদার (২৮) ও পূর্ব চাকামইয়া গ্রামের সেতারা বেগমের (৫৫) মৃত্যু হয়েছে। মৃত জহির ওই একই গ্রামের ইউনুস চৌকিদারের ছেলে এবং সেতারা বেগম চাকামইয়া গ্রামের বাদশা হাওলাদারের স্ত্রী। 

স্থানীয়রা জানান, দুপুরে জহির তার বাবা-মায়ের সঙ্গে ক্ষেতে পানি নিষ্কাশনের কাজ করছিলেন। এ সময় হঠাৎ বজ্রপাতের ঘটনা ঘটে। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। 

অপর দিকে সেতারা বেগম গরু নিয়ে নিজ বাড়ির পাশে খোলা মাঠে ঘাস খাওয়াতে যাচ্ছিলেন। এ সময় বজ্রপাত হলে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাকে উদ্ধার করে কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

রাজবাড়ী: 

জেলার সদর উপজেলার মিজানপুর ইউনিয়নের মজ্জৎকোল গ্রামে বাড়ির পাশে দোকানে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে সুমন মণ্ডল (৩৫) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকালে বজ্রপাতের সময় সুমনের কোলে থাকা সাড়ে তিন বছরের শিশুটি কোল থেকে পড়ে গেলেও প্রাণে বেঁচে যায়। মৃত সুমন মণ্ডল মজ্জৎকোল গ্রামের সিদ্দিক মণ্ডলের ছেলে। 

জানা গেছে, সকাল পৌনে ৭টার দিকে মেয়েকে কোলে নিয়ে বাড়ির পাশের একটি দোকানে বাজার করতে যাচ্ছিলেন সুমন। এ সময় আকস্মিক বজ্রপাত হলে শিশুটি তার কোল থেকে ছিটকে দূরে পড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই সুমনের মৃত্যু হয়।

রংপুর: 

রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলায় বজ্রপাতে সাহেরা বেগম (৪০) নামে এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে গরু আনতে গেলে বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। তিনি উপজেলার সয়ার ইউনিয়নের কাজীপাড়া গ্রামের আজিজার রহমানের স্ত্রী।

ময়মনসিংহ: 

তারাকান্দায় মাছ ধরতে গিয়ে বজ্রপাতে সাদ্দাম হোসেন (৩২) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। সকাল ৮টার দিকে উপজেলার গালাগাঁও ইউনিয়নের গাবরগাতী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। মৃত সাদ্দাম হোসেন ওই একই এলাকার মৃত হামেদ আলীর ছেলে। 

এ ঘটনায় তারাকান্দা থানার ওসি তানবীর আহমেদ জানান, পরিবারের কোনো অভিযোগ না থাকায় ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ দাফনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

শরীয়তপুর: 

শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার জপসা ইউনিয়নের কীর্তিনাশা নদীতে মাছ শিকারের সময় বজ্রপাতে রাজিব শেখ (৩২) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। দুপুরে কীর্তিনাশা নদীতে মাছ শিকার করছিলেন তিনি। হঠাৎ বৃষ্টি ও বজ্রপাত শুরু হয়। এতে রাজিবের শরীর ঝলসে যায়। পরে স্থানীয় বাসিন্দারা রাজিবের লাশ নদীর তীরে তুলে আনেন।

বরগুনা: 

বরগুনা আমতলীতে বজ্রাপাতে নুর জামাল (৫৪) নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। খবর পেয়ে বিকেলে আমতলী উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ জাফর আরিফ চৌধুরী নুর জামালের বাড়ি যান। এ সময় তার পরিবারকে নগদ ২৫ হাজার টাকা অনুদান দেন।

আইও/