
|
নারীর সঙ্গে জামায়াত এমপির ভাইরাল ভিডিও ঘিরে তোলপাড়
প্রকাশ:
২১ জুলাই, ২০২৬, ০৩:২৮ দুপুর
নিউজ ডেস্ক |
নিজস্ব প্রতিবেদক সাতক্ষীরা-৪ (শ্যামনগর-কালীগঞ্জ আংশিক) আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য ও দলের কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরা সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ভিডিওটি প্রকাশের পর প্রথমে দলীয় পর্যায় থেকে এটিকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি বলে দাবি করা হলেও পরে নিজেই ফেসবুক পোস্টে ভিডিওতে থাকা তরুণীকে তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী বলে উল্লেখ করেন এমপি। একই সঙ্গে তিনি পুরো ঘটনাকে পরিকল্পিত ব্ল্যাকমেইল, চাঁদাবাজি ও চরিত্রহননের ষড়যন্ত্র বলে দাবি করেছেন। সোমবার (২০ জুলাই) রাত থেকে ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওর বিভিন্ন অংশে একটি কক্ষে গাজী নজরুল ইসলামকে এক তরুণীর সঙ্গে ব্যক্তিগত ও ঘনিষ্ঠ অবস্থায় দেখা যায়। ভিডিও প্রকাশের পরপরই এটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয় এবং বিভিন্ন মহলে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়। ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের মিডিয়া সেল-সংশ্লিষ্ট প্ল্যাটফর্ম ‘ক্রাইম বার্তা’সহ দলীয় নেতাকর্মীদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, ভিডিওটি এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে এবং এটি একটি অপপ্রচার। তবে পরবর্তীতে তথ্য যাচাইকারী প্রতিষ্ঠান ‘বেঙ্গল লেন্স’ ভিডিওটি বিশ্লেষণ করে এটিকে এআই-নির্মিত নয়, বরং প্রকৃত ভিডিও বলে দাবি করে। এ নিয়ে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়। বিতর্কের মধ্যেই মঙ্গলবার দুপুরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দীর্ঘ এক বিবৃতি দেন গাজী নজরুল ইসলাম। সেখানে তিনি জানান, ভিডিওতে থাকা তরুণীর নাম মরিয়ম বেগম এবং তিনি তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী। তাঁর দাবি, গত ১৭ জুন ২০২৬ সালে পারিবারিকভাবে এবং প্রথম স্ত্রীর সম্মতিতে রাজধানীর মগবাজারে মরিয়ম বেগমের পিতা মো. মাসুম বিল্লাহর বাসভবনে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়। এমপি জানান, গত ১৩ জুলাই তিনি তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকছুদা বেগম, দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম বেগম এবং গাড়িচালক ওবায়দুল্লাহকে নিয়ে মগবাজারে দ্বিতীয় স্ত্রীর বাবার ব্যবসায়িক কার্যালয়ে যান। সেখানে অবস্থানকালে চালক ওবায়দুল্লাহ গাড়ি দেখার কথা বলে বাইরে গিয়ে ৫ থেকে ৭ জন অপরিচিত ব্যক্তিকে নিয়ে অফিসে প্রবেশ করেন। তাদের জিম্মি করে প্রথমে এক লাখ টাকা আদায় করা হয়। পরে তাঁর ব্যবহৃত ভাড়াকৃত গাড়িও আটকে রেখে কয়েক দফায় আরও কয়েক লাখ টাকা দাবি করা হয়। গাজী নজরুল ইসলামের অভিযোগ, চালক ওবায়দুল্লাহ সম্পর্কে তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রীর মামা। দ্বিতীয় স্ত্রীর বাবা মাসুম বিল্লাহর সঙ্গে ওবায়দুল্লাহর পূর্বশত্রুতা ও পারিবারিক বিরোধের জের ধরেই পুরো ঘটনা সাজানো হয়েছে। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাঁদের সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার হুমকি দেওয়া হয়। তিনি আরও দাবি করেন, পরবর্তীতে ব্যক্তিগত ও ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের ভিডিও ধারণ করে তা ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ভিডিওটিকে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক হিসেবে প্রচার করা হচ্ছে, যা সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে তিনি উল্লেখ করেন। বিবৃতিতে গাজী নজরুল ইসলাম বলেন, যারা তাঁর ব্যক্তিগত গোপনীয়তা, সামাজিক মর্যাদা ও নৈতিক চরিত্র ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে এই ষড়যন্ত্র করেছে, তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। অন্যদিকে, ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর প্রথমে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে অনাগ্রহ প্রকাশ করেন গাজী নজরুল ইসলাম। পরে ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমেই নিজের অবস্থান তুলে ধরেন। সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো লিখিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এদিকে ভিডিওটি রাজধানীর মগবাজারের একটি অফিসের সিসিটিভি ফুটেজ থেকে ছড়িয়ে পড়েছে বলে জামায়াতের স্থানীয় নেতাদের পক্ষ থেকে দাবি করা হলেও সেই দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। পুরো ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। একদিকে এমপির দ্বিতীয় বিয়ের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে, অন্যদিকে ভিডিও ফাঁস, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘন, কথিত ব্ল্যাকমেইল ও চাঁদাবাজির অভিযোগ নিয়েও নানা প্রশ্ন উঠেছে। এ ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়নি। ভিডিও ধারণ, ফাঁস এবং চাঁদাবাজির অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের পরই প্রকৃত ঘটনা স্পষ্ট হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। আইও/ |