
|
কওমি শিক্ষাধারায় যে সংকট বাড়ছে
প্রকাশ:
১৪ জুন, ২০২৬, ০৩:৪৪ দুপুর
নিউজ ডেস্ক |
|| যুবায়ের আহমাদ || কওমি মাদরাসাগুলোতে লেখাপড়ার উন্নতি হচ্ছে, অনেক কওমি মাদরাসায় আরবির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। কওমি আলেমদের তত্ত্বাবধানে বাংলা-ইংরেজি সমন্বিত মানসম্মত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে উঠছে৷ কিন্তু বেদনার বিষয়, স্কুল-কলেজে তো অনেক আগেই শেষ, মাদরাসাগুলোতেও এখন আখলাকের ব্যাপক ঘাটতি। লেখাপড়ার মানোন্নয়নের পাশাপাশি আখলাকের মানোন্নয়নে আমাদের চেষ্টা কম। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মানুষকে শুধু ইলম ও ইবাদাত শেখাননি, শিখিয়েছেন সুন্দর আখলাকও। সত্যবাদিতা, আমানতদারিতা, লেনদেন, কথাবার্তা, পরোপকার, আচার-আচরণ সব শিখিয়ে সাহাবায়ে কেরাম রিদওয়ানুল্লাহি আলাইহিম আজমাঈনকে তিলতিল করে সোনার মানুষ হিসেবে গড়ে তুলেছিলেন। ওই মানুষগুলোই গড়েছিলেন সোনার সমাজ। সমাজকে আলোকিত করতে হলে সেই সোনার মানুষ প্রয়োজন। মাদরাসাগুলো ইলমে নববী যেমন পড়ায়, সেই ইলমে নববীর আখলাকও গড়ে দিয়ে প্র্যাক্টিক্যাল মুসলিম হিসেবে গড়ে দেবার বিষয়ে গুরুত্ব দিলেই এ শিক্ষা ব্যবস্থা আরো স্বার্থক হবে। আরেকটা বিষয় হলো, আগে কওমি মাদরাসাগুলোতে এত বিল্ডিং ছিল না রাতে কান্নাকাটি, আল্লাহর কাছে চাওয়ার বিষয়টি ছিল। এখন বিল্ডিং আছে, সেই কান্নাকাটি নেই। আল্লাহর কাছে চাওয়ার সেই জায়গাটায় ফেরানো দরকার। একটা সময় ছিল, দরিদ্র ছাত্ররা উস্তাদদের কাছে থাকত। বিকল্প অবলম্বন ছিল না৷ উস্তাদগণ হাতেকলমে গড়ে দেবার স্বাধীনতা পেতেন। আজকাল ছাত্ররাও নিজেদের ওভাবে নরম কাদামাটির মতো উস্তদাযের কাছে নিজেদের পেশ করতে পারছে না বলে অরেকেই 'যোগ্যতাসম্পন্ন' হচ্ছে, কিন্তু সুন্দর আখলাকের অধিকারী সোনার মানুষ হচ্ছে না৷ লেখক: কলামিস্ট, খতিব ও চিন্তক আইও |