
|
ঐতিহাসিক সামরিক চুক্তিতে সই করল শক্তিশালী তিন মুসলিম দেশ
প্রকাশ:
০৭ আগস্ট, ২০২৬, ০৭:৩৩ বিকাল
নিউজ ডেস্ক |
|| আন্তর্জাতিক ডেস্ক || মুসলিম বিশ্বের প্রভাবশালী তিন দেশ—সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্ক—একটি ঐতিহাসিক যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে। ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ নামে এই সমঝোতার আওতায় তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলাকে তিন দেশের সবার ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোর ‘আর্টিকেল-৫’-এর আদলে গড়ে ওঠা একটি যৌথ নিরাপত্তা কাঠামো। শুক্রবার (৭ আগস্ট) সৌদি আরবের পবিত্র নগরী মক্কার আল-সাফা প্রাসাদে অনুষ্ঠিত এক শীর্ষ বৈঠকে সৌদি যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমান, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। অনুষ্ঠানে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রধান (সিডিএফ) ও সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির, উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার, প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ এবং সৌদি আরব ও তুরস্কের পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। চুক্তি স্বাক্ষরের পর পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, এই চুক্তির মূল উদ্দেশ্য হলো যেকোনো ধরনের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে যৌথ প্রতিরোধ গড়ে তোলা। ফলে সদস্য তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র আক্রমণ হলে তা অন্য দুই দেশের ওপর আক্রমণ হিসেবেও বিবেচিত হবে। পাশাপাশি প্রতিরক্ষা, নিরাপত্তা ও কৌশলগত সহযোগিতার বিভিন্ন ক্ষেত্র আরও শক্তিশালী করার দিকনির্দেশনা দেবে এ চুক্তি। অন্যদিকে তুরস্কের যোগাযোগ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ সম্পূর্ণ আত্মরক্ষামূলক এবং এটি কোনো নির্দিষ্ট দেশকে লক্ষ্য করে করা হয়নি। ভবিষ্যতে আগ্রহী অন্যান্য আঞ্চলিক দেশও এ জোটে যোগ দেওয়ার সুযোগ পেতে পারে। যদিও চুক্তিতে সামরিক সহযোগিতার বিস্তারিত কাঠামো প্রকাশ করা হয়নি, তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়, প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি, যৌথ প্রশিক্ষণ, অস্ত্র উন্নয়ন এবং নিরাপত্তা সহযোগিতাসহ প্রতিরক্ষার বিভিন্ন ক্ষেত্র এতে অন্তর্ভুক্ত থাকবে। বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক নিরাপত্তা সংকট, ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনা, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতির পরিবর্তিত বাস্তবতা এবং লোহিত সাগর ও হরমুজ প্রণালিতে জ্বালানি পরিবহনের ঝুঁকির প্রেক্ষাপটে এই ত্রিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা জোট বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে। এ চুক্তির মাধ্যমে পারমাণবিক শক্তিধর পাকিস্তান, ন্যাটো সদস্য ও শক্তিশালী প্রতিরক্ষা শিল্পসমৃদ্ধ তুরস্ক এবং অর্থনৈতিক ও জ্বালানি শক্তিতে প্রভাবশালী সৌদি আরব একটি সমন্বিত নিরাপত্তা কাঠামোর আওতায় এলো, যা ভবিষ্যতে মুসলিম বিশ্বের প্রতিরক্ষা সহযোগিতায় নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে পারে। অস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ডিফেন্স স্টাডিজ সেন্টারের গবেষক মনসুর আহমেদের মতে, পাকিস্তান ও তুরস্ক তাদের প্রতিরক্ষা শিল্পের সক্ষমতা একীভূত করতে পারে, আর সৌদি আরব প্রযুক্তি ও অর্থায়নের মাধ্যমে এ সহযোগিতাকে আরও শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সূত্র: ডন এমএম/ |