জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাসে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়-মাদরাসার ভূমিকা যথেষ্ট গুরুত্ব পায়নি: নাহিদ ইসলাম
প্রকাশ: ০৮ আগস্ট, ২০২৬, ০২:১১ দুপুর
নিউজ ডেস্ক

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও মাদরাসাশিক্ষার্থীদের ভূমিকা এবং ঢাকার বাইরের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও জেলার আন্দোলন যথেষ্ট গুরুত্ব পায়নি বলে অভিযোগ করেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। তার মতে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস কোনো দলীয় বয়ানে সীমাবদ্ধ না রেখে দেশের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশা, অঞ্চল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মানুষের অংশগ্রহণের ভিত্তিতে তুলে ধরা উচিত।

শনিবার (৮ আগস্ট) সকালে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে স্থাপিত জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

নাহিদ ইসলাম বলেন বিশেষ করে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও মাদরাসাশিক্ষার্থীদের ভূমিকা এবং ঢাকার বাইরের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও জেলার আন্দোলন যথেষ্ট গুরুত্ব পায়নি।

তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি, দল বা এলাকার আন্দোলন ছিল না। তাই এর ইতিহাসও দেশের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশা, অঞ্চল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মানুষের অংশগ্রহণকে ধারণ করে উপস্থাপন করতে হবে।

নাহিদ ইসলাম বলেন, জাদুঘরে আগে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) হাতে নিহত বাংলাদেশিদের একটি তালিকা এবং ফেলানী হত্যাকাণ্ডের স্মরণে একটি ভাস্কর্য ছিল। এখন সেগুলো দেখা যাচ্ছে না। একইভাবে মোদিবিরোধী আন্দোলনের কিছু স্মৃতিচিত্রও সরিয়ে ফেলা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

তিনি বলেন, ইতিহাসের অংশ হলে সেটি কেন থাকবে না? গত ১৬ বছরে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থার সঙ্গে ভারতের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সম্পর্কের বিষয়টিও ইতিহাসের অংশ। কিন্তু জাদুঘরের বর্তমান উপস্থাপনায় ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক, সীমান্ত হত্যা, বিডিআর হত্যাকাণ্ড, ফেলানী হত্যাকাণ্ড ও মোদিবিরোধী আন্দোলনের মতো বিষয়গুলো যথেষ্ট গুরুত্ব পায়নি।

নাহিদ ইসলামের মতে, জাদুঘরের উপস্থাপনা দেখে এমন ধারণা হতে পারে যে গত ১৬ বছরের রাজনৈতিক পরিস্থিতি কেবল দেশের অভ্যন্তরীণ একটি বিষয় ছিল। অথচ ওই সময়ে বিদেশি শক্তিরও বিভিন্ন ধরনের ভূমিকা ছিল। এসব বিষয়ও ইতিহাসের অংশ হিসেবে তুলে ধরা প্রয়োজন।

জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর থেকে সীমান্ত হত্যা, ফেলানী হত্যাকাণ্ড ও মোদিবিরোধী আন্দোলনের স্মৃতিসংবলিত কিছু উপাদান সরিয়ে ফেলা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।

 তিনি আরো বলেন জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস কয়েকজন পরিচিত মুখকে কেন্দ্র করে উপস্থাপন না করে একটি পূর্ণাঙ্গ সময়রেখায় তুলে ধরার দাবি জানিয়েছেন নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, আন্দোলনের বিভিন্ন পর্যায়, নির্যাতন, প্রতিরোধ এবং গণঅভ্যুত্থানের বিস্তারের ধারাবাহিকতা দর্শনার্থীদের সামনে তুলে ধরা প্রয়োজন

জুলাইয়ের ইতিহাস ভবিষ্যতে কোনো রাজনৈতিক দলের ইতিহাসে পরিণত না করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জাদুঘরটি প্রকৃত ইতিহাসচর্চার জায়গা এবং জাতীয় ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রতিষ্ঠান হওয়া উচিত।

আরএইচ/