ময়মনসিংহে মিলল ৫ বছরের শিশুর লাশ, ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ 
প্রকাশ: ১৫ জুন, ২০২৬, ০৩:২৩ দুপুর
নিউজ ডেস্ক

ময়মনসিংহের ধোবাউড়ায় নিখোঁজের কয়েক ঘণ্টা পর নিশামনি (৫) নামে এক শিশুর লাশ কংস নদী থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। শিশুটির শরীরে আঘাতের চিহ্ন ও রক্তক্ষরণের আলামত দেখে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ তুলেছেন স্বজনরা। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

সোমবার (১৫ জুন) দুপুর ধোবাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন। রবিবার (১৪ জুন) বিকেলে ধোবাউড়া উপজেলার গোয়াতলা ইউনিয়নের টাঙ্গাহাটি গ্রামের ঘটনাটি ঘটে। নিহত নিশামনি উপজেলার গোয়াতলা ইউনিয়নের টাঙ্গাহাটি গ্রামের তাজু মিয়ার মেয়ে।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গতকাল রবিবার বিকেল হঠাৎ বাড়ির পাশ থেকে নিখোঁজ হয়। পরে পরিবারের সদস্যরা সম্ভাব্য সব স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পায়নি।

পরে রাত সাড়ে ৭টার দিকে স্থানীয়রা কংস নদীতে একটি শিশুর লাশ ভাসতে দেখতে পান। খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশটি নিশামনির বলে শনাক্ত করেন।

স্বজনদের ভাষ্য, লাশ উদ্ধারের পর রাতেই গোসল করানোর সময় তারা শিশুটির শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন দেখতে পান। বিশেষ করে গলা ও বুকে কামড়ের মতো দাগ এবং শরীর থেকে রক্তক্ষরণের আলামত লক্ষ্য করা যায়। এতে তাদের সন্দেহ হয় যে শিশুটিকে নির্যাতনের পর হত্যা করা হয়েছে। পরে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়।

খবর পেয়ে ধোবাউড়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে। পরবর্তীতে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

নিহত শিশুটির স্বজন ফারহানা ইসলাম ঈষিতা বলেন, “মাত্র পাঁচ বছরের একটি নিষ্পাপ শিশুকে ধর্ষণ করে কংস নদীতে ভাসিয়ে এভাবে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।”

ধোবাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে রাত সাড়ে ১২টার দিকে ঘটনাস্থলে যাই। শিশুটির শরীরে কিছু আলামত পাওয়া গেছে। প্রাথমিকভাবে দেখে ধর্ষণের ঘটনা ঘটতে পারে বলে সন্দেহ হচ্ছে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।

মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে এবং ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

স্থানীয়রা দ্রুত ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন, প্রকৃত অপরাধীদের গ্রেপ্তার এবং তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

আইও