
|
‘লাভ জিহাদ’ আইন সুপ্রিম কোর্টে চ্যালেঞ্জ করবে ভারতের জমিয়ত
প্রকাশ:
২৭ আগস্ট, ২০২৬, ০৯:১৬ সকাল
নিউজ ডেস্ক |
আন্তর্জাতিক ডেস্ক মহারাষ্ট্র সরকারের ঘোষিত ‘মহারাষ্ট্র ফ্রিডম অব রিলিজিয়ন অ্যাক্ট ২০২৬’ বা ধর্মান্তরবিরোধী আইনকে সুপ্রিম কোর্টে চ্যালেঞ্জ করার ঘোষণা দিয়েছে জমিয়তে উলামায়ে মহারাষ্ট্র। সংগঠনটির অভিযোগ, আইনের কয়েকটি ধারা ধর্মীয় স্বাধীনতা, ব্যক্তিস্বাধীনতা ও সাংবিধানিক অধিকারকে প্রভাবিত করতে পারে। সরকারি বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, আগামী ২৮ আগস্ট থেকে আইনটি কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। এর পরপরই আইনটির সাংবিধানিক বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে আদালতে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছে জমিয়ত। জমিয়তে উলামায়ে মহারাষ্ট্রের সভাপতি মাওলানা হালিমুল্লাহ কাসেমি বলেন, আইনটির বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সুপ্রিম কোর্টের অ্যাডভোকেট অন রেকর্ড ইজাজ মাকবুল এবং বোম্বে হাইকোর্টের আইনজীবী মতিন শেখকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আইন কার্যকর হওয়ার পরই তা আদালতে চ্যালেঞ্জ করা হবে। মাওলানা হালিমুল্লাহ কাসেমির দাবি, আইনে ধর্মান্তরের ক্ষেত্রে ‘প্রলোভন’, ‘প্রতারণা’ ও অন্যান্য শব্দের ব্যাপক ব্যাখ্যার সুযোগ রাখা হয়েছে। এর ফলে শান্তিপূর্ণ ধর্মীয় প্রচার ও স্বেচ্ছায় ধর্ম গ্রহণের ক্ষেত্রেও জটিলতা তৈরি হতে পারে। আইনটিতে জোরপূর্বক, প্রতারণা, প্রলোভন, ভুল তথ্য উপস্থাপন, অযাচিত প্রভাব বা বিয়ের প্রতিশ্রুতির মাধ্যমে ধর্মান্তরকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। অপরাধের ধরন অনুযায়ী সর্বোচ্চ সাত বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড ও জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। অপ্রাপ্তবয়স্ক, নারী, তফসিলি জাতি ও উপজাতি এবং বিশেষভাবে দুর্বল অবস্থায় থাকা ব্যক্তিদের ধর্মান্তরের ক্ষেত্রে আইনে আরও কঠোর বিধান রয়েছে। জমিয়তের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা জোরপূর্বক বা প্রতারণার মাধ্যমে ধর্মান্তরের সমর্থন করে না। তবে প্রাপ্তবয়স্ক কোনো নাগরিক স্বেচ্ছায় ধর্ম গ্রহণ বা পরিবর্তন করলে তার সাংবিধানিক অধিকার যাতে ক্ষুণ্ন না হয়, তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। মাওলানা হালিমুল্লাহ কাসেমি আন্তঃধর্মীয় বিবাহ ও ধর্মীয় স্বাধীনতার প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলেন, প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিকের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত ও সাংবিধানিক স্বাধীনতায় অযাচিত হস্তক্ষেপ করা উচিত নয়। এর আগে জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ ভারতের অন্যান্য রাজ্যের ধর্মান্তরবিরোধী আইনের সাংবিধানিক বৈধতা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে। এবার মহারাষ্ট্রের নতুন আইনও আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে যাচ্ছে। এদিকে সুপ্রিম কোর্টে ধর্মান্তরবিরোধী আইনসংক্রান্ত একটি মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী ২ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। সূত্র: ইউএনএ নিউজ আরএইচ/ |