মাদরাসাবিরোধী একপাক্ষিক প্রচারণা বন্ধ ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার আহ্বান
প্রকাশ: ২৮ জুলাই, ২০২৬, ১২:১২ দুপুর
নিউজ ডেস্ক

নিজস্ব প্রতিবেদক:

দেশে সাম্প্রতিক সময়ে সংঘটিত কয়েকটি বিচ্ছিন্ন ঘটনাকে কেন্দ্র করে মাদরাসা শিক্ষাব্যবস্থার বিরুদ্ধে একপাক্ষিক, অতিরঞ্জিত ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারণায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ মাদরাসা সংরক্ষণ পরিষদ।

সংগঠনের সভাপতি শায়েখ আব্দুল হক, সিনিয়র সহসভাপতি শায়েখ নেছার আহমাদ নাছিরী, সেক্রেটারি শায়েখ সা'দ সাইফুল্লাহ মাদানী এবং সাংগঠনিক সম্পাদক মুফতি আব্দুল কাইয়ুম মোল্লা যৌথভাবে এই বিবৃতি দিয়েছেন।

সংগঠনটির নেতৃবৃন্দ বলেন, কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানে অপরাধ সংঘটিত হলে তার নিরপেক্ষ তদন্ত, দৃষ্টান্তমূলক বিচার এবং অপরাধীর শাস্তি নিশ্চিত হওয়া জরুরি। তবে বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনার দায় সমগ্র মাদরাসা শিক্ষাব্যবস্থার ওপর চাপিয়ে দিয়ে কোটি মানুষের আস্থার এ প্রতিষ্ঠানকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এটি সত্যনিষ্ঠ ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার নীতির সঙ্গেও সাংঘর্ষিক।

নেতৃবৃন্দ দেশের গণমাধ্যমের প্রতি তথ্য যাচাই করে বস্তুনিষ্ঠ, ভারসাম্যপূর্ণ ও দায়িত্বশীল সংবাদ প্রকাশের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে দেশের সকল মাদরাসার মুহতামিম, পরিচালক ও শিক্ষকবৃন্দের প্রতি নিম্নোক্ত সাত দফা আহ্বান জানানো হয়—

১. প্রতিটি মাদরাসাকে একটি নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও আদর্শ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলুন। গুরুত্বপূর্ণ স্থানসমূহ সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় এনে সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করুন।

২. শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগে নৈতিকতা, যোগ্যতা ও বিশ্বস্ততাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিন। কোনো শিক্ষক বা কর্মচারীর বিরুদ্ধে নির্ভরযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে গুরুতর অপরাধ প্রমাণিত হলে তাকে দেশব্যাপী বয়কটের নীতিতে অটল থাকার পাশাপাশি প্রয়োজনে তার পরিচয় প্রকাশ করা হবে, যাতে তিনি অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব গ্রহণ করতে না পারেন।

৩. শিক্ষক ও স্টাফদের নৈতিকতা, শিক্ষাদান পদ্ধতি, শিক্ষার্থী ব্যবস্থাপনা এবং শিশু সুরক্ষা বিষয়ে নিয়মিত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করুন। বাংলাদেশ মাদরাসা সংরক্ষণ পরিষদ এ বিষয়ে প্রশিক্ষণ কর্মসূচির আয়োজন করবে এবং সকল মাদরাসাকে এতে অংশগ্রহণের আহ্বান জানাচ্ছে।

৪. স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, দায়িত্বশীল সাংবাদিক ও সচেতন সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে ইতিবাচক সম্পর্ক বজায় রাখুন এবং মাদরাসার নিরাপত্তা ও শিক্ষার মানোন্নয়নে তাদের গঠনমূলক পরামর্শ গ্রহণ করুন।

৫. শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের অভিযোগ, পরামর্শ ও সমস্যার কথা নিরাপদে জানানোর কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তুলুন, যাতে তারা ভয় বা সংকোচ ছাড়াই বিষয়গুলো কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপন করতে পারে এবং সেগুলো যথাযথ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচিত হয়।

৬. শিক্ষার্থীদের বয়স ও মানসিক পরিপক্বতা বিবেচনায় শ্রেণি ও আবাসনের ব্যবস্থা করুন। ছোট ও বড় শিক্ষার্থীদের অনুপযুক্তভাবে একসঙ্গে না রাখার বিষয়ে সতর্ক থাকুন। কোনো শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে অস্বাভাবিক আচরণের অভিযোগ পাওয়া গেলে দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করুন।

৭. শিক্ষার্থীদের প্রতি সদাচরণ, সহমর্মিতা ও মানবিক আচরণ নিশ্চিত করুন। শাসনের নামে কোনো ধরনের অপমান, নির্যাতন বা অমানবিক আচরণ থেকে বিরত থাকুন এবং শিক্ষার্থীদের মানসিক সুস্থতার প্রতিও সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিন।

নেতৃবৃন্দ বলেন, নিরাপদ, পরিচ্ছন্ন, জবাবদিহিমূলক ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশসম্পন্ন মাদরাসা গড়ে তোলার মাধ্যমেই সমাজে মাদরাসা শিক্ষার মর্যাদা, গ্রহণযোগ্যতা ও মানুষের আস্থা আরও সুদৃঢ় হবে, ইনশাআল্লাহ।