
|
‘আমাদের জীবন যেন নির্দিষ্ট আয়ুর বৃত্তে বন্দি’
প্রকাশ:
৩১ আগস্ট, ২০২৬, ০৫:৩৭ বিকাল
নিউজ ডেস্ক |
নিজস্ব প্রতিবেদক মানুষের ক্ষণস্থায়ী জীবন, তার আশা-আকাঙ্ক্ষা এবং জীবনের নানা বিপদাপদ নিয়ে নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একটি হাদিস তুলে ধরে এর গভীর শিক্ষা ও প্রজ্ঞার দিকটি ব্যাখ্যা করেছেন আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ও বিশিষ্ট দাঈ শায়খ আহমাদুল্লাহ। সোমবার (৩১ আগস্ট) বিকেলে নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি বর্ণনাটি তুলে ধরে বলেন, একদিন নবীজি (সা.) একটি চতুর্ভুজ আঁকলেন। এরপর চতুর্ভুজের মাঝখানে একটি রেখা টানলেন, যা চতুর্ভুজ অতিক্রম করে উপরের দিকে চলে গেল। মাঝের রেখার দুই পাশ থেকে কয়েকটি ছোট রেখাও আঁকলেন, যার কিছু মাঝের রেখাটিকে স্পর্শ করল। এরপর নবীজি (সা.) ওই রেখাগুলোর মাধ্যমে মানুষের জীবন ও তার বাস্তবতা বোঝান বলে পোস্টে উল্লেখ করেন শায়খ আহমাদুল্লাহ। হাদিসের ব্যাখ্যা তুলে ধরে তিনি বলেন, চতুর্ভুজের মাঝের রেখাটি মানুষ এবং চতুর্ভুজটি মানুষের আয়ু, যা তাকে ঘিরে রেখেছে। চতুর্ভুজের বাইরে চলে যাওয়া রেখাটি মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতীক। আর ছোট ছোট রেখাগুলো জীবনের বিভিন্ন বিপদাপদের প্রতীক। শায়খ আহমাদুল্লাহ লেখেন, কোনো মানুষ একটি বিপদ এড়িয়ে যেতে পারলে অন্য বিপদ তাকে আক্রমণ করে। সেটি এড়িয়ে যেতে পারলেও আরেকটি বিপদ এসে সামনে হাজির হয়। তিনি বলেন, ‘সত্যি তাই, আমরা সুনির্দিষ্ট এক আয়ুর বৃত্তে বন্দি হয়ে আছি। আর এই বৃত্তবন্দি অবস্থায় আমরা এমন সব অলীক স্বপ্ন দেখি, যেখানে পৌঁছাতে হলে আয়ুর রেখাকে অতিক্রম করতে হয়।’ জীবনের অনিশ্চয়তা ও মৃত্যুর বাস্তবতা তুলে ধরে তিনি আরও লেখেন, ‘অলীক সেই স্বপ্নের বন্দরে আমাদের জীবনতরী নোঙর করা হয় না, তার আগেই মৃত্যু এসে আমাদের পথ রোধ করে দাঁড়ায়।’ বোখারিতে বর্ণিত এই হাদিসের শিক্ষার কথা উল্লেখ করে শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, বর্ণনাটি যতবার পড়েন, নবীজি (সা.)-এর প্রজ্ঞা ও পাঠদান পদ্ধতি তাঁকে বিস্মিত করে। তিনি লেখেন, ‘আমাদের এই ক্ষণস্থায়ী জীবন, জীবনের চাওয়া-পাওয়া এবং নিত্য স্পর্শ করা এর বিপদ-আপদ বোঝাতে তিনি কী চমৎকার এক চিত্রকল্পের আশ্রয় নিয়েছেন!’ শায়খ আহমাদুল্লাহর মতে, ছবি এঁকে মানুষের সামনে জীবনের ক্ষণস্থায়িত্ব ও এর অন্তর্নিহিত বাস্তবতা তুলে ধরার এমন দৃষ্টান্ত অত্যন্ত অনন্য। তিনি বলেন, প্রায় দেড় হাজার বছর আগে মরুভূমির রুক্ষ মাটিতে নবীজি (সা.) যাদের সামনে এই চিত্র এঁকেছিলেন, তাঁরা নিশ্চয়ই সেই শিক্ষা ও স্মৃতিকে আজীবন হৃদয়ে ধারণ করেছিলেন। পোস্টের শেষাংশে নবীজি (সা.)-এর শিক্ষকসত্তার প্রশংসা করে শায়খ আহমাদুল্লাহ লেখেন, ‘আমাদের নবীজি (সা.) প্রকৃত অর্থেই সর্বকালের সেরা শিক্ষক ছিলেন। শ্রোতাদের মনস্তত্ত্ব তাঁর মতো করে আর কেউ অনুভব করতে পারত না।’ হাদিস পাঠের অভিজ্ঞতায় এই বর্ণনাকে নবীজি (সা.)-এর অসামান্য প্রজ্ঞার একটি উৎকৃষ্ট উদাহরণ হিসেবেও উল্লেখ করেন তিনি। আইও/ |