দাবি না মানলে অর্থ মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ ব্যাংক ঘেরাওয়ের হুঁশিয়ারি
প্রকাশ: ২৪ জুন, ২০২৬, ০৮:৪৭ রাত
নিউজ ডেস্ক

ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশকে বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা করতে দ্রুত পরিচালনা পর্ষদ গঠন এবং প্রকৃত মালিকদের কাছে মালিকানা ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছে ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরাম। এছাড়া আগামী ২৭ জুনের মধ্যে দাবি মানা না হলে সারা দেশের গ্রাহকদের ঢাকায় এনে অর্থ মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ ব্যাংক ঘেরাওয়ের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (২৪ জুন) জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানানো হয়।

বক্তব্যে সংগঠনের আহ্বায়ক নুরনবী মানিক বলেন, ব্যাংকটিতে নিয়ম-নীতি ও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার জন্য গত ১ জুন থেকে সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে দাবি জানিয়ে আসছি। ইতোমধ্যে আমরা মানববন্ধন, একাধিক সংবাদ সম্মেলন এবং অর্থমন্ত্রী ও বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছি। এছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বিশেষ বৈঠক করে ৭ দফা দাবিও পেশ করা হয়েছে। 

তিনি বলেন, এস আলম হাজার হাজার কোটি টাকা লোপাট করে বিদেশে পাচার করেছে। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যে, দীর্ঘ সময় পার হলেও বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃপক্ষ এখনো ইসলামী ব্যাংক পরিচালনার উপযোগী কোনো সৎ, যোগ্য ও পেশাদার লোক খুঁজে পাচ্ছে না। সচেতন গ্রাহক ফোরাম কোনো রাজনৈতিক দলের লেজুড়ভিত্তিক সংগঠন নয়, বরং সাধারণ গ্রাহকদের আমানতের সুরক্ষা ও ব্যাংকের ডিসিপ্লিন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই আমরা ঐক্যবদ্ধ। ব্যাংকিং খাতে স্থিতিশীলতা না ফিরলে রেমিট্যান্স হুন্ডি হয়ে যাবে এবং বৈদেশিক মুদ্রা ও আমদানি ব্যয় পরিশোধ করা কঠিন হয়ে পড়বে।

সংবাদ সম্মেলনে যেসব দাবি উপস্থাপিত হয় সেগুলো হলো-

১. অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে সৎ, যোগ্য ও অভিজ্ঞ পেশাদার ব্যক্তিদের সমন্বয়ে ইসলামী ব্যাংকের একটি পূর্ণাঙ্গ ও স্বাধীন পরিচালনা পর্ষদ গঠন করতে হবে।

২. প্রকৃত ও আদি মালিকদের কাছে তাদের মালিকানা ফিরিয়ে দিতে হবে।

৩. ব্যাংক লুটেরাদের বিচারের জন্য বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

৪. ইসলামী ব্যাংকগুলোতে বিরাজমান আতঙ্ক দূর করে ব্যাংকিং খাতে স্থিতিশীলতা আনতে হবে এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চলমান উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার রোধে দ্রুত ও কার্যকর আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে।

৫. একটি বিশেষ টাস্কফোর্সের মাধ্যমে বিদেশে পাচারকৃত অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনতে হবে। এস আলমের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করতে হবে এবং এস আলমের ঋণের অনিয়ম তদন্তে বাধা সৃষ্টি করে জারি করা রুল বাতিল করে বিচার নিশ্চিত করতে হবে।

৬. ব্যাংক কোম্পানি আইনের ১৮/ক ধারা সংশোধনের মাধ্যমে লুটেরাদের পুনরায় ব্যাংকে পুনর্বাসনের যে ছদ্মবেশী সুযোগ রাখা হয়েছে, তা অবিলম্বে বাতিল করতে হবে।

৭. জাতীয় সংসদে ইসলামী ব্যাংক নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ অন্যান্য মন্ত্রীদের দেওয়া 'অসত‍্য বক্তব্য' এবং এস আলমের হাতে পুনরায় ব্যাংক তুলে দেওয়ার প্রচ্ছন্ন আভাস অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে।

আইও