
|
চাকরি নয়, দীনের খেদমতই হওয়া উচিত মূল মিশন
প্রকাশ:
০৮ মে, ২০২৬, ১০:০০ দুপুর
নিউজ ডেস্ক |
|| মাওলানা আব্দুল মজিদ || আলিয়া মাদরাসার অঙ্গনে যখন লক্ষ্য হবে সহস্র ছাত্রের অন্তরকে কুরআনের আলোয় আলোকিত করা, তখন সেই ময়দানে প্রবেশের মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত কেবল পেটের চাহিদা পূরণ নয়; বরং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন এবং তাঁর কালামকে মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়া। আলিয়া মাদরাসায় কুরআনি খেদমতে যারা নিজেদের যুক্ত করবেন, তাদের জন্য প্রাথমিক মানসিকতা হওয়া উচিত—অর্থ বা পার্থিব লাভ নয়, বরং আল্লাহর বান্দাদেরকে পবিত্র কুরআনের শিক্ষা, ইসলামি আদব-আখলাক এবং একজন মুসলমানের অপরিহার্য গুণাবলি শেখানোর মহান দায়িত্ব পালন। নিঃসন্দেহে এই মহৎ নিয়তের সঙ্গে জীবিকার ব্যবস্থা ও বেতনের নিশ্চয়তাও থাকবে। তবে লক্ষ্য যদি শুরু থেকেই কেবল অর্থ উপার্জন হয়, তাহলে সেই ইখলাস ও আধ্যাত্মিক সৌভাগ্য থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে, যা কুরআনি খেদমতের প্রকৃত প্রতিদান। হাদিসের আলোচনায় এসেছে, নিয়তের গুরুত্ব কতটা গভীর। যেমন সহিহ বুখারির প্রথম হাদিসে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে—‘নিশ্চয়ই সকল কাজ নিয়তের ওপর নির্ভরশীল।’ কেউ যদি পার্থিব উদ্দেশ্য নিয়ে কোনো মহান কাজ শুরু করে, তবে সে কাজের প্রকৃত আধ্যাত্মিক মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হতে পারে। অন্যদিকে, যারা খাঁটি দীন রক্ষা, ঈমানের দাওয়াত এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে কোনো পথে অগ্রসর হন, আল্লাহ তাদের জন্য দুনিয়ার দরজা খুলে দেন, কিন্তু তাদের মূল প্রতিদান থাকে আখেরাতে। তাই নিয়তের বিশুদ্ধতা একজন মানুষের পুরো কর্মজীবনকেই অর্থবহ করে তোলে। এখন প্রশ্ন হলো—আপনি কি বেতনের চিন্তাকে অগ্রাধিকার দিয়ে আল্লাহর সন্তুষ্টিকে পেছনে ফেলবেন? নাকি আল্লাহর সন্তুষ্টিকে সর্বোচ্চ লক্ষ্য বানিয়ে, বেতনকে কেবল একটি সহায়ক ব্যবস্থা হিসেবে গ্রহণ করবেন? আসলে মুমিনের জীবনের প্রকৃত মিশন হওয়া উচিত আল্লাহর সৃষ্টির অন্তরে তাঁর নাম প্রতিষ্ঠা করা, সমাজকে কুরআনের আলোয় গঠন করা এবং নৈতিকতা ও ঈমানের ভিত্তিতে একটি সুন্দর সমাজ নির্মাণ করা। নিজের পেট নয়—বরং দীন ও দীনের খেদমতই হওয়া উচিত মূল মিশন। লেখক: শিক্ষক, মেফতাহুল উলুম মধ্য বাড্ডা মাদরাসা, ঢাকা আইও/ |