
|
জুলাই জাদুঘরে ভাস্কর্যের বিকল্পে হেফাজতের দুই প্রস্তাব
প্রকাশ:
১০ আগস্ট, ২০২৬, ০৭:৫৩ বিকাল
নিউজ ডেস্ক |
নিজস্ব প্রতিবেদক জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস ও আলেমদের আত্মত্যাগের স্মৃতি সংরক্ষণে ভাস্কর্যের পরিবর্তে লিখিত ইতিহাস, প্রামাণ্য দলিল ও নথি সংরক্ষণ এবং জাতীয় পাঠ্যপুস্তকে আন্দোলনের ইতিহাস অন্তর্ভুক্তির প্রস্তাব দিয়েছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। জুলাই জাদুঘরে হেফাজতে ইসলামের নেতাকর্মীদের অবয়বে ভাস্কর্য স্থাপনের প্রতিবাদ জানিয়ে সংগঠনটির আমির আল্লামা শাহ মুহিববুল্লাহ বাবুনগরী ও মহাসচিব আল্লামা শায়েখ সাজিদুর রহমান এ দুই প্রস্তাব দেন। সোমবার (১০ আগস্ট) গণমাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ বিবৃতিতে তারা ভাস্কর্যগুলো অবিলম্বে অপসারণেরও দাবি জানান। হেফাজতের নেতৃদ্বয় বলেন, ইসলামের দৃষ্টিতে মানুষের ভাস্কর্য নির্মাণ বৈধ নয়। তাই আলেম ও আন্দোলনকারীদের স্মৃতি সংরক্ষণের ক্ষেত্রেও শরিয়তসম্মত পদ্ধতি অনুসরণ করা প্রয়োজন। ভাস্কর্যের পরিবর্তে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সঠিক ও বস্তুনিষ্ঠ ইতিহাস সংরক্ষণে জাদুঘরে লিখিত ইতিহাস, প্রামাণ্য দলিলপত্র ও সংশ্লিষ্ট নথি সংরক্ষণ এবং প্রদর্শনের ব্যবস্থা করার প্রস্তাব দিয়েছে হেফাজত। সংগঠনটির নেতারা মনে করেন, এ ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে আন্দোলনের ইতিহাস ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অবদান ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা সম্ভব। একই সঙ্গে এতে ধর্মীয় মূল্যবোধের সঙ্গেও সাংঘর্ষিক কোনো পরিস্থিতি তৈরি হবে না। হেফাজতের দ্বিতীয় প্রস্তাব হলো, ২০১৩ সালের শাপলা চত্বর ও ২০২১ সালের মোদি-বিরোধী আন্দোলনসহ ইসলামের জন্য আলেম ও তৌহিদি জনতার ত্যাগের ইতিহাস এবং ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস জাতীয় পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত করা। বিবৃতিতে সংগঠনটি দাবি করে, আলেম ও তৌহিদি জনতার বিভিন্ন আন্দোলন ও আত্মত্যাগের ইতিহাস যথাযথভাবে সংরক্ষণ করে তা নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা প্রয়োজন। হেফাজতের আমির ও মহাসচিব বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ ও আন্দোলনকারীদের আত্মত্যাগ জাতি অবশ্যই শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে। তবে স্মৃতি সংরক্ষণের পদ্ধতি দেশের ধর্মীয় মূল্যবোধের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া জরুরি। তারা আরও বলেন, অতীতে ভাস্কর্য ও মূর্তি সংস্কৃতির বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে গিয়ে অনেক আলেম জীবন দিয়েছেন ও কারাবরণ করেছেন। তাদেরই অবয়বে ভাস্কর্য নির্মাণকে তারা ‘মর্মান্তিক ও নজিরবিহীন বৈপরীত্য’ হিসেবে উল্লেখ করেন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জুলাই জাদুঘরে স্থাপিত ভাস্কর্যগুলো দ্রুত অপসারণের দাবি জানিয়ে হেফাজতের নেতৃদ্বয় বলেন, ইতিহাস ও আত্মত্যাগের স্মৃতি সংরক্ষণ করতে হবে; তবে তা ইসলামি মূল্যবোধ ও শরিয়তের বিধানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ পদ্ধতিতে হওয়া উচিত। আইও/ |