আবিষ্কৃত হলো হজরত উমর রা.-এর নামসংবলিত শিলালিপি
প্রকাশ: ১৮ জুন, ২০২৬, ১২:১০ দুপুর
নিউজ ডেস্ক

পাথর সংগ্রহের এক কিশোরীসুলভ শখ শেষ পর্যন্ত সৌদি আরবের ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্বে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। সৌদি আরবের ১৫ বছর বয়সী কিশোরী সুবাইয়াহ আল-শাহরানির সংগ্রহে পাওয়া কয়েকটি পাথর থেকে গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন আবিষ্কৃত হয়েছে, যা দেশটির ঐতিহাসিক ঐতিহ্য সংরক্ষণে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।

জানা যায়, ২০১৪ সালে সুবাইয়াহ নিজের বাড়ি ও আশপাশের এলাকা থেকে ৭০৫টি ভিন্ন ধরনের পাথর সংগ্রহ করেন। পরবর্তীতে তিনি সেগুলো প্রত্নতত্ত্ব বিশেষজ্ঞদের কাছে হস্তান্তর করেন। বিশেষজ্ঞদের পরীক্ষা-নিরীক্ষায় দেখা যায়, সংগ্রহের ১৯টি পাথর আরব উপদ্বীপের প্রাচীন সভ্যতার গুরুত্বপূর্ণ প্রত্ননিদর্শন।

এই আবিষ্কারের পর সৌদি হেরিটেজ কমিশন নিদর্শনগুলোকে জাতীয় প্রত্নতাত্ত্বিক তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে এবং জাতীয় জাদুঘরে প্রদর্শনের ব্যবস্থা করে। একই সঙ্গে ইতিহাস ও ঐতিহ্য সংরক্ষণে অবদানের জন্য সুবাইয়াহ আল-শাহরানিকে বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয়।

কিশোরীর এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগকে কেন্দ্র করে ২০২৫ সালের আগস্টে ‘সুবাইয়াহ’ শিরোনামে একটি প্রামাণ্যচিত্রও নির্মিত হয়। এতে তার অনুসন্ধিৎসু মনোভাব এবং সৌদি আরবের মাটির নিচে লুকিয়ে থাকা ঐতিহাসিক সম্পদ তুলে ধরা হয়েছে।

এদিকে সৌদি হেরিটেজ কমিশন সম্প্রতি মদিনা অঞ্চলের আল-মাহদ জেলায় পরিচালিত প্রত্নতাত্ত্বিক জরিপে আরও ১ হাজার ৭৭৪টি ঐতিহাসিক নিদর্শন আবিষ্কারের ঘোষণা দিয়েছে। এসব নিদর্শনের মধ্যে রয়েছে ৪৬১টি ইসলামি শিলালিপি, ৩৪টি সামূদি লিপি, ১ হাজার ২৫৯টি শিলাচিত্র, ১১টি পাথুরে স্থাপনা, ৩টি ঐতিহাসিক প্রাসাদ, ২টি প্রাচীন কাফেলা পথ এবং ৪টি কূপ।

আবিষ্কৃত নিদর্শনগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে একটি প্রাচীন শিলালিপি, যেখানে দ্বিতীয় খলিফা হজরত উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.)-এর নাম উৎকীর্ণ রয়েছে। শিলালিপিতে লেখা আছে, ‘আল্লাহ দুনিয়া ও আখিরাতে উমর ইবনুল খাত্তাবের অভিভাবক। আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই।’

বিশেষজ্ঞদের মতে, হিজাজি লিপিতে উৎকীর্ণ এই লেখাটি ইসলামের প্রাথমিক যুগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ লিখিত নিদর্শন। এটি শুধু একটি শিলালিপি নয়; বরং সে সময় মুসলিম সমাজে হজরত উমর (রা.)-এর প্রতি মানুষের গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসারও প্রমাণ বহন করে।

সৌদি হেরিটেজ কমিশন বলছে, আল-মাহদ অঞ্চলে আবিষ্কৃত এসব নিদর্শন ইসলামের প্রারম্ভিক ইতিহাস, প্রাচীন আরব সভ্যতা এবং প্রাথমিক মুসলিম সমাজ সম্পর্কে নতুন তথ্য উন্মোচনে সহায়ক হবে। গবেষকদের মতে, প্রতিটি শিলালিপি ও প্রত্ননিদর্শন অতীতের একেকটি জীবন্ত দলিল, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে তাদের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সঙ্গে সংযুক্ত রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

সূত্র: ইউএনএ নিউজ

জেডএম/