
|
হজযাত্রা: উটের কাফেলা থেকে স্মার্ট ট্রেনের যুগে সৌদি আরব
প্রকাশ:
১১ মে, ২০২৬, ১০:৫৯ দুপুর
নিউজ ডেস্ক |
হজের ইতিহাসে পরিবহনব্যবস্থা সবসময়ই একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ হিসেবে বিবেচিত হয়ে এসেছে। যুগে যুগে প্রযুক্তির পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে হজযাত্রার ধরনেও এসেছে আমূল পরিবর্তন। মরুভূমির উটের কাফেলা থেকে শুরু করে আধুনিক দ্রুতগতির রেল ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ব্যবস্থাপনা—সবকিছুই হজযাত্রীদের যাত্রা সহজ ও নিরাপদ করতে সৌদি আরবের ধারাবাহিক প্রচেষ্টার প্রতিচ্ছবি। প্রাচীনকালে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে মুসলমানরা উট ও ঘোড়ার কাফেলায় হজের উদ্দেশ্যে রওনা হতেন। হাজার হাজার মানুষের এসব কাফেলা নির্ধারিত বিভিন্ন স্টেশনে যাত্রাবিরতি করত, যেখানে পানি ও প্রয়োজনীয় রসদ সংগ্রহ করা হতো। দুর্গম পথ, তীব্র গরম ও প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্য দিয়ে দীর্ঘ এই যাত্রা শেষ করতে অনেক সময় কয়েক মাস লেগে যেত। সে সময় হজ পালন ছিল অত্যন্ত কষ্টসাধ্য ও শ্রমসাপেক্ষ একটি বিষয়। পরবর্তী সময়ে বাষ্পচালিত জাহাজের আবির্ভাব হজযাত্রায় প্রথম বড় পরিবর্তন নিয়ে আসে। এসব জাহাজের মাধ্যমে লোহিত সাগর পাড়ি দিয়ে হাজিরা পৌঁছাতেন জেদ্দা ইসলামিক বন্দরে, যা দীর্ঘদিন ধরে হজযাত্রীদের প্রধান সমুদ্রপথ হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। তবে সবচেয়ে বড় বিপ্লব আসে বেসামরিক বিমান চলাচলের উন্নয়নের মাধ্যমে। আগে যেখানে হজযাত্রায় মাসের পর মাস সময় লাগত, এখন তা কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সম্পন্ন হচ্ছে। বর্তমানে সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলো, বিশেষ করে কিং আবদুলআজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, অত্যাধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত হচ্ছে। সেখানে হাজিদের জন্য রয়েছে বিশেষ লাউঞ্জ, ডিজিটাল প্রসেসিং ও দ্রুত স্থানান্তর সুবিধা। আধুনিক সময়ে সৌদি আরব হজ ব্যবস্থাপনায় একটি সমন্বিত স্মার্ট পরিবহন নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো আল-মাশায়ের আল-মুকাদ্দাসাহ মেট্রো লাইন, যা মিনা, আরাফাত ও মুজদালিফাকে সংযুক্ত করেছে। স্মার্ট প্রযুক্তিনির্ভর এই মেট্রো ব্যবস্থা হজের ব্যস্ততম সময়ে যানজট কমানো এবং হাজিদের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এ ছাড়া হারামাইন হাই-স্পিড রেলওয়ে হজযাত্রীদের জন্য আরেকটি বড় অগ্রগতি। পরিবেশবান্ধব বৈদ্যুতিক এই দ্রুতগতির রেলপথ মক্কা ও মদিনাকে জেদ্দা ও কিং আবদুল্লাহ ইকোনমিক সিটির মাধ্যমে সংযুক্ত করেছে। এই পুরো ব্যবস্থাকে সহায়তা করছে অত্যাধুনিক স্মার্ট বাস বহর। স্বয়ংক্রিয় ট্র্যাকিং ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এসব বাস নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী লাখো হাজির চলাচল সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনা করছে। [হারামাইন আর্কাইভ পেইজ থেকে লেখাটি অনূদিত] জেডএম/ |