তানযীমুল মাদারিসের ৩৩তম মারকাযী পরীক্ষা জানুয়ারিতে
প্রকাশ: ২২ জুলাই, ২০২৬, ১১:৩৬ দুপুর
নিউজ ডেস্ক

নিজস্ব প্রতিবেদক:

তানযীমুল মাদারিসিদ দ্বীনিয়া বাংলাদেশ (কওমি মাদরাসা শিক্ষাবোর্ড বাংলাদেশ) ১৪৪৮ হিজরি/১৪৩৩ বঙ্গাব্দ/২০২৭ শিক্ষাবর্ষের ৩৩তম মারকাযী ইমতিহানের সময়সূচি ও পরীক্ষা-সংক্রান্ত বিভিন্ন নির্দেশনা প্রকাশ করেছে।

গত ২২ মহররম ১৪৪৮ হিজরি (৮ জুলাই ২০২৬) অনুষ্ঠিত শুরা বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। ঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী আগামী ১২ জানুয়ারি ২০২৭ (৩ শাবান ১৪৪৮ হিজরি) থেকে পরীক্ষা শুরু হবে।

প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, মকতব, হিফজ সবকী ও হিফজ খতমী বিভাগের পরীক্ষা শুরু হবে ১২ জানুয়ারি ২০২৭ (মঙ্গলবার)। অন্যদিকে কিতাব বিভাগের জামাআতে উলা (মিশকাত)-এর পরীক্ষা শুরু হবে ১৪ জানুয়ারি ২০২৭ (বৃহস্পতিবার) এবং অন্যান্য জামাআতের পরীক্ষা শুরু হবে ১৫ জানুয়ারি ২০২৭ (শুক্রবার)।

সব বিভাগের পরীক্ষা ২১ জানুয়ারি ২০২৭ (বৃহস্পতিবার) শেষ হবে। বোর্ড জানিয়েছে, আরবি ও ইংরেজি তারিখের মধ্যে কোনো অমিল দেখা দিলে ইংরেজি তারিখই চূড়ান্ত হিসেবে গণ্য হবে।

ফরম জমার সময়সীমা

পরীক্ষার ফরম জমা দেওয়ার শেষ তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ (রবিবার)। তবে জনপ্রতি ১০০ টাকা বিলম্ব ফি প্রদান সাপেক্ষে ৭ অক্টোবর ২০২৬ (বুধবার) পর্যন্ত ফরম জমা দেওয়া যাবে। এর পর আর কোনো ফরম গ্রহণ করা হবে না বলে বোর্ড স্পষ্টভাবে জানিয়েছে।

যেসব বিভাগে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে

৩৩তম মারকাযী পরীক্ষায় মকতব, হিফজ, হিফজ খতমী ও কিতাব বিভাগে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

কিতাব বিভাগের অন্তর্ভুক্ত জামাআতগুলো হলো—

জামাআতে উলা (মিশকাত)

জামাআতে চাহারম

জামাআতে শশম

জামাআতে হাশতম

জামাআতে নহম

জামাআতে দহম

মকতব ও হিফজ বিভাগের পরীক্ষার নিয়ম

বোর্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী, মকতব বিভাগে ১০, ২০ ও ৩০ পারা—এই তিনটি গ্রুপে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। আর হিফজ বিভাগে থাকবে ১০, ২০ ও ২৯ পারা গ্রুপ। হিফজ খতমী বিভাগে ১ থেকে ৩০ পারা পর্যন্ত সম্পূর্ণ কুরআনের ওপর একক গ্রুপে পরীক্ষা নেওয়া হবে।

এছাড়া প্রতিটি গ্রুপের জন্য নির্ধারিত ন্যূনতম মুখস্থের শর্তও নির্ধারণ করা হয়েছে। বোর্ড জানিয়েছে, এসব মুখস্থ অংশ যথাসম্ভব আমপারা ব্যতীত হওয়া বাঞ্ছনীয়।

পরীক্ষার ফি

কিতাব বিভাগের পরীক্ষার্থীদের জন্য ফি নির্ধারণ করা হয়েছে—

জামাআতে উলা: ৫০০ টাকা

জামাআতে চাহারম: ৪৫০ টাকা

জামাআতে শশম: ৪০০ টাকা

জামাআতে হাশতম: ৩৫০ টাকা

জামাআতে নহম: ৩২০ টাকা

জামাআতে দহম: ৩০০ টাকা

অন্যদিকে মকতব বিভাগের ফি ২০০ টাকা, হিফজ বিভাগের ২৫০ টাকা এবং হিফজ খতমী বিভাগের ৩৫০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

মাদরাসার বার্ষিক ফি

বোর্ড মাদরাসার স্তরভেদে বার্ষিক ফিও নির্ধারণ করেছে। দাওরায়ে হাদিস ও মিশকাত পর্যন্ত মাদরাসার জন্য ২ হাজার টাকা, হেদায়া ও শরহে বেকায়া পর্যন্ত ১ হাজার ২০০ টাকা, শরহে জামী ও কাফিয়া পর্যন্ত ১ হাজার টাকা, হেদায়াতুন্নাহু ও নাহবেমীর পর্যন্ত ৮০০ টাকা, মিযান পর্যন্ত ৭০০ টাকা এবং ফার্সি পহলী, উর্দুখানা, মকতব ও হিফজ পর্যন্ত মাদরাসার জন্য ৫০০ টাকা বার্ষিক ফি নির্ধারণ করা হয়েছে।

তানযীমুল মাদারিসিদ দ্বীনিয়া বাংলাদেশ সংশ্লিষ্ট সকল মাদরাসা কর্তৃপক্ষকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পরীক্ষার ফরম পূরণ ও প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করার আহ্বান জানিয়েছে।

আওয়ার ইসলাম/জেডএম