
|
ভারতে মুসলিমদের বিরুদ্ধে ঘৃণাজনিত অপরাধের ৯৮ শতাংশই বিজেপিশাসিত রাজ্যে!
প্রকাশ:
২৬ মে, ২০২৬, ০৮:৩৩ সকাল
নিউজ ডেস্ক |
ভারতে মুসলিমদের বিরুদ্ধে ঘৃণাজনিত অপরাধ আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছে মুসলিম মিরর। সংবাদ মাধ্যমটির প্রকাশিত ‘মাসিক হেট ক্রাইম ট্র্যাকার’ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসে নথিভুক্ত মুসলিমবিরোধী ঘৃণাজনিত অপরাধের প্রায় ৯৮ শতাংশই ঘটেছে বিজেপিশাসিত রাজ্যগুলোতে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, এপ্রিলজুড়ে দেশটির বিভিন্ন স্থানে মুসলিমদের লক্ষ্য করে হামলা, হুমকি, ধর্মীয় বিদ্বেষমূলক প্রচারণা, শারীরিক নির্যাতন, সামাজিক বয়কট এবং সম্পত্তিতে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনার বড় অংশ সংঘটিত হয়েছে উত্তর প্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ, গুজরাট, আসাম, মহারাষ্ট্র ও হরিয়ানার মতো বিজেপি-শাসিত অঞ্চলে। মুসলিম মিররের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, বেশ কয়েকটি ঘটনায় ধর্মীয় পরিচয়কে কেন্দ্র করে মুসলিম ব্যক্তিদের প্রকাশ্যে অপদস্থ করা হয়েছে। কোথাও গরু জবাইয়ের অভিযোগে হামলা, কোথাও আন্তঃধর্মীয় সম্পর্কের অভিযোগ, আবার কোথাও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ধর্মীয় বিদ্বেষ ছড়ানোর মাধ্যমে উত্তেজনা সৃষ্টি করা হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে মসজিদ, মুসলিম মালিকানাধীন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও বসতবাড়িও হামলার শিকার হয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়। রিপোর্টে আরও বলা হয়, কিছু ঘটনায় উগ্র হিন্দুত্ববাদী গোষ্ঠীগুলোর সরাসরি সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছে। পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা না নেওয়ার বিষয়টিও উদ্বেগের কারণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর অভিযোগ, অনেক ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীদের উল্টো হয়রানির মুখোমুখি হতে হয়েছে। প্রতিবেদনটি সতর্ক করে বলেছে, ধারাবাহিকভাবে এ ধরনের বিদ্বেষমূলক ঘটনা ভারতের সামাজিক সম্প্রীতি, ধর্মীয় সহাবস্থান ও সংখ্যালঘু নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠছে। একইসঙ্গে রাজনৈতিক বক্তব্য ও নির্বাচনী প্রচারণায় ধর্মীয় মেরুকরণ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে বলেও মন্তব্য করা হয়। মানবাধিকারকর্মী ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা মুসলিমদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারগুলোর কার্যকর পদক্ষেপ দাবি করেছেন। তারা ঘৃণাজনিত অপরাধ মোকাবিলায় কঠোর আইন প্রয়োগ, দায়ীদের বিচার এবং ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষায় রাজনৈতিক সদিচ্ছার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তবে বিষয়টি নিয়ে এখন পর্যন্ত ভারতের ক্ষমতাসীন দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) বা সংশ্লিষ্ট রাজ্য সরকারগুলোর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। সূত্র: মুসলিম মিরর জেডএম/ |