কওমি শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষায় নিরাপদ পথ নিশ্চিত করুন
প্রকাশ: ১৭ জুলাই, ২০২৬, ০৬:৫৩ বিকাল
নিউজ ডেস্ক

|| মুফতী মুঈনুল ইসলাম ||

দারুল উলুম দেওবন্দসহ ভারতের অন্যান্য বিখ্যাত ইসলামি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এদেশের অনেক কওমি শিক্ষার্থী উচ্চতর লেখাপড়ার জন্য যান। এমনিভাবে পাকিস্তানের করাচি ও ইসলামাবাদের বেশ কিছু প্রতিষ্ঠানে এ দেশের কওমি শিক্ষার্থীরা উচ্চতর লেখাপড়ার জন্য যাওয়ার প্রচলন অনেক দিন থেকে রয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশে আমাদের শিক্ষার্থীরা উচ্চতর শিক্ষা লাভের জন্য যাওয়ার প্রচলন আছে। বিশেষত মিসরের ঐতিহ্যবাহী আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়, সৌদি আরবের মদিনা বিশ্ববিদ্যালয়, উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয়সহ আরও কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ে আমাদের কওমি শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন যাবত পড়ালেখা করে আসছেন। ইদানীং দক্ষিণ আফ্রিকার জামিয়া জাকারিয়ার ইলমি প্রাঙ্গণেও কিছু শিক্ষার্থী যাওয়ার প্রচলন চালু হয়েছে।

উল্লিখিত দেশ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা একান্ত ব্যক্তিগত উদ্যোগে পড়ালেখা করতে যাচ্ছেন। প্রাতিষ্ঠানিক ও রাষ্ট্রীয়ভাবে উল্লিখিত বিশ্ববিদ্যালয়সমূহে পড়ালেখা করার ব্যাপারে নিয়মতান্ত্রিক ব্যবস্থাপনা ও সিস্টেম না থাকায় সেসব দেশে যাওয়ার প্রক্রিয়া করতে শিক্ষার্থীদেরকে নানা রকম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। এমনকি কখনো স্টুডেন্ট ভিসা পাওয়াও অনেক কঠিন ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়ে যায়।

সময় অনেক পেরিয়েছে। রাষ্ট্রীয়ভাবেও আমাদের কাজ করার সুযোগ তৈরি হয়েছে। অতএব, এ ব্যাপারে বেফাক ও হাইয়াতুল উলিয়াসহ অন্যান্য কওমি বোর্ডসমূহের উদ্যোগ নেওয়া দরকার। ইন্ডিয়া, পাকিস্তান, সৌদি, আরব ও মিসরের নির্বাচিত কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের সাথে পারস্পরিক চুক্তি ও সরকারি সুবিধাদির বোর্ডভিত্তিক আয়োজন করা এখন খুব প্রয়োজন।

এতে করে ইসলামি শিক্ষার ক্ষেত্রে উৎকর্ষ বৃদ্ধি পাবে।  সাথে সাথে শিক্ষার্থীদের অভিজ্ঞতা অর্জন, মেধার বিকাশ ও গবেষণার ময়দান উন্মুক্ত হবে।

আশা করি  বেফাক ও হাইয়াতুল উলিয়াসহ অন্যান্য কওমি বোর্ড কর্তৃপক্ষ বিষয়টিকে সদয় বিবেচনায় নেবেন। আমাদের মুরব্বিয়ানে কেরামের সুস্থতা, নেক হায়াত ও সর্বাঙ্গীণ কল্যাণ কামনা করছি। শুভ কামনা অবিরাম হজরতবৃন্দ। ধন্যবাদ জাযাকুমুল্লাহু খাইরান।

লেখক: প্রিন্সিপাল ও রেক্টর, জামিয়া ইসলামিয়া ঢাকা; বহু গ্রন্থপ্রণেতা

আইও/