‘ঈদযাত্রা সন্তোষজনক, নির্ধারিত ভাড়ায় যাত্রীরা গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছেন’ 
প্রকাশ: ২৭ মে, ২০২৬, ০২:৫৪ দুপুর
নিউজ ডেস্ক

সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, দেড় কোটি মানুষের ঈদযাত্রা এবং প্রায় ৮০ লাখ কোরবানির পশু পরিবহনের মতো বিশাল চাপের মধ্যেও দেশের সার্বিক পরিবহন ব্যবস্থাপনা সন্তোষজনকভাবে পরিচালিত হচ্ছে। নির্ধারিত ভাড়ায় যাত্রীরা গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছেন এবং বড় কোনো বিশৃঙ্খলা ছাড়াই ঈদযাত্রা স্বাভাবিকভাবে এগিয়ে চলছে।

বুধবার (২৭ মে) রাজধানীর মহাখালী বাস টার্মিনাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এমন মন্তব্য করেন।

সড়ক পরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, ঈদ উপলক্ষে বিপুল সংখ্যক মানুষের একসঙ্গে ঢাকা ছাড়ার কারণে সড়ক, রেল ও নৌপথে চাপ তৈরি হয়েছে। তবে সরকার সার্বক্ষণিকভাবে পরিস্থিতি মনিটরিং করছে। বিআরটিএ-এর কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে নিয়মিতভাবে পরিবহন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। কোথাও অনিয়ম পাওয়া গেলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। সব চ্যালেঞ্জ মাথায় নিয়েও আমরা চেষ্টা করছি একটি সাবলীল ঈদযাত্রা নিশ্চিত করতে। এখন পর্যন্ত পরিস্থিতি মোটামুটি সন্তোষজনক।

মন্ত্রী আরও বলেন, ঢাকা থেকে দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে দেড় কোটি মানুষ বিভিন্ন জেলায় যাত্রা করছে, যা একটি বড় ধরনের ব্যবস্থাপনা চ্যালেঞ্জ। একই সময়ে প্রায় ৮০ লাখ কোরবানিযোগ্য পশুর পরিবহনও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে হচ্ছে। পরিবহন খাতের সীমিত সক্ষমতার মধ্যেও যাত্রীসেবায় সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হয়েছে। অধিকাংশ যাত্রীই নির্ধারিত ভাড়ায় গন্তব্যে যেতে পারছেন। তবে কিছু কিছু জায়গায় অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগও পাওয়া যাচ্ছে, যা মনিটরিংয়ের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণে আনা হচ্ছে।

যমুনা সেতুর আগে চন্দ্রা এলাকায় যানজট প্রসঙ্গে সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, ওই অংশে কিছুটা ধীরগতি থাকলেও এটি স্বাভাবিক পরিস্থিতি। কারণ সাত লেনের যানবাহন দুই লেনে প্রবেশ করায় সেখানে চাপ তৈরি হয়। তবে এটি ব্যবস্থাপনার কোনো বড় ত্রুটি নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি। তার মতে, বড় ধরনের চাপের সময় এ ধরনের ধীরগতি স্বাভাবিকভাবেই তৈরি হয়, যা ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়ে আসে। 

তিনি বলেন, ঈদযাত্রায় সড়ক, রেল ও নৌপথে সমন্বিতভাবে কাজ করা হচ্ছে, যাতে যাত্রীদের ভোগান্তি সর্বনিম্ন রাখা যায়।

রেলপথে বিশেষ ব্যবস্থার কথা উল্লেখ করে রেলপথমন্ত্রী বলেন, নারীদের জন্য কয়েকটি আন্তঃনগর ট্রেনে আলাদা কোচ সংযোজন করা হয়েছে। ঢাকা-সিলেট, ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-ময়মনসিংহ রুটে এই সুবিধা চালু করা হয়েছে। তবে সব ট্রেনে তা সম্ভব হয়নি, কারণ আগেই অধিকাংশ টিকিট বিক্রি হয়ে গেছে এবং পর্যাপ্ত কোচের সীমাবদ্ধতা রয়েছে। ঈদ উপলক্ষে অতিরিক্ত ৫১টি কোচ সংযুক্ত করা হয়েছে। নৌপথেও অতিরিক্ত নজরদারি রাখা হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

এ সময় উত্তরার দিয়াবাড়িতে মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে পশুর হাট বসানো নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে পশুর হাট বসানোর কোনো সিদ্ধান্ত ছিল না। বিষয়টি সিটি করপোরেশনের এখতিয়ার বলে তিনি মন্তব্য করেন। যারা ইজারা দিয়েছে বা অর্থ নিয়েছে, দায় তাদের ওপরই বর্তায় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

আইও/