
|
কাবা শরিফ দেখার পরই মারা গেলেন পাকিস্তানি নাগরিক!
প্রকাশ:
১২ আগস্ট, ২০২৬, ০৬:৩৪ বিকাল
নিউজ ডেস্ক |
আন্তর্জাতিক ডেস্ক ওমরা পালনের আকাঙ্ক্ষা প্রকাশের মাত্র চার দিনের মাথায় সৌদি আরব গিয়ে পবিত্র কাবা শরিফ দেখার পর ইন্তেকাল করেছেন পাকিস্তানের ফয়সালাবাদের হাজি আবদুল লতিফ ওরফে বাও। বুধবার (১২ আগস্ট) ভোরে মক্কা মুকাররমার মসজিদুল হারামে এ ঘটনা ঘটে। মরহুম আবদুল লতিফ ফয়সালাবাদের লায়লপুর কলোনির লাল মিলস চকের বাসিন্দা ছিলেন। তিনি বেসরকারি স্কুলগুলোতে বই সরবরাহের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, চার দিন আগে হঠাৎ করেই ওমরা পালনের ইচ্ছা প্রকাশ করেন আবদুল লতিফ। এরপর ছেলে আরসালানকে সঙ্গে নিয়ে দ্রুত ওমরা ভিসার জন্য পাসপোর্ট জমা দেন। ১১ আগস্ট ফয়সালাবাদ বিমানবন্দর থেকে ফ্লাইদুবাইয়ের একটি ফ্লাইটে সৌদি আরবের উদ্দেশে রওনা হন তিনি। বিমানটি প্রায় দুই ঘণ্টা বিলম্বের পর রাতে জেদ্দায় পৌঁছায়। সেখান থেকে মক্কার উদ্দেশে রওনা হন বাবা-ছেলে। ছেলে আরসালান জানান, জেদ্দা থেকে মক্কার পথে আবদুল লতিফ বারবার সময় দেখছিলেন এবং চালককে দ্রুত মক্কায় পৌঁছে দেওয়ার অনুরোধ করছিলেন। তিনি বলছিলেন, ‘আমার শরীর একদম ভালো আছে। শুধু আল্লাহর ঘরটি যত দ্রুত সম্ভব দেখতে চাই।’ বুধবার ভোরে তাহাজ্জুদের সময় তারা মক্কার হোটেলে পৌঁছান। সেখানে বিশ্রাম না নিয়ে দ্রুত মসজিদুল হারামে যাওয়ার জন্য ছেলেকে অনুরোধ করেন আবদুল লতিফ। আরসালানের ভাষ্য অনুযায়ী, হারাম শরিফে পৌঁছানোর পর তার বাবার অস্থিরতা আরও বেড়ে যায়। তিনি উচ্চস্বরে কালেমা ও ইস্তিগফার পড়ছিলেন এবং শরীর ঘামে ভিজে যাচ্ছিল। এরপর মাতাফে পৌঁছে প্রথমবারের মতো কাবা শরিফের দিকে তাকান আবদুল লতিফ। এ সময় তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে ‘আল্লাহু আকবার’ ও ইস্তিগফার পড়তে পড়তে বসে পড়েন। কিছুক্ষণ পর হঠাৎ অসুস্থ হয়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন তিনি। ঘটনাস্থলে থাকা নিরাপত্তাকর্মী ও চিকিৎসাকর্মীরা দ্রুত তাঁর কাছে ছুটে গিয়ে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করেন। তবে শেষ পর্যন্ত তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। সূত্র: উর্দু প্রাইম আইও/ |