
|
কওমি মাদরাসা কর্তৃপক্ষের প্রতি বিনীত আরজ
প্রকাশ:
২৪ জুন, ২০২৬, ০৫:২০ বিকাল
নিউজ ডেস্ক |
|| যুবায়ের আহমদ || কওমি মাদরাসায় মোট শিক্ষার্থীর সংখ্যা আলিয়া মাদরাসা থেকে বেশ বেশি। চাকরি বিষয় না, আগামীর পৃথিবীতে ইসলামের খেদমতের জন্য তাদের নানামুখী যোগ্যতা দিয়ে দেওয়া কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব। অবশ্যই নিরেট ইলমে নববীই এ শিক্ষা ধারার একমাত্র উদ্দেশ্য। কিন্তু ইলমে নববী ও ইসলামের সৌন্দর্য গণমানুষের কাছে তুলে ধরার জন্যই জ্ঞানের অন্যান্য প্রয়োজনীয় বিষয়ে তাদের ন্যূনতম ধারণা দিয়ে দেওয়া দরকার। যা করার অনুরোধ: ১. কওমি শিক্ষার্থীদের আগামীতে কাজের পরিধি আরো বিস্তৃত হবে। তবে শুধু চাকরির জন্য নয়, আগামীর পৃথিবীতে টিকে থাকার জন্যই ভালো আরবি জানার পাশাপাশি বেইসিক ইংরেজি শিখিয়ে দেওয়া দরকার৷ এটি উপরের শিক্ষার্থীদের সহজেই শেখানো সম্ভব৷ অর্থাৎ ৩য়-৭ম শ্রেণির বাচ্চাদের কোনোকিছু শেখানো যতটা কঠিন, উপরের ক্লাসগুলোতে শেখানো ততটা কঠিন নয়, বরং অনেক সহজ। কারণ, তারা নিজের আগ্রহে পড়ে। সেজন্য শরহে বেকায়া, জালালাইন, মিশকাত, দাওরা এ ক্লাসগুলোকে একসাথে করে বা ২টি ক্লাসকে একসাথে করে হলেও যদি সপ্তাহে দুই দিন ১ ঘন্টা করে সময় দেওয়া হয়, ইনশাআল্লাহ, এক বছরে তাদের ইংরেজি অনেক ভালো হয়ে যাবে৷ এতে শিক্ষার্থীদের গতানুগতিক লেখাপড়ায়ও কোনো কমতি হবে না, বেইসিক ইংরেজিও শেখা হয়ে যাবে। পরে সে চাইলে এর ওপর ভর করে পরবর্তীতে নিজে নিজে বা কোনো কোর্স করে আরো এডভান্স লেভেলের ইংরেজি শিখতে পারবে। তবে এভাবে শেখাতে শিক্ষক হতে হবে অনেক ভালো। শেখানোর কৌশলও তার জানা থাকতে হবে। অনেক কওমি মাদরাসায় ইংরেজির দক্ষ শিক্ষক নেই। এমনও দেখেছি, টেনেটুনে দাখিল পাস বা এসএসসি পাস কেউ ক্লাস নিচ্ছে। এদের দিয়ে হবে না। দক্ষ যোগ্য ও কৌশলী শিক্ষক লাগবে। সম্মানিত মুহতামিম সাহেবগণ বিষয়টি ভেবে দেখবেন আশা করি৷ ভবিষ্যতে ছাত্ররা অনেক দোয়া করবে। কোন ছাত্রটা কোন সাইডের খেদমতে কাজে লেগে যাবে তা তো বলা যায় না। বেইসিক দিয়ে দেওয়া দরকার৷ আমি যতটুকু ইংরেজি জানি তা একদমই সামান্য। কিন্তু আল্লাহর অশেষ রহমতে, উস্তাদদের দোয়ায় এটুকু সামান্য খেদমতে কাজে লেগেছে৷ ইংরেজি ভাষায় প্রকাশিত কলাম প্রায় ৫০০। সামান্য এতটুকু খেদমতের প্রেরণা কিশোরগঞ্জের জামিয়া ইমদাদিয়া থেকে পাওয়া। শাহ সাহেব হুজুর (রহ.) বিশেষ জামাতের জন্য জাহিদ স্যারকে (হাফি.) নিয়োগ দেন। স্যার খুব আন্তরিকতার সঙ্গে পড়াতেন। আরেকজন শিক্ষক দিলেন, রাতে এসে আমাদের ইংরেজি পড়াতেন। তারা ইংরেজিটা এমনভাবে পড়ালেন, ইংরেজির ভীতিটা দূর হযে গেল। তারপর দাখিল, আলিম ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি পড়েছি। ২. আখলাকী বিষয়ে কড়াকড়ি হওয়া: ইদানিং বাচ্চাদের আদব-আখলাকের অনেক ঘাটতি দেখা দিচ্ছে। আখলাকই যদি না শেখে, তাহলে কওমি মাদরাসায় পড়ে কী লাভ! ঈদের ছুটিতে বাড়ি এসে এক ওয়াক্ত নামাজও পড়ছে না, এমন অভিযোগও আছে। আমল ও আখলাক। নামাজ, লেনদেন, চলাফেরা, আচারআচরণে গভীর নজর দিয়ে তাদের গড়ে দেওয়া দরকার। তাহলেই তারা সাহাবায়ে কিরামের রা. আখলাকের অনুসারী হয়ে সোনার মানুষে পরিণত হবে। আকাবির আসলাফদের জীবনী পড়ানো আরেকটু বাড়ানো যেতে পারে। শিক্ষকদের আমল-আখলাকেও কঠোর নজরদারি হতে পারে। লেখক: খতিব, কলামিস্ট ও আলোচক আইও/ |