রাষ্ট্রায়ত্ত চিনিকল খুলে দেওয়াসহ শ্রমিক মজলিসের ১০ দাবি
প্রকাশ: ২৮ আগস্ট, ২০২৬, ০৪:১৮ দুপুর
নিউজ ডেস্ক

নিজস্ব প্রতিবেদক

রাষ্ট্রায়ত্ত চিনিকলগুলো দ্রুত খুলে দেওয়া, ৪৪টি শিল্পকারখানা বেসরকারিকরণের সিদ্ধান্ত বাতিল, গ্যাসসংকটের অজুহাতে শ্রমিক ছাঁটাই বন্ধ, চা-শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত এবং শ্রমিকদের জন্য ‘শ্রমিক কার্ড’ চালুর দাবি জানিয়েছে শ্রমিক মজলিস।

শুক্রবার (২৮ আগস্ট) জুমার নামাজ শেষে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে এসব দাবি জানানো হয়। রাষ্ট্রায়ত্ত চিনিকলসহ ৪৪টি শিল্পকারখানা বেসরকারিকরণ, গ্যাসসংকটের কারণে বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানে শ্রমিক ছাঁটাই এবং শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করার দাবিতে এ সমাবেশের আয়োজন করে সংগঠনটি।

সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শ্রমিক মজলিসের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি প্রভাষক মুহাম্মদ আবদুল করিম বলেন, ‘রাষ্ট্রায়ত্ত চিনিকলগুলো দ্রুত খুলে দিতে হবে। ৪৪টি শিল্পকারখানা বেসরকারিকরণের যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তা বাতিল করতে হবে। একই সঙ্গে শিল্পকারখানাগুলোতে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে।’

তিনি বলেন, রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পপ্রতিষ্ঠান বন্ধ কিংবা বেসরকারিকরণের মাধ্যমে শ্রমিকদের কর্মসংস্থান অনিশ্চিত করা যাবে না। এসব শিল্পকারখানা সচল করার উদ্যোগ নিতে হবে। পাশাপাশি শ্রমিকদের কর্মসংস্থান ও ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।

গ্যাসসংকটের কারণে শ্রমিক ছাঁটাইয়ের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, গ্যাসসংকটের অজুহাতে বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠান থেকে অন্যায়ভাবে শ্রমিক ছাঁটাই করা হচ্ছে। অবৈধভাবে শ্রমিক ছাঁটাই বন্ধ করে চাকরির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

মুহাম্মদ আবদুল করিম বলেন, শিল্পকারখানায় নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি। গ্যাসসংকটের কারণে উৎপাদন ব্যাহত হলে এর দায় শ্রমিকদের ওপর চাপিয়ে ছাঁটাই করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

তিনি চা-শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করার পাশাপাশি শ্রমিকদের সব ন্যায্য অধিকার বাস্তবায়ন এবং শ্রমিক কার্ড চালুর জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

মালয়েশিয়ায় শ্রমিক পাঠানোর ক্ষেত্রে রাজনৈতিক সিন্ডিকেটের অভিযোগ তুলে শ্রমিক মজলিসের সভাপতি বলেন, মালয়েশিয়ায় শ্রমিক পাঠানোর নামে যে রাজনৈতিক সিন্ডিকেট করা হয়েছে, তা দ্রুত বন্ধ করতে হবে। এ বিষয়ে সরকারকে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।তিনি বলেন, বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ নিয়েও যেন কোনো সিন্ডিকেট বা অনিয়মের কারণে সাধারণ শ্রমিক ক্ষতিগ্রস্ত না হন, তা নিশ্চিত করতে হবে। শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষায় সরকারের কঠোর নজরদারি প্রয়োজন।

সমাবেশে বক্তারা রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পকারখানা রক্ষা, শ্রমিকদের কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা, ন্যায্য মজুরি বাস্তবায়ন এবং নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানান। একই সঙ্গে শিল্প খাতের বিদ্যমান সমস্যা দ্রুত সমাধানে সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করেন তারা।

সমাবেশ শেষে বায়তুল মোকাররম মসজিদ থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন শ্রমিক মজলিসের নেতাকর্মীরা। মিছিলটি বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে বিজয়নগর পানির ট্যাংকের সামনে গিয়ে শেষ হয়।

আইও/