
|
আমরা ঘৃণার ঝড়ের মধ্যে ভালোবাসার প্রদীপ জ্বালাতে চাই: মাওলানা আরশাদ মাদানী
প্রকাশ:
১৯ জুলাই, ২০২৬, ০৮:২৮ সকাল
নিউজ ডেস্ক |
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভারতের উত্তর প্রদেশের রাজধানী লখনৌয়ে জমিয়তে উলামায়ে উত্তর প্রদেশের উদ্যোগে ‘সাম্প্রদায়িকতা ও ঘৃণার বিরুদ্ধে হিন্দু-মুসলিম ঐক্য সম্মেলন’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (১৮ জুলাই) অটল বিহারী বাজপেয়ী সায়েন্টিফিক কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত এ সম্মেলনে বিভিন্ন ধর্মের ধর্মীয় নেতা, শিক্ষাবিদ, সমাজকর্মী ও আইনজীবীরা অংশ নেন। সম্মেলনে সভাপতির বক্তব্য দেন জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের সভাপতি মাওলানা আরশাদ মাদানী। এছাড়া বক্তব্য দেন বারাণসীর সংকট মোচন হনুমান মন্দিরের মহন্ত ড. বিশ্বম্ভর নাথ মিশ্র, ভারতের সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ইন্দিরা জয়সিংহসহ বিভিন্ন ধর্ম ও পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। সভাপতির বক্তব্যে মাওলানা আরশাদ মাদানী বলেন, ভারতের বর্তমান রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি গভীর উদ্বেগের বিষয়। একসময় সাম্প্রদায়িক শক্তির লক্ষ্যবস্তু ছিল শুধু মুসলমানরা, কিন্তু গত কয়েক বছরে ঘৃণার রাজনীতির কারণে ইসলামকেও টার্গেট করা হচ্ছে। এর ফলে দেশ এমন এক সংকটময় অবস্থায় পৌঁছেছে, যেখানে ভবিষ্যতের পথ অস্পষ্ট হয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, এই সম্মেলন কেবল একটি অনুষ্ঠান নয়, বরং দেশব্যাপী সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য প্রতিষ্ঠার একটি আন্দোলনের সূচনা। ন্যায়বিচার ও মানবিক মূল্যবোধে বিশ্বাসী সব ধর্মের মানুষকে একত্রিত করেই এ পরিবেশ পরিবর্তন করতে হবে। মাওলানা মাদানী বলেন, আমরা ঘৃণার ঝড়ের মধ্যে ভালোবাসার প্রদীপ জ্বালাতে চাই। এই পথ কঠিন হতে পারে, কিন্তু অসম্ভব নয়। তিনি স্পষ্ট করেন, জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ একটি ধর্মীয় সংগঠন; এর সঙ্গে দলীয় রাজনীতির কোনো সম্পর্ক নেই। সংগঠনটি নির্বাচন করে না এবং কাউকে নির্বাচনে অংশগ্রহণও করায় না। বরং তাদের লক্ষ্য হলো দেশে ঐক্য, ভ্রাতৃত্ব ও পারস্পরিক আস্থার পরিবেশ গড়ে তোলা। তিনি বলেন, স্বাধীনতার আগে এবং পরেও জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ হিন্দু-মুসলিম সম্প্রীতি জোরদারে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। কেরালা ও পাঞ্জাবের বন্যাদুর্গতদের সহায়তা, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জন্য ঘর নির্মাণ এবং আসামে এনআরসি প্রক্রিয়ার সময় প্রায় ৪০ লাখ নারীর নাগরিকত্বের প্রশ্নে সুপ্রিম কোর্টে আইনি লড়াইয়ের উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, সংগঠনটি সবসময় ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানবতার সেবায় কাজ করেছে। মাওলানা মাদানী দিল্লিতে শিক্ষার্থীদের সাম্প্রতিক আন্দোলনের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বারবার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় লাখো শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে পড়ছে। তাই এমন দুর্বল ও অকার্যকর ব্যবস্থার সংস্কার জরুরি, যেখানে পরীক্ষার প্রশ্নপত্রও নিরাপদ রাখা সম্ভব হয় না। তিনি মুহাম্মদ আলী জওহর বিশ্ববিদ্যালয় প্রসঙ্গেও বক্তব্য দেন। তাঁর মতে, কোনো ভবন অনুমোদিত নকশা ছাড়া নির্মিত হয়ে থাকলে আইন অনুযায়ী জরিমানা করা যেতে পারে, কিন্তু পুরো ভবন গুঁড়িয়ে দেওয়া যুক্তিসঙ্গত নয়। এতে হাজারো শিক্ষার্থীর শিক্ষা ও ভবিষ্যৎ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বক্তব্যের শেষাংশে তিনি অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে ঘৃণার রাজনীতির কারণে একটি বিশেষ সম্প্রদায়কে প্রতিটি ঘটনার জন্য দায়ী করার প্রবণতা তৈরি হয়েছে। এ ধরনের মানসিকতা দেশের সামাজিক সম্প্রীতি ও গণতান্ত্রিক পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর বলে তিনি মন্তব্য করেন। সম্মেলনে বক্তারা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ এবং সাংবিধানিক মূল্যবোধ রক্ষায় সব ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। সূত্র: মিল্লাত টাইমস উর্দু আওয়ার ইসলাম/জেডএম |