অল্প বয়সেই হাফেজ হয়ে প্রশংসা কুড়াচ্ছে রুবায়েত ও মৃদুল
প্রকাশ: ১৭ জুন, ২০২৬, ০৮:২৩ সকাল
নিউজ ডেস্ক

মাত্র ১২ ও ১৩ বছর বয়সেই সম্পূর্ণ পবিত্র কোরআন মুখস্থ করে হাফেজ হওয়ার বিরল কৃতিত্ব অর্জন করেছে দুই কিশোর রুবায়েত সরদার ও মৃদুল ইসলাম। অল্প বয়সে তাদের এই সাফল্যে পরিবার, শিক্ষক ও স্থানীয়দের মাঝে আনন্দের আবহ সৃষ্টি হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) দুপুরে শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার পণ্ডিতসার তাহসিনুল কুরআন কওমী মাদরাসায় নবীন এই দুই হাফেজকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। এ উপলক্ষে দোয়া ও মোনাজাতের আয়োজন করা হয় এবং পরে ফুলেল শুভেচ্ছার মাধ্যমে তাদের বরণ করে নেয় মাদরাসা কর্তৃপক্ষ।

জানা গেছে, হাফেজ মৃদুল ইসলাম উপজেলার বাড়ৈপাড়া গ্রামের রুবেল হাওলাদার ও মাহিনূর বেগমের সন্তান। অন্যদিকে হাফেজ রুবায়েত সরদার গোলারবাজার এলাকার আমিনুল হক তপন ও আয়েশা খানমের ছেলে।

মাদরাসা সূত্র জানায়, শৈশব থেকেই দুই শিক্ষার্থীর মাঝে কোরআন শিক্ষার প্রতি গভীর আগ্রহ ছিল। প্রাথমিক পর্যায়ের কোরআন শিক্ষা শেষ করার পর তারা হিফজ বিভাগে ভর্তি হয়। এরপর শিক্ষকদের নিবিড় পরিচর্যা, নিয়মিত অনুশীলন এবং নিজেদের অদম্য প্রচেষ্টার মাধ্যমে তারা সম্পূর্ণ কোরআন হিফজের মর্যাদা অর্জন করে।

হাফেজ মৃদুল ইসলাম জানায়, বাবা-মায়ের স্বপ্ন পূরণ করাই ছিল তার সবচেয়ে বড় প্রেরণা। সে ভবিষ্যতে উচ্চতর ইসলামি শিক্ষা গ্রহণ করে একজন যোগ্য আলেম হয়ে মানুষের কল্যাণে কাজ করার ইচ্ছা প্রকাশ করে।

হাফেজ রুবায়েত সরদারও নিজের অনুভূতি জানিয়ে বলে, পরিবারের আশা পূরণ করতে পেরে সে অত্যন্ত আনন্দিত। ভবিষ্যতে ইসলামি জ্ঞানে আরও সমৃদ্ধ হয়ে দেশ ও জাতির সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করতে চায়।

সন্তানের এমন সাফল্যে আবেগাপ্লুত মৃদুলের মা মাহিনূর বেগম বলেন, ছোট থেকেই তাদের ইচ্ছা ছিল ছেলেকে কোরআনের খাদেম হিসেবে গড়ে তোলার। অল্প বয়সে সে সেই লক্ষ্য অর্জন করায় তারা মহান আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞ।

পণ্ডিতসার তাহসিনুল কুরআন কওমি মাদরাসার প্রধান অধ্যক্ষ হাফেজ আব্দুস ছাত্তার খান বলেন, ২০১৯ সালে প্রতিষ্ঠার পর এখন পর্যন্ত এই মাদরাসা থেকে ১০১ জন শিক্ষার্থী হিফজ সম্পন্ন করেছে, যার মধ্যে ৯৯ জন ছেলে ও দুইজন মেয়ে। তিনি বলেন, শুধু হাফেজ তৈরি করাই নয়, নৈতিকতা ও আদর্শে সমৃদ্ধ মানুষ গড়ে তোলাই তাদের মূল লক্ষ্য।

জেডএম/