একজন লেখকের চিন্তার বস্তুনিষ্ঠতা ও বুদ্ধিবৃত্তিক সততা
প্রকাশ: ০৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৫:২৭ বিকাল
নিউজ ডেস্ক

|| মুফতী মুঈনুল ইসলাম ||

পৃথিবী খ্যাত বিভিন্ন ভাষার কবি, লেখক, সাহিত্যিক ও বুদ্ধিজীবীদের প্রায় সকলের একটি অনন্য দিক ছিল, যে কারণে তাঁরা এখনো পৃথিবীতে ধর্ম বর্ণ ও দেশ নির্বিশেষে প্রাসঙ্গিক হয়ে আছেন। আর তা হলো, 'চিন্তার বস্তুনিষ্ঠতা ও বুদ্ধিবৃত্তিক সততা।'

আজ থেকে উনচল্লিশ বছর আগে আমার লেখা যখন পত্র-পত্রিকায় ছাপানো শুরু হয়, যতটুকু মনে পড়ে, তখন বর্তমানের তুলনায় গৃহপালিত কবি, সাহিত্যিক,লেখক ও বুদ্ধিজীবীর এতো উৎপাত এবং উপদ্রব ছিলো না। এই শ্রেণীর গৃহপালিতরা অনেকটা মাথা নীচু করে থাকার চেষ্টা করতেন। তাঁরা মনে করতেন, এই গৃহপালনে আবদ্ধতা,  তাঁর বা তাঁদের  সীমাবদ্ধতা ও দুর্বলতা। এজন্য যথাসাধ্য তাঁরা নিজেদেরকে আড়াল করে রাখার চেষ্টা করতেন। দুঃখজনকভাবে আজকে যেটা শক্ত হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে।

 একটি আরবী ছোট গল্প পড়েছিলাম। যার শিরোনাম ছিলো-

القبر يشتم قمرا اخر،

তরজমা : একটি কবর আরেকটি কবরকে গালিগালাজ করে।

গল্পটির সারসংক্ষেপ : এটি রাস্তার পাশে কিছু  দূরত্বে দুটি কবর। প্রথম কবরটির দেয়ালে লেখা ছিলো-

'সামনে যে খবরটি আছে, তিনিসহ তাঁর বাবা দাদা এবং তাঁর চৌদ্দগোষ্ঠী আমাদের বাড়ীতে কাজ করে খেতো। একেবারে সাধারণ ও নীচু পরিবারের লোক ছিলেন তিনি।'

পরের কবরটিতে লেখা ছিলো -

'পিছনের কবরে আপনি যে লেখাটি পড়েছেন, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। বরং তাঁরাই আমাদের বাড়ীতে এমনটি করতেন।'

আজকের সমাজের গৃহপালিত কবি, সাহিত্যিক, সাংবাদিক ও বুদ্ধিজীবীদের লেখাগুলোর বাস্তব চিত্র হলো, উল্লিখিত গল্পটি। দলকানা এই লোকগুলো দলের পক্ষে এমনভাবে লিখেন যে, সত্য মিথ্যা যাচাই করা একেবারে একটি বিশ্বযুদ্ধের মতো ভয়াবহ ও কঠিন।

ভাষা-সাহিত্য, সাংবাদিকতা ও বুদ্ধিবৃত্তিক সংগ্রামের এই ময়দানটিকে কিভাবে কলুষতা মুক্ত করা যায়, আমি-আমরা কিছু মানুষ ভেবে ভেবে আজ ক্লান্ত পরিশ্রান্ত। এমনকি উদভ্রান্তের মতো বিভ্রান্ত। কোনো ওলী-দরবেশ আল্লাহওয়ালা মানুষ যদি আমাদেরকে পথ দেখাতেন, হয়তো আমরা নিস্তার পেতাম, উদ্ধার হওয়ার কোনো পন্থা ও পথ  খুঁজে পেতাম।

আল্লাহর ওয়াস্তে, মেহেরবানী করে এমন কেউ থাকলে জানাবেন। জানালে আমরা অনেক উপকৃত হবো, ইনশাআল্লাহ।

লেখক: প্রিন্সিপাল ও রেক্টর, জামিয়া ইসলামিয়া ঢাকা; বহু গ্রন্থপ্রণেতা

এসএইচ/