
|
তিনি ছিলেন বাকিয়্যাতুস সালাফ
প্রকাশ:
১০ মে, ২০২৬, ১১:০৩ দুপুর
নিউজ ডেস্ক |
|| শায়খ মিসবাহ উদ্দীন মাদানী || তিনি ছিলেন বাকিয়্যাতুস সালাফ তথা পূর্বসূরিদের উত্তর-স্মারক। তাকে দেখলে ও শুনলে মনে হতো তিনি তার পূর্বসূরি ওলামা ও দ্বীনী আন্দোলনের মহান মনীষীগণের ঈমানী উত্তাপ ধারণ করতেন। তিনি উপমহাদেশের সাড়াজাগানো প্রভাবশালী আলেম ও রাজনীতিবিদ আল্লামা খতীবে আজম সিদ্দীক আহমদ সাহেব রহ. এর কথা বেশি বলতেন। তিনি ছিলেন খুবই নিরহংকার। কথা খুব কম বলতেন। কিন্তু এই বৃদ্ধ বয়সেও দেখা যেত বিভিন্ন রকম দ্বীনি কাজ, সংগঠন ও আন্দোলনে খুবই ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। বিতর্ক এড়িয়ে কাজে মনোযোগী ছিলেন। একসময়ের তুমুল জনপ্রিয় প্রভাবশালী ঐতিহ্যবাহী ইসলামী রাজনৈতিক সংগঠন নেজামে ইসলাম পার্টি যখন বিভক্তি ও নিষ্ক্রিয়তায় নিভু নিভু, তখন তিনি এটার আমিরের দায়িত্ব নেন। সংগঠনটাকে সক্রিয় সাংগঠনিক রূপে ফিরিয়ে আনতে ও কিছুটা প্রাসঙ্গিক করার ক্ষেত্রে তার চেষ্টা লক্ষণীয়। এই বৃদ্ধ বয়সেও দেখা যেত হুজুর রহ. সংগঠন ও দ্বীনি প্রয়োজনে দেশের দূর দূরান্তে সফর করে বেড়াচ্ছেন। তিনি ত্রিশ বছর ধরে আমাদের এলাকার পদুয়া জামিয়াতুল আনওয়ার হেমায়াতুল ইসলাম মাদরাসার প্রধান পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এলাকায় ওহীর জ্ঞানের আলো বিতরণের চেরাগটা ধরে রেখেছিলেন খুবই সযত্নে। তিনি হেফাজতে ইসলামের নায়েবে আমির ছিলেন। হুজুর রহ. কে বিভিন্ন উপলক্ষে আমাদের বাড়িতে মেহমান করার সুযোগ হয়েছে। একবার আমাদের এলাকার মাদরাসা নববিয়া আরাবিয়ায় মাওলানা মামুনুল হক সাহেবকে প্রধান বক্তা হিসেবে দাওয়াত করা হয়েছিল। এই মাহফিলে প্রতি বছরের ন্যায় সরওয়ার কামাল আজিজী সাহেব রহ.কেও দাওয়াত দেওয়া হয়েছিল। মাহফিল শেষ হতে দেরি হয়ে গেলে মাওলানা মামুনুল হক সাহেব ও সরওয়ার কামাল আজিজী সাহেব রহ. আমাদের বাড়িতে রাত্রিযাপন করেছিলেন। ঐদিন দু'জন বিশিষ্ট আলেমেদ্বীনের খেদমত ও মেহমানদারীর সুযোগ হয়েছিল। ছোটকাল থেকে আমার আব্বুকে দেখে আসছি, তিনি উলামায়ে কেরামের খেদমত ও মেহমানদারীতে খুবই আন্তরিক। যার দোআ ও বরকত আমার আব্বুর আমরা সন্তানদের মধ্যে কিছুটা প্রতিফলিত হয়েছে বলে মনে করি। শেষবার ২০২৪ সালের শেষের দিকে হুজুর রহ. এর সাথে সাক্ষাত হলে তিনি আমাকে বলেছিলেন, "ওয়া নওজোয়ান আলেম! তুই নেজামে ইসলাম পার্টিত যোগ দঅ। ইসলামী হুকুমত প্রতিষ্ঠার খামত তোয়ারারে দরহার।" হুজুরের কথাগুলো এখনো কানে বাজছে। আল্লাহ তা‘আলা হুজুরের গোনাহ-খতা মাফ করে দিয়ে জান্নাতুল ফিরদাউসের আ'লা মাকাম নসীব করুন। তার সকল দ্বীনী প্রচেষ্টাকে কবূল করুন। আমাদের সবাইকে ক্ষমা করে দিয়ে আমৃত্যু হেদায়েত ও দ্বীনের জন্য কবূল করুন। আমীন। লেখক: প্রধান, আরবি ভাষা ও ইসলামি দাওয়াহ বিভাগ, জামিয়া আরাবিয়া জিরি মাদরাসা, চট্টগ্রাম জেডএম/ |