সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক থেকে টাকা তুলতে ৭৪ হাজার আবেদন
প্রকাশ: ০৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৯:০০ সকাল
নিউজ ডেস্ক

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিভিন্ন সমস্যায় জর্জরিত পাঁচটি ইসলামী ব্যাংক একীভূত করে গঠিত ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসি’ থেকে আমানত ফেরত নিতে এখন পর্যন্ত ৭৪ হাজার ২২১টি আবেদন জমা পড়েছে। এসব আবেদনে মোট ৩ হাজার ৯২৫ কোটি টাকা উত্তোলনের আবেদন করা হয়েছে।

তবে নতুন ব্যাংক গঠনের পর আমানতকারীদের মধ্যে ব্যাপক হারে টাকা তুলে নেওয়ার যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল, বাস্তবে আবেদন ও দাবিকৃত অর্থের পরিমাণ তার তুলনায় অনেক কম বলে জানিয়েছে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ।

ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবেদুর রহমান সিকদার বলেন, তুলনামূলক কমসংখ্যক আমানতকারীর টাকা উত্তোলনের আবেদন ব্যাংকের প্রতি গ্রাহকদের আস্থার বিষয়টি তুলে ধরেছে। আমানতকারীদের স্বার্থ সুরক্ষায় ব্যাংকের সক্ষমতার ওপর তাদের আস্থাও এতে প্রতিফলিত হয়েছে।

ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, প্রথম দিনে ১৮ হাজার ৪৬টি আবেদনের বিপরীতে ১ হাজার ৩২৯ কোটি টাকা উত্তোলনের আবেদন করা হয়। দ্বিতীয় দিনে ১৯ হাজার ৬১৩টি আবেদনের বিপরীতে আবেদন করা হয় ১ হাজার ১৬ কোটি টাকা।

পরবর্তী সময়ে ২১ হাজার ৮৬টি আবেদনের বিপরীতে ৯২৩ কোটি এবং ১৫ হাজার ৪৭৬টি আবেদনের বিপরীতে ৬৫৭ কোটি টাকা উত্তোলনের আবেদন করা হয়েছে।

অন্যদিকে, যেসব আমানতকারী তাদের অর্থ ব্যাংকে রেখে দেবেন, তারা নিজ নিজ চুক্তিতে নির্ধারিত হারে মুনাফা পাবেন বলে জানিয়েছেন আবেদুর রহমান সিকদার।

তিনি বলেন, ব্যাংকের সার্বিক কার্যক্রম স্বাভাবিক হলে প্রচলিত নিয়ম ও বিদ্যমান বিধিবিধান অনুযায়ী আমানতকারীরা মুনাফাসহ যেকোনো পরিমাণ অর্থ জমা ও উত্তোলন করতে পারবেন।

এর আগে, গত ৩১ আগস্ট বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংক রেজল্যুশন বিভাগ আমানতকারীদের অর্থ উত্তোলনসংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করে।

সমস্যাগ্রস্ত পাঁচটি ইসলামী ব্যাংক একীভূত করে গঠিত সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গত ১ সেপ্টেম্বর থেকে ব্যক্তিগত হিসাবধারীদের মূল আমানত উত্তোলনের আবেদন গ্রহণ শুরু করে। রোববার ছিল আবেদন গ্রহণের শেষ দিন।

ব্যাংক কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, আমানত উত্তোলনের আবেদনের সংখ্যা ও দাবিকৃত অর্থের পরিমাণ তুলনামূলক কম হওয়াকে নবগঠিত ব্যাংকটির প্রতি গ্রাহকদের আস্থার ইতিবাচক ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

আইও/