একাধিক বিয়েকে ছেলেখেলায় পরিণত করবেন না: শায়খ আহমদুল্লাহ
প্রকাশ: ১০ মে, ২০২৬, ০৮:৩৮ সকাল
নিউজ ডেস্ক

একাধিক বিয়েকে হাস্যকর বা ছেলেখেলায় পরিণত করা হলে তা দীনের বিধানকে হেয় করার শামিল হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিশিষ্ট দাঈ শায়খ আহমদুল্লাহ।

সম্প্রতি ইউটিউবে প্রকাশিত এক বক্তব্যে তিনি বলেন, ইসলাম পুরুষের জন্য একাধিক বিয়েকে অনুমোদন দিয়েছে—এ বিষয়টি প্রায় সব মুসলমানই জানেন। তবে এর সঙ্গে কঠোর কিছু শর্তও জড়িত রয়েছে।

শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, প্রথমত একজন পুরুষের একাধিক স্ত্রীকে লালন-পালন ও ভরণপোষণ দেওয়ার সামর্থ্য থাকতে হবে। দ্বিতীয়ত, কেবল আর্থিক সক্ষমতা থাকলেই হবে না; স্ত্রীদের মধ্যে ন্যায়বিচার ও সমতা বজায় রাখার সক্ষমতাও থাকতে হবে।

তিনি পবিত্র আল-কুরআন-এর সুরা নিসা-এর তৃতীয় আয়াতের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, যদি আশঙ্কা হয় যে, তোমরা ন্যায়বিচার করতে পারবে না, তাহলে একজনই যথেষ্ট।

শায়খ আহমদুল্লাহ আরও বলেন, সমাজে কিছু মানুষ পরিকল্পিতভাবে দ্বীনের বিভিন্ন বিষয়কে বিতর্কিত ও হাস্যকর করে তোলার চেষ্টা করছে। একই সঙ্গে অনেক মুসলমানও দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণের মাধ্যমে সেই অপপ্রচারে অনিচ্ছাকৃতভাবে সহযোগিতা করছেন।

তিনি উল্লেখ করেন, কয়েক দশক আগেও বাংলাদেশে গ্রামগঞ্জ ও শহরে একাধিক বিয়ের ঘটনা অহরহ ঘটত। সমাজে তা নিয়ে এত আলোচনা বা উপহাস ছিল না। তবে বর্তমানে কিছু অনিয়ম ও বৈষম্যের ঘটনা যেমন ঘটছে, তেমনি এসব ঘটনাকে অতিরঞ্জিত করে প্রচারেরও প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।

তিনি বলেন, একাধিক বিয়ের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো দায়িত্ববোধ ও ইনসাফ। কোনো স্ত্রীকে অবহেলা করা, একজনকে প্রাধান্য দিয়ে অন্যজনের অধিকার নষ্ট করা ইসলামের শিক্ষা নয়।

বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, অনেক পরিবারে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়, যেখানে প্রথম স্ত্রী শারীরিক অসুস্থতা বা অন্য কোনো কারণে স্বামীকে স্বাভাবিক দাম্পত্য সঙ্গ দিতে পারেন না। তখন একজন পুরুষের সামনে দুটি পথ খোলা থাকে—হয় দ্বিতীয় বিয়ে করা, নয়তো প্রথম স্ত্রীকে তালাক দিয়ে নতুন বিয়ে করা।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, ইসলামে বৈধ উপায়ে নিজের চরিত্র রক্ষা করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। হারাম সম্পর্কে জড়ানোর চেয়ে বৈধ ও দায়িত্বশীল পথ বেছে নেওয়াই উত্তম।

তিনি আরও বলেন, অনেক সময় প্রথম স্ত্রী নিজ থেকেই স্বামীর সমস্যার সমাধানে ইতিবাচক ভূমিকা নিতে চান। এছাড়াও সমাজে এমন আরও বাস্তব পরিস্থিতি রয়েছে, যেখানে একাধিক বিয়ের প্রয়োজন দেখা দিতে পারে।

সবশেষে শায়খ আহমদুল্লাহ বলেন, দীনের কোনো বিধানকে হাস্যকর করে তোলার ক্ষেত্রে যেন আমার কোনো ভূমিকা না থাকে—এ ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। আল্লাহ আমাদের দায়িত্বশীল আচরণ করার তাওফিক দান করুন।

জেডএম/