২০ বছর পর ফিলিস্তিনে নির্বাচনের ঘোষণা
প্রকাশ: ১০ জুলাই, ২০২৬, ০৩:৩৭ দুপুর
নিউজ ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

দীর্ঘ দুই দশক পর ফিলিস্তিনে সাধারণ (আইনসভা) নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের (পিএ) প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) জারি করা এক প্রেসিডেন্সিয়াল ডিক্রির মাধ্যমে তিনি আগামী ২৮ নভেম্বর নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণ করেন। এ তথ্য জানিয়েছে আল জাজিরা।

ডিক্রি অনুযায়ী, অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকা, অধিকৃত পশ্চিম তীর এবং পূর্ব জেরুজালেম—ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের সব অংশেই একযোগে আইনসভা নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে, এটি হবে ২০০৬ সালের পর ফিলিস্তিনের প্রথম সাধারণ নির্বাচন।

ফিলিস্তিনে সর্বশেষ আইনসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ২০০৬ সালে। ওই নির্বাচনে মাহমুদ আব্বাসের নেতৃত্বাধীন ফাতাহকে পরাজিত করে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে ইসলামপন্থি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাস। নির্বাচনের ফলকে কেন্দ্র করে ফাতাহ ও হামাসের মধ্যে তীব্র রাজনৈতিক বিরোধ সৃষ্টি হয়।

পরবর্তীতে ২০০৭ সালে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের মাধ্যমে হামাস গাজা উপত্যকার নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করে। এরপর থেকে পশ্চিম তীর ফাতাহ-নিয়ন্ত্রিত ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের অধীনে এবং গাজা হামাসের নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হয়ে আসছে।

আল জাজিরার রামাল্লাভিত্তিক সংবাদদাতা নূর ওদেহের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে চলা আন্তর্জাতিক আলোচনা এবং ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের ওপর পশ্চিমা দেশগুলোর চাপের প্রেক্ষাপটেই এই নির্বাচনি ঘোষণা এসেছে। যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বিভিন্ন দেশ ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের শাসনব্যবস্থায় সংস্কার এবং গণতান্ত্রিক বৈধতা পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য দীর্ঘদিন ধরে মাহমুদ আব্বাসের সরকারের ওপর চাপ দিয়ে আসছিল।

তবে বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান যুদ্ধাবস্থা ও গাজার বাস্তবতায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে হামাস ও ফাতাহর মধ্যে সমঝোতা প্রতিষ্ঠা করে সারা ফিলিস্তিনে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন করা বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হবে। এছাড়া পূর্ব জেরুজালেমের ফিলিস্তিনিদের ভোটদানের সুযোগ দেবে কি না, সে বিষয়ে ইসরায়েলের অবস্থানও নির্বাচন বাস্তবায়নের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অনিশ্চয়তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

আইও/