উদ্বোধনের আগেই মডেল মসজিদে ফাটল!
প্রকাশ: ২১ জুন, ২০২৬, ০৯:৫২ সকাল
নিউজ ডেস্ক

নিজস্ব প্রতিবেদক-

গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলায় নির্মাণাধীন মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র উদ্বোধনের আগেই ভবনের বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দেওয়ায় নির্মাণকাজের মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। একই সঙ্গে নির্ধারিত সময়ের প্রায় পাঁচ গুণ বেশি সময় পার হলেও প্রকল্পটির কাজ সম্পন্ন না হওয়ায় স্থানীয় মুসল্লি ও এলাকাবাসীর মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মসজিদ ভবনের বিভিন্ন দেয়াল ও প্লাস্টারে ছোট-বড় ফাটল দেখা দিয়েছে। বিষয়টি নজরে আসার পর ক্ষতিগ্রস্ত অংশের প্লাস্টার কেটে পুনরায় মেরামতের কাজ চলছে। তবে উদ্বোধনের আগেই এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ায় প্রকল্প বাস্তবায়নের গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন এলাকাবাসী। তাদের অভিযোগ, প্রকল্পসংক্রান্ত তথ্য উল্লেখ করে কোনো সাইনবোর্ডও দৃশ্যমান নয়।

ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে সারাদেশে ৫৬০টি মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় কোটালীপাড়া মডেল মসজিদ নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ১২ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে গণপূর্ত বিভাগ।

গণপূর্ত বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালের মে মাসে প্রথম ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি হলেও নির্ধারিত স্থানে ভূমি অফিসের পুরোনো স্থাপনা থাকায় কাজ শুরু করতে বিলম্ব হয়। পরে নির্মাণসামগ্রীর মূল্যবৃদ্ধির কারণে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চুক্তি বাতিলের আবেদন করলে কার্যাদেশ বাতিল করা হয়। এরপর ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে বদরুল ইকবাল লিমিটেডকে নতুন করে কার্যাদেশ দেওয়া হয়। কিন্তু নতুন ঠিকাদারের অধীনেও নির্ধারিত সময়ে প্রকল্পের কাজ শেষ করা সম্ভব হয়নি।

প্রকল্প পরিকল্পনা অনুযায়ী, মডেল মসজিদটিতে নারী ও পুরুষদের জন্য পৃথক নামাজ ও অজুর ব্যবস্থা, লাইব্রেরি, গবেষণা ও দ্বীনি কার্যক্রম পরিচালনার সুবিধা, শিশু শিক্ষার ব্যবস্থা, অতিথিশালা, হজযাত্রীদের প্রশিক্ষণকেন্দ্র এবং ইমাম-মুয়াজ্জিনদের আবাসন থাকার কথা রয়েছে।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বদরুল ইকবাল লিমিটেডের ম্যানেজার মাসুম বিল্লাহ দাবি করেন, ভবনের মূল কাঠামোতে কোনো সমস্যা নেই। কেবল কিছু স্থানে প্লাস্টারে ফাটল দেখা দিয়েছে, যা মেরামত করা হচ্ছে। তিনি বলেন, প্রায় তিন কোটি টাকার বিল বকেয়া থাকায় কাজের গতি ব্যাহত হয়েছে। বকেয়া অর্থ পরিশোধ করা হলে দুই মাসের মধ্যেই নির্মাণকাজ শেষ করা সম্ভব হবে।

কোটালীপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাগুফতা হক বলেন, ভবনে ফাটল দেখা দেওয়ার বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে প্রকল্পটি অসমাপ্ত অবস্থায় রয়েছে। দ্রুত কাজ শেষ করার জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে বারবার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে গোপালগঞ্জ গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী (অতিরিক্ত দায়িত্ব) রবিউল ইসলাম খান বলেন, ফাটলের বিষয়টি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রকৌশলীদের জানানো হয়েছে এবং তারা মেরামতের কাজ করছেন। সরেজমিন পরিদর্শনের পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জেডএম/