
|
দুই সেনা নিহতের জেরে ইরানে ফের হামলা যুক্তরাষ্ট্রের
প্রকাশ:
১৯ জুলাই, ২০২৬, ০৯:৫৮ সকাল
নিউজ ডেস্ক |
ইরানের হামলায় দুই মার্কিন সেনা নিহত ও একজন নিখোঁজ হওয়ার ঘটনার পর ইরানের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় নতুন করে বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। শনিবার (স্থানীয় সময়) প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে এ হামলা চালানো হয় বলে জানিয়েছে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। সেন্টকমের এক বিবৃতিতে বলা হয়, হামলার লক্ষ্য ছিল হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে হুমকি দেওয়ার সক্ষমতা দুর্বল করা এবং জর্ডানে মার্কিন সেনাদের ওপর হামলায় জড়িত ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-কে দ্রুত জবাব দেওয়া। তবে হামলার লক্ষ্যবস্তু সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হয়নি। অন্যদিকে, ইরানের মেহর বার্তা সংস্থা জানিয়েছে, দক্ষিণাঞ্চলের সিরিক এলাকার কাছে যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালালেও এতে কোনো হতাহত বা অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।এক মাস আগে হওয়া অন্তর্বর্তী যুদ্ধবিরতি চুক্তি গত সপ্তাহে ভেঙে পড়ার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হামলা-পাল্টা হামলা বেড়েছে। এতে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ আবারও শুরু হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সেন্টকম জানায়, শুক্রবারের হামলায় দুই মার্কিন সেনা নিহত এবং একজন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। এ নিয়ে চলমান সংঘাতে নিহত মার্কিন সেনার সংখ্যা বেড়ে ১৬ জনে দাঁড়িয়েছে। আহত হয়েছেন ৪২০ জনের বেশি।মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে নিহত সেনাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, তাদের আত্মত্যাগ যুক্তরাষ্ট্রের সংকল্প আরও দৃঢ় করবে। এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক হামলার পর ইরান কুয়েত, বাহরাইন, জর্ডান এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোর বিভিন্ন স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হয়েছে। কুয়েতের সশস্ত্র বাহিনী জানিয়েছে, তারা একাধিক ইরানি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ভূপাতিত করেছে। হামলার সময় উদ্ধারকাজে অংশ নেওয়া কয়েকজন দমকলকর্মী আহত হন। ইরানের আইআরজিসি দাবি করেছে, তারা কুয়েতের ক্যাম্প আরিফজানে অবস্থিত একটি মার্কিন সামরিক সহায়তা কেন্দ্র এবং আলি আল সালেম বিমানঘাঁটির একটি রাডার স্থাপনা ধ্বংস করেছে। ইরানি গণমাধ্যম আরও দাবি করেছে, বাহরাইনের শেখ ইসা বিমানঘাঁটি এবং জর্ডানের আল আজরাকে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিতেও ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। এদিকে, সৌদি আরবের আল-খারজ ও ইয়ানবু অঞ্চলে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। আল-খারজে মার্কিন সেনা অবস্থানরত একটি সামরিক ঘাঁটি এবং ইয়ানবুতে গুরুত্বপূর্ণ তেল রপ্তানি টার্মিনাল রয়েছে। যদিও সৌদি কর্তৃপক্ষ সতর্কতা জারির কারণ আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়নি। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি এক বিবৃতিতে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত আরও বাড়ানোর চেষ্টা করছে এবং এর মূল্য তাদের চুকাতে হবে। তিনি অভিযোগ করেন, যুদ্ধবিরতি চুক্তি বারবার লঙ্ঘনের মাধ্যমে ওয়াশিংটন প্রমাণ করেছে যে ট্রাম্পের স্বাক্ষরের কোনো বিশ্বাসযোগ্যতা নেই। অন্যদিকে, ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই অভিযোগ করেন, বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল পরিবহনের পথ হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার লক্ষ্যেই যুক্তরাষ্ট্র সামরিক অভিযান চালাচ্ছে। এদিকে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) এবং উপসাগরীয় দেশগুলো এক যৌথ বিবৃতিতে ইরানকে অবিলম্বে সব ধরনের হামলা বন্ধ এবং হরমুজ প্রণালিতে বাধাহীন নৌ চলাচল নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে। সূত্র: রয়টার্স |